ক্ষমা চাওয়ার দোয়া (ইস্তেগফার)

সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার এবং সুন্নাহর অন্যান্য ক্ষমা প্রার্থনার কথা।

১ একবার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

অর্থ ও সূত্র

শাদ্দাদ ইবনু আওস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার হচ্ছে, তুমি বলবে যে:

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা, আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদার ওপর আছি, আমি যা করছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। আমি আমার ওপর আপনার নি‘আমত স্বীকার করছি এবং আমি আপনার সামনে আমার পাপ স্বীকার করছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ, আপনি ব্যতীত কেউ পাপ ক্ষমা করবে না।”

“তিনি বলেন, যে এই কথাগুলোর প্রতি দৃঢ় আস্থা রেখে দিনের কোনো সময় তা বলে, অতঃপর সেদিন সন্ধার আগেই সে মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতবাসী। আর যে তার প্রতি দৃঢ় আস্থা রেখে রাতের কোনো অংশে তা বলে, অতঃপর সকাল হওয়ার আগেই সে মারা যায় তাহলে সে জান্নাতবাসী।”

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, ক্ষমা প্রার্থনার বিভিন্ন শব্দমালা(দোয়া) রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বান্দা এ বাক্যগুলো বলা: “হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা, আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদার ওপর আছি, আমি যা করছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। আমি আমার ওপর আপনার নি‘আমত স্বীকার করছি এবং আমি আপনার সামনে আমার পাপ স্বীকার করছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ, আপনি ব্যতীত কেউ পাপ ক্ষমা করবে না।” অতএব, বান্দা প্রথমে আল্লাহর তাওহীদের স্বীকৃতি দিবে এবং তিনি তার স্রষ্টা এবং তার মাবূদ, যার কোন শরীক নেই। সে মহান আল্লাহর সাথে ঈমান ও আনুগত্যের যে অঙ্গীকার করেছেন, তার উপরে সে সাধ্যমতো দৃঢ়পদ আছে। কারণ বান্দা যতই ইবাদত করুক না কেন, সে আল্লাহর সমস্ত আদেশ পালন করতে পারে না বা তার উপর প্রদত্ত অনুগ্রহের জন্য যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে না। অতএব, বান্দা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তাঁকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। আর বান্দার কৃত পাপ ও অকল্যাণকর কাজ থেকে তিনিই আশ্রয় দাতা। এবং সে স্বেচ্ছায় তার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার করে এবং নিজের গুনাহ ও অবাধ্যতার কথা স্বীকার করে। এরপর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তিনি যেন তার গুনাহ ক্ষমা করেন, তার পাপগুলো ঢেকে দেন এবং তার ক্ষমা, অনুগ্রহ ও রহমত দ্বারা তাকে পাপের পরিণাম থেকে রক্ষা করেন। কারণ, তিনিই একমাত্র গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এটি সকাল ও সন্ধ্যার যিকিরগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম যিকির। যে ব্যক্তি সকালে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের প্রথম ভাগে এ যিকিরটি বিশ্বাসের সাথে এবং অন্তরে এর অর্থের প্রতি খেয়াল রেখে পাঠ করবে এবং এরপর সেদিন মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি রাতে সূর্যাস্ত থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত এ যিকিরটি পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।

উপকারিতা

  • ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনার) বিভিন্ন বাক্য রয়েছে এবং এর একটি অপরটির চেয়ে উত্তম।
  • বান্দার উচিত এই যিকিরটি পাঠে আগ্রহী হওয়া, কারণ এটি হলো সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা ইস্তিগফারের সেরা দোয়া।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي، وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَايَ، وَعَمْدِي وَجَهْلِي وَهَزْلِي، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ المُقَدِّمُ وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ ও সূত্র

আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’আ করতেন: “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি ও পরে করবো এবং যা আমি গোপনে করেছি ও প্রকাশ্যে করেছি। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান”।

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যাপক দোয়ার মধ্যে একটি ছিল, তাঁর এই কথা:

“হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ” এবং আমার পাপ এবং “আমার অজ্ঞতা” এবং আমার অজান্তে যা আমার থেকে সংঘটিত হয়েছে।

“আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি” এবং আমার ত্রুটি ও আমার সীমালঙ্ঘন।

(এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন) হে আল্লাহ আপনি জানেন, অথচ আমি তা ভুলে গেছি।

“হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি ও আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহগুলো ” এবং যা আমার থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং পাপ সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও প্রকাশ পেয়েছে।

(এবং আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ) এবং ঠাট্টাচ্ছলে যা প্রকাশ পেয়েছে এবং এই দুই অবস্থায় যা আমার থেকে সংঘটিত হয়েছে।

(আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে), যেমন যেসব পাপ ও দোষগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি” অতীতে “এবং যা আমি পরে করব” ভবিষ্যতে।

“এবং আমি যা গোপন করেছি” ও লুকিয়েছি “এবং আমি যা প্রকাশ করেছি” ও প্রদর্শন করেছি।

“আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন” আপনি যাকে চান আপনার সন্তুষ্টির তাওফিক দান করে তাকে আপনার রহমতের নিকটবর্তী করেন। আপনি যাকে চান আপনার লাঞ্ছনা দিয়ে তাকে পশ্চাদবর্তী করেন। কাজেই আপনি যাকে পশ্চাতে করবেন তাকে কেউ অগ্রবর্তী করতে পারে না এবং আপনি যেসব বিষয় অগ্রবর্তী করবেন তা কেউ পশ্চাতবর্তী করতে পারে না।

“এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান”, পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও পরিপূর্ণ ইচ্ছার মালিক, যা চান তাই করতে পারেন।

উপকারিতা

  • এই দোয়ার ফজিলত এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে এর প্রতি আগ্রহী হওয়া।
  • অপচয় করা নিষেধ এবং অপচয়কারী শাস্তির মুখোমুখী হবেন।
  • আল্লাহ তা‘আলা মানুষ সম্পর্কে তার নফস থেকে বেশী জানেন। কাজেই তার বিষয়গুলো আল্লাহর নিকট সোপর্দ করা। কারণ সে না জেনে ভুল করতে পারেন।
  • মানুষকে কখনো তার উপহাসের ওপর পাকড়াও করা হবে যেমন তার ইচ্ছাকৃতের ওপর পাকড়াও করা হয়। তাই একজন ব্যক্তিকে তার রসিকতার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
  • ইবনু হাজার আসকালানী বলেন: আমি এর কোন সনদে এই দোয়ার দেখিনি , তবে এর অধিকাংশে শেষে রয়েছে... তিনি রাতের সালাতে এটি বলতেন এবং এটিও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সালাতের শেষে বলতেন। তিনি সালামের আগে নাকি পরে বলতেন সে সম্পর্কে বর্ণনায় মতভেদ আছে? উভয়টি বর্ণিত হয়েছে।
  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ইস্তেগফার করতে ভুল করেন? বলা হয়েছে যে, তিনি এটি নম্রভাবে এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সাথে বলেছেন, বা তিনি পূর্ণতা ছুটে যাওয়া এবং উত্তম ত্যাগ করাকে পাপ গণ্য করেছেন, বা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যা ভুল থেকে হয়েছে, বা নবুওয়তের আগে যা ঘটেছে; এবং বলা হয়েছে: ইস্তেগফার (ক্ষমা চাওয়া) একটি ইবাদত যা অবশ্যই করা উচিত, ক্ষমার জন্য নয়, বরং একটি ইবাদত হিসাবে; এবং বলা হয়েছে: এটি তার উম্মতের জন্য একটি সতর্কবাণী এবং একটি শিক্ষা; যাতে তারা নিরাপদ বোধ না করে এবং ক্ষমা চাওয়া ত্যাগ না করে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ ৩ বার

أَسْتَغْفِرُ الله الذي لا إله إلا هو الحَيَّ القيَّومَ وأتوب إليه

অর্থ ও সূত্র

ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি এ দুআ পড়বে, অর্থাৎ, আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর। এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করছি। সে ব্যক্তির পাপরাশি মার্জনা করা হবে; যদিও সে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে (যাওয়ার পাপ করে) থাকে।”

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

যে ব্যক্তি এ দুআ পড়বে, অর্থাৎ, আমি সেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব, অবিনশ্বর। এবং আমি তাঁর কাছে তওবা করছি। সে ব্যক্তির পাপরাশি মার্জনা করা হবে; যদিও সে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে (যাওয়ার পাপ করে) থাকে। মনে রাখতে হবে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা একটি হাদীসে বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক কবীরাহ গুনাহের একটি। যাতে বলা হয়, “যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা”। আর অর্থটি সঠিক হবে যখন এ দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে লোকটি সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবা করেছে। এমনকি যুদ্ধের থেকে পলায়নের গুনাহ থেকেও। অন্যথায় একজন মানুষ গোনাহের ওপর বাকী থেকে শুধু ক্ষমা চাওয়া দ্বারা কোন লাভবান হবে না, বরং পাপ থেকে তাওবার করে যখন এটি বলবে তখনই উপকৃত করবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মরফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আল্লাহর শপথ! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার [ক্ষমাপ্রার্থনা] ও তাওবা করে থাকি।”

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার পূর্বাপর সকল গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, তিনি শপথ করেন যে, প্রত্যহ তিনি আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার [ক্ষমাপ্রার্থনা] ও তাওবা করে থাকেন।”

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রব থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: “জনৈক বান্দা পাপ করে বলল, হে আমার রব! আমার পাপ মার্জনা করে দাও। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বললেন: আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছে, যিনি পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে ধরেন। এ কথা বলার পর সে আবার পাপ করে এবং বলে, হে আমার রব ! আমার পাপ ক্ষমা করে দাও। তারপর আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার এক বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছে যিনি পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে তাকে ধরবেন। তারপর সে পুনরায় পাপ করে বলে, হে আমার রব! আমার পাপ মাফ করে দাও। এ কথা শুনে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় বলেন, আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছে, যিনি বান্দার পাপ মার্জনা করেন এবং পাপের কারণে পাকড়াও করেন। তারপর আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে বান্দা! এখন যা ইচ্ছা তুমি আমল করো। আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দিয়েছি।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রবের থেকে বর্ণনা করে বলেন, বান্দা যখন পাপ করে, অতপর বলে, হে আমার রব! আমার পাপ মার্জনা করে দাও- তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমার বান্দা পাপ করেছে, অপতর সে জানে যে, তার একজন রব আছেন, যিনি পাপ মোচন করেন, তিনি তার পাপ গোপন রাখেন এবং মার্জনা করেন অথবা পাপের কারণে তাকে শাস্তি দেন। তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। অতপর বান্দা আবার পাপ করে। অতপর সে বলে, হে আমার রব! আমার পাপ ক্ষমা করে দাও। তারপর আল্লাহ তা’আলা বলেন: আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছে যিনি পাপ মার্জনা করেন। অতপর তিনি তার পাপ গোপন রাখেন এবং মার্জনা করেন অথবা পাপের কারণে তাকে শাস্তি দেন। তখন আল্লাহ বলেন: আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তারপর সে পুনরায় পাপ করে বলে: হে আমার রব! আমার পাপ মাফ করে দাও। এ কথা শুনে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় বলেন, আমার বান্দা পাপ করেছে এবং সে জানে যে, তার একজন রব আছে, যিনি বান্দার পাপ মার্জনা করেন। ফলে তিনি তার পাপ গোপন রাখেন এবং মার্জনা করে দেন অথবা পাপের কারণে শাস্তি দেন। এরপর আল্লাহ বলেন: আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তারপর তার এ ধরনের কর্মে আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে বান্দা! তুমি যা ইচ্ছে আমল করো। সে এভাবেই পাপ করতে থাকে, অতপর লজ্জিত হয়ে পাপ ছেড়ে দেয় এবং পুনরায় পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে; কিন্তু নফস তার উপর জয়ী হয়ে যায়, অতপর পুনরায় পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে। সে যখনই এভাবে পাপ করতে থাকবে, আবার তাওবা করবে, আল্লাহ তাকে বারবারই ক্ষমা করে দিবেন। কেননা তাওবা পূর্বের সকল গুনাহ নি:শেষ করে দেয়।

উপকারিতা

  • বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর এত প্রশস্ত রহমত, মানুষ যখনই পাপ করে এবং পাপের পরে তাওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে আল্লাহ তখনই তার তাওবা গ্রহণ করেন।
  • আল্লাহর প্রতি ঈমানদার বান্দা তার রবের ক্ষমা প্রত্যাশী এবং তাঁর শাস্তির ভয় করে। ফলে অপরাধ হলেই দ্রুত তার রবের কাছে তাওবা করে এবং গুনাহের উপর বলবৎ থাকে না।
  • প্রকৃত তাওবার শর্তসমূহ: গুনাহ পুরাপুরি ত্যাগ করা, অপরাধ করে লজ্জিত হওয়া, পুনরায় গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় করা। আর তাওবা যদি বান্দার ধন-সম্পদ অথবা মান-সম্মান অথবা জীবন ইত্যাদির সাথে সম্পৃক্ত যুলুম কেন্দ্রিক হয়ে থাকে তবে অতিরিক্ত আরেকটি শর্ত যুক্ত হবে। আর তা হলো: হকদারের থেকে ক্ষমা চেয়ে ‍মুক্তি লাভ অথবা তার হক ফেরত দেওয়া।
  • আল্লাহ সম্পর্কে বান্দার জ্ঞানের গুরুত্ব এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যা বান্দাকে দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলেম বানায়। বান্দা যখনই ভুল করে, তখনই তাওবা করে। ফলে সে নিরাশ হয় না এবং সীমালঙ্ঘনও করে না।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

অর্থ ও সূত্র

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ “বারকতময় আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আস এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাযির হব।

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। মান: হাসান

ব্যাখ্যা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, মহান আল্লাহ হাদীসে কুদসীতে বলেছেন: হে আদম সন্তান, যতক্ষণ তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার রহমতের আশা করবে এবং নিরাশ হবে না; আমি পরোয়া করা ছাড়াই তোমার পাপকে ঢেকে দিব এবং মুছে দিব, যদিও এই পাপ ও অবাধ্যতা বড় গুনাহ হয়। হে আদম সন্তান: তোমার পাপ যদি এত বেশি হয় যে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানকে এমনভাবে পূর্ণ করে নেয় যে তার দিগন্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং তার পার্শ্বকে ছুঁয়ে যায়, তাপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর; আমি তোমার সবগুনাহ মুছে দিব ও তোমাকে ক্ষমা করে দিব, তার আধিক্যের পরোয়া করব না।

হে আদম সন্তান: তুমি যদি মৃত্যুর পর আমার কাছে পৃথিবীর সমান পাপ ও অবাধ্যতা নিয়ে আস আর তুমি যদি আমার সাথে শরীক না করা অবস্থায় মারা গিয়ে থাক, তাহলে আমি এই পাপ এবং অবাধ্যতাকে পৃথিবীর সমান ক্ষমা নিয়ে মোকাবিলা করব; কারণ আমি সুপ্রশস্ত ক্ষমাশীল এবং আমি শিরক ব্যতীত সকল গুনাহ মাফ করি।

উপকারিতা

  • আল্লাহ তা‘আলার করুণা, ক্ষমা এবং তার অনুগ্রহের বিশালতা।
  • তাওহীদের ফযীলত এবং আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদের ধারকদের ক্ষমা করেন।
  • শিরকের ভয়াবহতা এবং আল্লাহ মুশরিকদের ক্ষমা করবেন না।
  • ইবনু রজব বলেন: এই হাদীসে তিনটি কারণ রয়েছে যার মাধ্যমে পাপ ক্ষমা করা হয়: প্রথমটি: আশা সহকারে প্রার্থনা করা। দ্বিতীয়টি: ক্ষমা চাওয়া এবং তাওবা করা। তৃতীয়টি: তাওহীদের অবস্থায় মৃত্যু।
  • এই হাদীসকে যা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাকে হাদীসে কুদসী বা ইলাহী বলা হয়। এই হাদীসের শব্দ ও অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তবে তাতে কুরআনের বৈশিষ্ট্য নেই, যার কারণে কুরআন সবকিছু থেকে আলাদা, যেমন তার তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত আঞ্জাম দেওয়া হয় এবং তার জন্য পবিত্রতা হাসিল করতে হয় এবং তার দ্বারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং এটি অলৌকিক ইত্যাদি।
  • পাপ তিন প্রকার: প্রথমটি: আল্লাহর সাথে শিরক করা; এটি আল্লাহ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {إنه من يشرك بالله فقد حرم الله عليه الجنة} {নিশ্চয়ই, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন} দ্বিতীয়টি: বান্দার নিজের নফসের ওপর তার এবং তার রবের মধ্যে সংঘটিত পাপ ও সীমালঙ্ঘন। আল্লাহ যদি চান তা ক্ষমা করেন এবং তা এড়িয়ে যান। তৃতীয়টি: এমন পাপ যা থেকে আল্লাহ কিছুই ছাড় দেন না। এটা বান্দাদের একে অপরের প্রতি জুলুম , তাই প্রতিশোধ গ্রহণ করা আবশ্যক।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

ইস্তেগফারের দোয়া: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

কাউন্টার কীভাবে কাজ করে?

কোনো জিকিরের নিচের কাউন্টারে ট্যাপ করুন, এটি শূন্য পর্যন্ত উল্টো গুনবে। এটি শুধু এই পাতাতেই আছে এবং কিছুই সংরক্ষণ করা হয় না।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।