সর্বোত্তম জিকির: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

বিশাল সওয়াবের ছোট ছোট জিকির, দিনের যেকোনো সময়ের জন্য।

১ একবার

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

অর্থ ও সূত্র

জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “সর্বোত্তম যিকির হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ) আর সর্বোত্তম দু‘আ হলো আলহামদু লিল্লাহ (الْحَمْدُ لِلهِ)।”

সুনানে তিরমিযী, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা ও সুনানে ইবনে মাজাহ মান: হাসান

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন যে, সবচেয়ে উত্তম যিকির হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মা‘বুদ নেই। সবচেয়ে উত্তম দু‘আ হলো ‘আলহামদু লিল্লাহ’। এতে রয়েছে নি‘আমতদাতা হিসেবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলাকেই স্বীকৃতি দেওয়া, যিনি সকল পরিপূর্ণতা ও সৌন্দর্যের গুণে গুণান্বিত হওয়ার অধিকারী।

উপকারিতা

  • হাদীসে তাওহীদের কালিমা দ্বারা আল্লাহর বেশি বেশি যিকির ও তাঁর প্রশংসা দ্বারা অধিক দু‘আ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ

অর্থ ও সূত্র

সামুরা ইবনু জুনদুব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর কাছে অধিকতর প্রিয় বাক্য চারটি: سُبْحَانَ اللَّهِ (আল্লাহ নিঙ্কলুষ পবিত্র), وَالْحَمْدُ لِلَّهِ (যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর) وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (এক আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই) এবং اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সর্বমহান)। এগুলোর যে কোনটি দিয়ে তুমি শুরু কর, তাতে তোমার কোন ক্ষতি নেই।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে আল্লাহর নিকট অতি প্রিয় চারটি বাক্য সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।

সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ اللَّهِ): অর্থাৎ আল্লাহ সমস্ত দোষ-ত্রুটি অসম্পূর্ণতা থেকে নিঙ্কলুষ পবিত্র।

আলহামদুলিল্লাহ (وَالْحَمْدُ لِلَّهِ): সকল প্রশংসা আল্লাহর। এটি আল্লাহর ভালোবাসা ও বড়ত্ব সহকারে তাঁর পূর্ণতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার গুণ।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ): অর্থাৎ এক আল্লাহ ব্যতীত আর কোন সত্য মাবূদ নেই।

এবং আল্লাহু আকবর (اللَّهُ أَكْبَرُ): অর্থাৎ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবকিছুর চেয়ে সম্মানিত, মহান।

এগুলোর যে কোনটি দিয়ে শুরু করলেই এর সাওয়াব অর্জিত হবে, উচ্চারণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরী নয়।

উপকারিতা

  • ইসলামী শারী‘য়াহ সহজ সরল, যেহেতু এ চারটির কালিমার যে কোনটি দিয়ে শুরু করলেই হবে, ধারাবাহিকতা না থাকলে এতে কোন ক্ষতি নেই।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুটি কালেমা জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের পাল্লায় অত্যন্ত ভারী, রাহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ) এর কাছে খুবই প্রিয়। তা হলো: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ (আমি আল্লাহ তা‘আলার জন্য প্রশংসা সহ তাঁর(সকল ত্রুটি থেকে) পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমি ঘোষণা করছি মহান আল্লাহ(সকল দোষ থেকে) পূত-পবিত্র।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কালেমা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, মানুষ খুব সহজেই সর্বাবস্থায় জিহ্বা দ্বারা তা উচ্চারণ করতে পারে, আর মীযানে পাল্লায় এ কালিমা দুটি অত্যন্ত ভারী,আমাদের প্রতিপালক রাহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ) এ কালিমা দুটি খুব পছন্দ করেন।

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ কালেমা দুটি আল্লাহর বড়ত্ব ও পরিপূর্ণতা এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতা‘আলাকে যাবতীয় দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত ঘোষণার গুণ অন্তর্ভুক্ত করে।

উপকারিতা

  • সর্বোত্তম যিকির হলো যাতে আল্লাহকে সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখা এবং তাঁর প্রশংসা জ্ঞাপন একত্রিত হয়।
  • বান্দার প্রতি আল্লাহর অপরিসীম রহমতের বর্ণনা। তিনি সামান্য আমলের প্রতিদান অনেক বেশি দিয়ে থাকেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার এ কথাগুলো (سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ) অর্থাৎ ‘আল্লাহ সব দোষ থেকে পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়’ বলা বেশি প্রিয় সে সব কিছু থেকে, যার উপর সূর্য উদিত হয়।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, এসব মহান কালিমাগুলো দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার যিকির করা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যকার সবকিছু থেকে উত্তম। আর কালিমাগুলো হলো:

(سبحان الله) ”আল্লাহ পবিত্র”: আল্লাহ সকল প্রকারের দোষ-ত্রুটিমুক্ত।

(الحمد لله) “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর”: আল্লাহকে ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলির দ্বারা প্রশংসা করা।

(لا إله إلا الله) “এবং আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই: আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই।

(الله أكبر) “আল্লাহু আকবর”: সব কিছু অপেক্ষা আল্লাহই বড় ও মহান।

উপকারিতা

  • হাদীসে আল্লাহর যিকিরের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এ যিকির সে সব কিছুর চেয়েও উত্তম, যত কিছুর উপর সূর্য উদয় হয়।
  • অধিক পরিমাণে যিকির করতে হাদীসে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা যিকিরে রয়েছে অপরিসীম সাওয়াব ও ফজীলত।
  • দুনিয়ার ধন-সম্পদ অত্যন্ত নগন্য। আর তার জন্য প্রবৃত্তি-কামনাও ক্ষণস্থায়ী।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ ১০০ বার

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার (سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ) ‘সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বলবে তার গুনাহরাশি মাফ করে দেওয়া হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার (سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ) ‘সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ অর্থাৎ ‘আমরা আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি’, বলবে তার গুনাহরাশি মাফ হয়ে যাবে এবং তাকে ক্ষমা করা হবে; যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের সাদা ফেনারাশি পরিমাণ হয়, যা সমুদ্রের ঢেউ ও উত্তাপের কারণে পানির উপরে সৃষ্টি হয় ।

উপকারিতা

  • কেউ দিনে একসাথে বা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একশত বার এ তাসবীহ পাঠ করলেই উক্ত সাওয়াব অর্জিত হবে।
  • তাসবীহ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলাকে অপূর্ণতা থেকে মুক্ত রাখা এবং হামদ হলো ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে তাঁকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা।
  • এ হাদীসে গুনাহ মাফের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সগীরা গুনাহ। অন্যদিকে কবীরা গুনাহ মাফ পেতে হলে তাওবা আবশ্যক।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ

অর্থ ও সূত্র

জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি বলবে, (سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ) তার জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপন করা হবে।”

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যে ব্যক্তি বলে: «سبحان الله» অর্থাৎ আল্লাহকে সকল দোষ ও ত্রুটি থেকে পবিত্র, «العظيم» অর্থাৎ যিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও কাজে মহান , «وبحمده» অর্থাৎ তাঁর পরিপূর্ণ গুণাবলির প্রশংসার সাথে, তার জন্য জান্নাতে প্রতিবার বলার সময় একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।

উপকারিতা

  • আল্লাহ তাআলার যিকির বেশি করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যেমন: তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বলা।
  • জান্নাত প্রশস্ত, এবং এর বৃক্ষরোপণ হলো তাসবিহ ও তাহমিদ, যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নিয়ামত।
  • হাদীসে অন্যান্য গাছের পরিবর্তে খেজুর গাছকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এর অনেক উপকারিতা রয়েছে এবং এর ফল সুস্বাদু। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে মুমিন ও তার ঈমানের উদাহরণ হিসেবে খেজুর গাছের কথা উল্লেখ করেছেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৭ একবার

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

অর্থ ও সূত্র

সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু দু’আ-কালাম শিখিয়ে দিন যা আমি পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে:

«لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ»

অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, তিনি একক, তার কোনই শরীক নেই। আল্লাহ অনেক বড়, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আমি পবিত্রতা ঘোষণা করি সে আল্লাহর যিনি সৃষ্টিজগতের রব, কারো কোন উপায় বা শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া, যিনি প্রতাপান্বিত ও প্রজ্ঞাবান।”

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো দু’আ শুনে) সে বেদুঈনটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো আমার রবের জন্য (তাঁর প্রশংসা), আমার জন্য কী? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে:اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي».

“হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ কর, দয়া কর, হিদায়াত দান কর এবং আমাকে রিযিক দাও)।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

একজন বেদুইন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চাইলেন, তাকে যেন তিনি এমন একটি জিকির শিখিয়ে দেন, যা তিনি বলতে পারেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: বলো- "لا إله إلا الله وحده لا شريك له"

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু" (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই) তিনি তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়ে শুরু করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার মাবূদ নেই। "আল্লাহু আকবার কাবীরা" অর্থাৎ, আল্লাহ সবচেয়ে মহান এবং সবকিছুর চেয়ে বড়। "ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাসীরা" অর্থাৎ, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, তাঁর গুণাবলী, কাজ এবং অগণিত নিয়ামতের জন্য। "সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আলামীন" অর্থাৎ, আল্লাহ সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং মহান। "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আজীযিল হাকীম" অর্থাৎ, এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন শুধুমাত্র আল্লাহর দ্বারা, তার সাহায্য ও তাওফীকের মাধ্যমেই সম্ভব। তারপর সেই ব্যক্তি বললেন: এই কথাগুলো আমার রবের যিকির ও মহিমা বর্ণনার জন্য। তাহলে আমার নিজের জন্য দুআ কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: বলো- "আল্লাহুম্মাগফির লী" অর্থাৎ, আল্লাহ আমার গুনাহগুলো মোচন করুন এবং তা ঢেকে দিন। "ওয়ারহামনী":আমার প্রতি দয়া করো অর্থাৎ, আমাকে ধর্মীয় ও পার্থিব উপকারিতা এবং কল্যাণ পৌঁছানোর মাধ্যমে। "ওয়াহদিনী" অর্থাৎ, আমাকে সর্বোত্তম অবস্থার দিকে এবং সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে হিদায়াত দিন। "ওয়ারযুকনী"আমাকে রিজিক দান করো অর্থাৎ আমাকে হালাল সম্পদ, সুস্বাস্থ্য এবং সব ধরনের ভালো ও সুস্থতা দান করুন।

উপকারিতা

  • লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার,আল হামদু লিল্লাহ ও সুবহানাল্লাহ এর মাধ্যমে আল্লাহর যিকির করার প্রতি উৎসাহ রয়েছে এখানে।
  • দু্আর আগে আল্লাহর যিকির ও প্রশংসা করা উত্তম।
  • প্রত্যেকের উত্তম দুআ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপক কল্যাণের জন্য কুরআন, সুন্নাহে বর্ণিত দুআ করা উচিত। এছাড়াও যা চায়, তা দ্বারা দুআ করতে পারে।
  • বান্দার উচিত দুনিয়া ও আখিরাতে যা তার জন্য উপকারী তা শেখার প্রতি আগ্রহী হওয়া।
  • এতে রয়েছে মাগফিরাত, রহমত ও রিযিক চাওয়ার প্রতি উৎসাহ, কারণ এগুলোই হলো সব ধরনের কল্যাণের সমষ্টি।
  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে উপকারী জিনিস শেখানোর ব্যাপারে আগ্রহ।
  • রহমতের পূর্বে মাগফিরাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেন প্রথমে পরিপূর্ণ ভাবে পাপ মুক্ত হয়ে যায়। যেহেতু মাগফিরাত হলো গুনাহ ঢেকে দেওয়া এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা, আর রহমত হলো সকাল কল্যাণ পৌঁছে দেওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ করা। এটাই হলো মহা সাফল্য।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৮ একবার

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبَّاً، وَبِالْإِسْلَامِ دِيناً، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيّاً

অর্থ ও সূত্র

আবূ সা‘ঈদ খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি বলে: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।”

আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি বলবে, 'আমি আল্লাহকে রব (প্রতিপালক), ইলাহ (উপাস্য), মুরাব্বি (লালনকর্তা), মালিক (মালিক), সাইয়িদ (প্রভু) ও মুসাল্লিহ (সংশোধক) হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হলাম এবং ইসলামকে (এর সমস্ত বিধান, আদেশ ও নিষেধ সহ) দীন (জীবনব্যবস্থা) হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হলাম এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল ও নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হলাম,তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

উপকারিতা

  • এই দোয়াটি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করা এবং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত সাওয়াব বর্ণনা করা।
  • আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার অর্থ হলো, বান্দা তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত (উপাসনা) করবে না।
  • মুহাম্মদ (সঃ) কে নবী ও রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হওয়া মানে হল, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা।
  • ইসলামকে ধর্ম হিসেবে সন্তুষ্ট হওয়া মানে হল, আল্লাহ যে সকল বিধান তাঁর বান্দাদের জন্য নির্বাচিত করেছেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া।
  • অন্যান্য বর্ণনা অনুযায়ী, আযান শোনার পর শাহাদাতাইন পাঠ করার সময় এই দোয়া পড়া মুস্তাহাব।
  • আরেকটি হাদীসে সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৯ একবার

يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

অর্থ ও সূত্র

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইয়া যাল জালালি ওয়াল-ইকরাম’ বাক্যটিকে তোমরা সর্বদা অধিক হারে বলো।”

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

হাদীসটিতে (ألظوا) একটি নির্দেশমূলক বাক্য। অর্থাৎ এ দো‘আটিকে তোমরা বাধ্যতামূলক কর, বেশি বেশি কর। উদ্দেশ্য হচ্ছে, তোমাদের দো‘আয় এ বাক্যটি বেশি বেশি বল এবং তা তোমাদের মুখের বুলিতে পরিণত কর। কারণ, এটি আল্লাহর নামসমূহ থেকে একটি নামকে শামিল করেছে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি ইসমে আজম বা বড় নাম। কারণ, এটি রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যার সমস্ত গুণাগুণকে শামিল করেছে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১০ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ সা‘ঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন বলে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আল্লাহ মহান। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান। সে যখন বলে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। তখন আল্লাহ বলেন, একমাত্র আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমার কোনো শরীক নেই। যখন সে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যাবতীয় রাজত্ব তারই আর তারই সব প্রশংসা। তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, রাজত্ব আমারই আর আমারই সব প্রশংসা। যখন সে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। তখন আল্লাহ বলেন, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আমি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই কারো শক্তি নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেন, কেউ যদি তার রোগশয্যায় এই কথাগুলো বলে এরপর সে মারা যায় তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না।

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ও আবু সা‘ঈদ খুদুরী‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, বান্দা যখন আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকে তখন তিনি তার কথা সত্যায়ন করেন। সে যখন বলে, (الله أكبر لا إله إلا الله) আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। তখন তার রব তার এ কথা সত্যায়ন করে বলেন, (لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا، وَأَنَا أَكْبَرُ) হ্যাঁ, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই আর আমি মহান। সে যখন বলে, (الله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله) আল্লাহ মহান, তিনি ছাড়া, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই। এভাবে তিনি তার কথার সত্যয়ন করেন। যে ব্যক্তি বলবে: (لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, কারো সামর্থ্য নেই, কারো শক্তি নেই আল্লাহ ছাড়া। অতঃপর সে অবশিষ্ট যিকিরসহ মারা যাবে, তবে জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না। অর্থাৎ এ কালেমাগুলো মানুষের জন্য জাহান্নামের আগুন হারামকারী হওয়ার অন্যতম কারণ। অতএব মানুষের উচিৎ এসব যিকির মুখস্ত করা এবং মৃত্যুকালীন সময় বেশি বেশি পরিমাণে উচ্চারণ করা যাতে তার শেষ পরিণাম উত্তম হয়। ইনশাআল্লাহ।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১১ একবার

অর্থ ও সূত্র

স্থায়ী সৎকর্মসমূহ হল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সুবাহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবর, আল-হামদু লিল্লাহ আর লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ

ইবন হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন। - এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। মান: শাওয়াহেদ (সমঅর্থে আরও) হাদীস থাকার কারণে সহীহ

ব্যাখ্যা

এ হাদীসে উল্লিখিত বাক্যগুলো দ্বারা যিকির করার ফযীলতের প্রমাণ রয়েছে। কারণ, এ বাক্যগুলোতে রয়েছে মহান ও সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহর তাসবীহ, পবিত্রতা, মাহাত্ম্যের বিশেষ অর্থ। এছাড়াও রয়েছে আল্লাহর কর্মসমূহের ওপর প্রশংসা। সুতরাং আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া বান্দার কোনো কৌশল, নড়াচড়ার শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া ক্ষতিকে প্রতিহত করার কোনো কৌশল এবং কল্যাণ লাভেরও কোনো ক্ষমতা বান্দার নেই। এ মহান অর্থসহ এ বাক্যগুলোর প্রভাব ও উপকার একজন মু’মিনের জন্য তার মৃত্যুর পরও অবশিষ্ট থাকবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১২ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ মালিক আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। “الحمد لله” ‘আলহামদু লিল্লা ‘ মিযান-দাঁড়িপাল্লা পরিপূর্ণ করে দেয় এবং “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’ কালেমা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেয়। আর সালাত হচ্ছে নূর, সদাকাহ হচ্ছে দলিল এবং সবর হচ্ছে আলো। আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। সকল মানুষই ভোর করে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। অতঃপর সে তাকে মুক্ত করে অথবা তাকে ধ্বংস করে।"

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

এখানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, অযু ও গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করা যায়, আর এটি সালাত আদায়ের একটি শর্ত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “الحمد لله” ‘আলহামুদ লিল্লাহ’ মিযানকে পরিপূর্ণ করে দেয়”, এটি হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার প্রশংসা এবং তাঁকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা, যা কিয়ামাতের দিনে ওযন করা হবে এবং তাতে আমলের পাল্লা (মিযান) পূর্ণ হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা: “سبحان الله والحمد لله” ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ’: এটি হচ্ছে: আল্লাহকে সকল ধরণের অপূর্ণতার গুণ থেকে মুক্ত ঘোষণা করা এবং তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যশীল এমন পূর্ণতার গুণাবলী তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা এবং সেই সাথে তাঁর ভালোবাসা ও সম্মান অন্তরে ধারণ করা, যা আসমান জমিনকে পূর্ণ করে দেয়। “সালাত হচ্ছে নূর”: বান্দার অন্তরের, চেহারার, কবরের এবং তার হাশরের নূর। “সাদাকাহ হচ্ছে বুরহান (দলিল)”: তথা মুমিনের ঈমানের সত্যতার দলিল। আর এটি এমন মুনাফিক থেকে পৃথককারী যে সাদকাহর প্রতিশ্রুত প্রতিদানকে স্বীকার না করায়, তা থেকে (নিজেকে) বিরত রাখে। আর “সবর হচ্ছে আলো”: এটি হচ্ছে নিজেকে উৎকণ্ঠা-অস্থিরতা ও রাগ থেকে সংবরণ করা। এটি সূর্যের ন্যায় এমন আলো যার সাথে উষ্ণতা ও দহন ক্ষমতা রয়েছে; কেননা এটি একটি কঠিন বিষয় এবং এটি নিজের সাথে এবং আকাংখিত বিষয়ের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করার নাম। সুতরাং সবরকারী ব্যক্তি সঠিক পথে আলোকিত, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও স্থায়ীত্ব লাভ করে থাকে। সবর হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্যের উপরে টিকে থাকা, পাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং দুনিয়াতে বিভিন্ন প্রকার বালা মুসিবত ও কষ্টকর বিষয়ে ধৈর্যধারণ করা। “আর আল-কুরআন তোমার পক্ষে দলিল”: এটি অর্জিত হবে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। অথবা “তোমার বিপক্ষে দলিল”: কুরআন অনুযায়ী আমল না করলে অথবা কুরআন তিলাওয়াত পরিত্যাগ করলে। তারপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতিটি মানুষ প্রচেষ্টা রত থাকে, তারা ছড়িয়ে পড়ে, তারা ঘুম থেকে জাগ্রত হয় আর তারপরে তাদের বাড়ি থেকে বিভিন্ন কাজের উদ্দেশ্যে তারা বের হয়ে পড়ে। সুতরাং তাদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা আল্লাহর আনুগত্যের উপরে দৃঢ়পদ থাকে। ফলে তারা নিজেকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে নেয়। অপরপক্ষে অনেকে রয়েছে, যারা এখান থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং পাপের মধ্যে নিপতিত হয়। ফলে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করার মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে।

উপকারিতা

  • পবিত্রতা দুই প্রকার: বাহ্যিক পবিত্রতা, যা অযু ও গোসলের মাধ্যমে অর্জন করা যায় এবং অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা, যা তাওহীদ, ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
  • হাদীসে সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। কেননা সালাত হচ্ছে বান্দার জন্য দুনিয়া এবং আখিরাতের নূর।
  • সাদাকাহ হচ্ছে ঈমানের সত্যতার দলিল।
  • এখানে কুরআন অনুযায়ী আমল করা ও তা সত্য বলে বিশ্বাস করার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে, যাতে কুরআন তোমার বিপক্ষে নয়; বরং পক্ষে দলিল হিসেবে কাজ করে।
  • অন্তরকে যদি তুমি আনুগত্যের (সাওয়াবের) কাজে নিমগ্ন না করতে পার, তবে সে তোমাকে পাপাচারে নিমগ্ন করে দেবে।
  • প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই আমল (কাজ) করতে হয়। হয়ত সে আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেকে বাঁচিয়ে নেবে অথবা পাপের মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে।
  • সবর অবশ্য কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে ও সাওয়াবের আশায় হতে হবে। আর এতে রয়েছে কষ্ট।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১৩ একবার

অর্থ ও সূত্র

ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মিরাজের রাতের সফরে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। তখন তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন এবং তাদের জানিয়ে দিবেন যে জান্নাতের মাটি উত্তম আর এর পানি সুমিষ্ট। তবে তা ফাঁকা ময়দান। এর বৃক্ষ রোপন হলো سُبْحَانَ اللهِ وَالحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার”।

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। মান: হাদিসটি এর শাওয়াহেদ (বিভিন্ন সমার্থক হাদিস) থাকার কারণে হাসান

ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, তিনি ইব্রাহীম খলিল আলাইহিস সালামের সাথে ইসরা ও মি'রাজের রাতে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তিনি তাকে বলেছিলেন, হে মুহাম্মদ, তোমার উম্মতকে আমার সালাম জানাও এবং তাদের জানিয়ে দিন যে জান্নাতের মাটি উত্তম, পানি মিষ্টি এবং কোন লবণাক্ততা নেই। জান্নাতটি প্রশস্ত, সমতল এবং বৃক্ষবিহীন আর তার বৃক্ষরোপণ হল উত্তম-পবিত্র বাক্যসমূহ; তা হলো বাকিয়াতুস সালিহাত: سُبْحَانَ اللهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ [আল্লাহ্‌র পবিত্রতা, আল্লাহর প্রশংসা, আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই এবং আল্লাহ্‌ মহান] যখনই একজন মুসলিম এটা বলে এবং বার বার বলে, তার জন্য জান্নাতে একটি বীজ বপন করা হয়।

উপকারিতা

  • জান্নাতের গাছপালা বৃদ্ধি করার জন্য ধারাবাহিক যিকিরে উৎসাহিত করা।
  • মুসলিম উম্মাহর ফযীলত; যেহেতু ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তাদের প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন।
  • ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে অধিক জিকিরের প্রতি উত্সাহিত করেছেন।
  • আল্লাম তীবী রহ. বলেছেন: জান্নাত হল বৃক্ষহীন সমতল ভূমি। তারপর আল্লাহ তা‘আলা নিজ অনুগ্রহে আমলকারীদের আমল মোতাবেক তাতে গাছ এবং প্রাসাদ তৈরি করেন। প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমল মোতাবেক সাওয়াব রয়েছে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা যখন সেই সাওয়াব অর্জনের জন্য তাকে জান্নাতের আমল করার তাওফিক দান করেন, তখন তাকেই সেই বৃক্ষরোপণকারী আখ্যা দেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১৪ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে সমস্ত লোক কোন দরবারে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তা’আলার যিকর করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরূদও পড়েনি, তারা বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। আল্লাহ তা’আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন”।

এটি আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও নাসাঈ তার সুনানুল কুবরায় বর্ণন করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর যিকিরকে অবহেলা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন। কোন মানুষ কোন সমাবেশে বসেনি, সেখানে আল্লাহর যিকির করেনি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ প্রেরণ করেনি, যা কিয়ামতের দিন তাদের অনুশোচনা, অনুতাপ, ক্ষতি ও ব্যর্থতার কারণ হবে না। তিনি ইচ্ছা করলে তার পূর্ববর্তী পাপ এবং ভবিষ্যতের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য শাস্তি দেবেন এবং ইচ্ছা করলে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় তাকে ক্ষমা করবেন।

উপকারিতা

  • যিকিরের প্রতি উৎসাহিত করা এবং এর ফজিলত।
  • যেসব মজলিসে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা আলোচনা করা হয় তার ফজিলত এবং যেসব মজলিসে এমন কিছু নেই, সেগুলো কিয়ামতের দিন তাদের জন্য অনিষ্টের মজলিস হবে।
  • আল্লাহর যিকিরে অবহেলা করার বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা কেবল মজলিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে অন্যান্য বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন-নওয়াবী বলেন: যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসল এবং সেখানে আল্লাহর যিকির না করে তা ত্যাগ করল, তার জন্য এটি মাকরুহ।
  • কিয়ামতের দিন তাদের যে আফসোস হবে: হয়তো সেটি আল্লাহর আনুগত্যে সময় থেকে উপকৃত না হওয়ার কারণে সাওয়াব ও বিনিময় থেকে বঞ্জিত হওয়ার মাধ্যমে, অথবা আল্লাহর নাফরমানিতে সময় ব্যয় করার শাস্তি ও পাপের ফলে।
  • এই সতর্কীকরণ: যদি এই অবহেলা জায়েজ বিষয়ে হয়, অতএব হারাম মজলিসের কী হবে যেখানে গীবত, পরচর্চা এবং অন্যান্য বিষয় থাকে?!

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

সর্বোত্তম জিকির: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

কাউন্টার কীভাবে কাজ করে?

কোনো জিকিরের নিচের কাউন্টারে ট্যাপ করুন, এটি শূন্য পর্যন্ত উল্টো গুনবে। এটি শুধু এই পাতাতেই আছে এবং কিছুই সংরক্ষণ করা হয় না।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।