দোয়া কখন কবুল হয়? সময় ও কারণ

যেসব সময় ও অবস্থায় দোয়া কবুলের সবচেয়ে বেশি আশা করা যায়।

১ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দা সিজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। সুতরাং (সিজদায়) তোমরা অধিক দু‘আ করো।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, বান্দা সিজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। কেননা মুসল্লী তার সর্বাধিক সম্মানিত অঙ্গগুলো সিজদাবস্থায় জমিনে রেখে মহান আল্লাহর কাছে নিজের বিনয়, হীনতা ও আনুগত্য প্রকাশ করে।

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা অবস্থায় অধিক দু‘আ করতে আদেশ করেছেন। ফলে দু‘আ ও আমল উভয়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে বিনয় ও নম্রতা একত্রিত হয়।

উপকারিতা

  • আনুগত্য বান্দাহকে মহান আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী করে।
  • সিজদায় বেশি বেশি দু‘আ করা মুস্তাহাব। কেননা সিজদা দু‘আ কবুলের অন্যতম স্থান।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ উমামাহ্ বলেন, আমর ইবনু আবাসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি বলতে শুনেছেন: “আল্লাহ তা’আলা শেষ রাতে তার বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। অতএব যারা এ সময় আল্লাহর যিকর করে (নামায পড়ে ও দু’আ করে), তুমি পারলে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও”।

এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেন: মহাপবিত্র রব রাতের শেষ তৃতীয়াংশে বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। হে মুমিন, এই সময়ে যারা সালাত আদায় করেন, ইবাদত আঞ্জাম দেন, তাওবা করেন এবং জিকির করেন, যদি আপনি তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে তাওফিকপ্রাপ্ত এবং সক্ষম হন, তাহলে এটি এমন একটি বিষয় যা আপনার অর্জন করা এবং তাতে চেষ্টা করা জরুরি।

উপকারিতা

  • এখানে মুসলিমদেরকে রাতের শেষভাগে যিকির করতে উদ্বুদ্ধ করা।
  • জিকির, দোয়া ও সালাতের জন্য সময়গুলোর ভেতর তারতম্য রয়েছে।
  • মিরাক বলেছেন: তাঁর বাণী: " أقرب ما يكون الرب من العبد " (রব বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন) এবং তাঁর বাণী: "أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد" (সেজদারত অবস্থায় বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়) এর মাঝে পার্থক্য হলো: এখানে সেই সময়টি বোঝানো হয়েছে যখন রব তার বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন, সেটি হলো মধ্যরাত। আর সেখানে বান্দার সেই অবস্থাটি বোঝানো হয়েছে যখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, সেটি হল সেজদারত অবস্থা।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

অর্থ ও সূত্র

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না”।

এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান ও ইকামাতের মধ্যে দোয়ার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এই দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না এবং এটি কবুল হওয়ার বেশী উপযোগী । তাই এতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন।

উপকারিতা

  • এ সময় দোয়া করার ফযীলত।
  • যদি দোয়াকারী দোয়ার আদবে সজ্জিত হয় এবং তার স্থান ও পুণ্যময় সময়কে লক্ষ্য রাখেন আর আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকেন এবং নিজের নফসকে সন্দেহ ও সংশয় থেকে রক্ষা করেন এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখেন: তাহলে সে উত্তর পাওয়ার বেশী যোগ্য ইনশাল্লাহ।
  • মুনাবী দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ, দোয়ার শর্ত,রোকন ও আদবসমূহ একত্র হওয়ার পর, যদি এর কোন একটি মিস হয়, তবে সে নিজেকে ব্যতীত অন্য কাউকে দোষ দিবে না।
  • দোয়া কবুল হওয়া: হয় তার দোয়া তার জন্য দ্রুত কবুল করা হবে, নয়তো তার থেকে অনুরূপ অমঙ্গল দূর করা হবে, অথবা তা তার জন্য পরকালে সংরক্ষণ করা হবে। এটা আল্লাহর হিকমত ও রহমত অনুসারে হয়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

অর্থ ও সূত্র

সাহাল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ সূত্রে বর্ণিত, দু’সময়ের দু‘আ প্রত্যাখ্যাত হয় না অথবা খুব কমই প্রত্যাখ্যাত হয়। আযানের সময়ের দো‘আ। যুদ্ধের সময়ের দো‘আ, যখন একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে।

এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

এ হাদীসে আল্লাহর পথে জিহাদের ফযীলত বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা যুদ্ধের ময়দানে অবস্থিত মুজাহিদের দো‘আ কবুল করেন। এতে আযানেরও ফযীলত বর্ণিত হয়েছে; কেননা আল্লাহ তা‘আলা আযানের সময় হতে শুরু করে ইকামত পর্যন্ত মুসলিমের দো‘আ কবুল করেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা -রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফু হিসেবে বর্ণিত, “তিন জনের দো‘আ গৃহীত হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই: (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দো‘আ, (২) মুসাফিরের দো‘আ এবং (৩) ছেলের জন্যে মাতা-পিতার বদ-দো‘আ।”

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: হাসান

ব্যাখ্যা

তিন শ্রেণির তিনটি দো‘আ অবশ্যই আল্লাহ কবুল করবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই: অত্যাচারিত ব্যক্তির দো‘আ, যদিও সে কাফির হয়, আর সে অত্যাচারের শিকার হয়ে আল্লাহর কাছে বদ-দো‘আ করে, আল্লাহ অবশ্যই তার দো‘আ কবুল করবেন। মুসাফিরের দো‘আ যখন সে সফর অবস্থায় দো‘আ করে। জন্মদাতার দো’আ: হোক সে পিতা কিংবা মাতা। তারা তার পক্ষে দো‘আ করুক বা বিপক্ষে দো‘আ করুক।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

অর্থ ও সূত্র

উম্মু দারদা ও আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে থাকে "আমীন এবং তোমার জন্যও অবিকল তাই"।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, একজন মুসলিমের দোআ তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে কবুল করা হয়। কারণ এটি আন্তরিকতার দিক থেকে আরও স্পষ্ট এবং প্রার্থনাকারীর মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন এবং যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে, তখন তার কাছে নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন: আমিন এবং তুমি যেমন প্রার্থনা করেছ তেমনি তোমার জন্যও হোক।

উপকারিতা

  • মুমিনদের একে অপরের প্রতি সদয় হতে উৎসাহিত করা, এমনকি দোআর মাধ্যমেও।
  • অনুপস্থিতিতে দোআ করা পড়া ঈমান ও ভ্রাতৃত্বের আন্তরিকতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
  • অনুপস্থিতিতে দোআ করার শর্তারোপ; কারণ এতে আন্তরিকতা এবং হৃদয়ের উপস্থিতির আরও বেশি প্রকাশ ঘটে।
  • দোআ কবুল হওয়ার একটি কারণ হলো, একজন মুসলিম তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করবে।
  • আন-নওয়াবী বলেন: মুসলিম ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করার মধ্যে ফয়ীলত রয়েছে। যদি কেউ মুসলিমদের একটি দলের জন্য দুআ করে, তাহলে এই ফযীলত অর্জিত হবে। আবার যদি কেউ সকল মুসলিমদের জন্য দুআ করে, তাহলে স্পষ্টত এই মর্যাদা অর্জিত হবে। প্রাথমিক যুগের কিছু মুসলিম যখন নিজেদের জন্য দুআ করতে চাইতেন, তখন তাদের মুসলিম ভাইয়ের জন্যও একই দুআ করতেন। কারণ এটি কবুল করা হয়, আর সেও একই দোআ লাভ করে।
  • ফেরেশতার কিছু কাজের বয়ান এবং তাদের মধ্যে এমনও আছেন যাকে আল্লাহ এই কাজ করার জন্য নিযুক্ত করেছেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৭ একবার

অর্থ ও সূত্র

নু‘মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “দু’আই হল ইবাদত।” এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} [غافر: 60]». “তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকেই ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। যারা অহংকারে আমার ইবাদত বিমুখ তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” [সূরা গাফির, আয়াত: ৬০]

এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, দু‘আই হলো ইবাদত। সুতরাং জরুরী হলো সকল ইবাদতই আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হওয়া। হোক তা সাহায্য ও সহযোগিতা চাওয়া মূলক ইবাদত, যেমন আল্লাহর কাছে উপকারী কিছু চাওয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অকল্যাণ থেকে পানাহ চাওয়া। অথবা হোক তা ইবাদতমূলক দুআ করা, আর তা হলো, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কথা ও কাজ, অন্তরের ইবাদত বা শারীরিক ইবাদত বা আর্থিক ইবাদত ইত্যাদি যা কিছু আল্লাহ ভালোবাসেন ও যেকাজে তিনি সন্তুষ্ট হন সেগুলো পালন করা।

এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে দলিল পেশ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ বলেন: “আর তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দিবো। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”

উপকারিতা

  • দু‘আ হলো ইবাদতের মূল। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে দু‘আ করা জায়েয নেই।
  • দু‘আ প্রকৃত ইবাদত-বন্দেগী, রবের অমুখাপেক্ষীতা, তাঁর কুদরত ও বান্দার আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষীতার স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করে।
  • অহংকার বশত: আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর কাছে দু‘আ বর্জন করার ব্যাপারে রয়েছে কঠোর শাস্তি। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আল্লাহর নিকট দুআ থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৮ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আর চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো বস্তু নেই।”

এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: হাসান

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তা‘আলার নিকট দু‘আর চেয়ে সর্বোত্তম কোনো ইবাদত নেই। কেননা দু‘আতে রয়েছে আল্লাহর অমুখাপেক্ষীতার স্বীকৃতি এবং বান্দার অক্ষমতা ও তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষীতার স্বীকারোক্তি।

উপকারিতা

  • এ হাদীসে দু‘আর ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু‘আ করে, সে আল্লাহকে বড় মনে করে ও সম্মান দেয় এবং সে স্বীকৃতি দেয় যে, তিনি সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা অভাবমুক্ত, ধনী; কেননা ফকিরের কাছে কেউ চায় না। তিনি সর্বশ্রোতা; বধিরের কাছে চাওয়া হয় না। তিনি দানশীল; কেউ কৃপণের কাছে সাহায্য চায় না। তিনি দয়ালু; কেননা কঠোর হৃদয়ের অধিকারীর কাছে চাওয়া হয় না। তিনি সক্ষম; কেননা অক্ষম ব্যক্তির কাছে দু‘আ করা হয় না। তিনি অতি নিকটবর্তী; দূরবর্তী কেউ শুনতে পায় না, ইত্যাদি মহান ও সুন্দর গুণাবলী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার জন্য সাব্যস্ত করে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৯ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তা’আলা তার প্রেরিত রাসূলদের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরকেও সেই একই হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেন, يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার কর এবং ভাল কাজ কর। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত।" (আল মু’মিনূন, আয়াত:৫১)

তিনি আরো বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনা আমি তোমাদের যে সব পবিত্র জিনিস রিযিক হিসেবে দিয়েছি তা খাও”— (আল বাকারাহ, আয়াত:১৭২)। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধুলি ধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বলে, “হে আমার প্রতিপালক! “হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির ডাকে কী করে সাড়া দেয়া হবে?”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে আল্লাহ পবিত্র, মুক্ত, সমস্ত ত্রুটি এবং দোষের ঊর্ধ্বে এবং পরিপূর্ণতার গুণে বিশেষিত, তিনি পবিত্র আমল, কথা ও বিশ্বাস ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না; আর তা হল একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য খালিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা মোতাবেক আমল। এই আমল ছাড়া আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব নয়। মুমিনের জন্য পবিত্র আমল হাসিল হওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হল তার পবিত্র খাদ্য এবং তা যেন হালাল হয়। আর এইভাবে তার আমল বিশুদ্ধ হবে। এই কারণে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদেরকে যে পবিত্র খাবার খাওয়া ও নেক আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন মুমিনদেরকেও তার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} “হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার কর এবং সৎকর্ম কর, নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আমি তা জানি”। এবং তিনি বললেনঃ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} “হে ঈমানদারগণ, আমরা তোমাদেরকে যে উত্তম জিনিস দিয়েছি তা থেকে খাও”।

তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম জিনিস খাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন যা আমলকে নষ্ট করে এবং তা কবূল হওয়া থেকে বিরত রাখে, কবূল করার যত উপায় গ্রহণ করা হোক না কেনো। তার মধ্যে হল:

প্রথমত: আনুগত্যের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ দীর্ঘায়িত করা যেমন হজ, জিহাদ, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা ইত্যাদি।

দ্বিতীয়তঃ চিরুনি না করার কারণে এলোমেলো চুল হয়ে যাওয়া এবং ময়লার (মাটির) কারণে তার রং ও তার কাপড়ের রংপরিবর্তিত হওয়া, অধিকন্তু সে অসহায়।

তৃতীয়ত: তিনি দোয়া করতে দু'হাত আকাশে উত্তোলন করেন।

চতুর্থত: সে আল্লাহর নামসমূহের উসিলায় প্রার্থনা করে এবং এই বলে অনুনয় করে: হে রব, হে রব!

দোয়া কবূলের এই কারণগুলো থাকা সত্ত্বেও তার দোয়া শোনা হয়নি; কারণ তার খাবার, পানীয়, পোশাক সবই হারাম এবং হারাম খাবার খাওয়ানো হয়েছে তাকে, তাই এই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কারো ডাকে সাড়া দেওয়া অসম্ভব। আর কিভাবেই তার দোয়া কবূল করা হবে?

উপকারিতা

  • আল্লাহ তা‘আলার সত্ত্বা, তাঁর গুণাবলী, তাঁর কর্ম এবং তাঁর বিধানাবলীতে তাঁর পরিপূর্ণতা।
  • একমাত্র আল্লাহর জন্য আমলকে নিবেদিত করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার আদেশ।
  • যা আমলের প্রতি উৎসাহিত করে তা ব্যবহার করা, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদেরকে তা করতে আদেশ করেছেন যা তিনি রসূলদের আদেশ করেছেন”; যদি এটা মুমিনগণ জানে যে এটি রাসূলদের আদেশগুলির মধ্যে একটি, তখন সে অনুকরণ করতে শক্তিশালী ও উৎসাহিত হবে।
  • দোয়া কবুল না হওয়ার অন্যতম বাধা হল হারাম খাবার খাওয়া।
  • দোয়া কবুলের পাঁচটি উপায়: একটি হল: দোয়া কবুলের সবচেয়ে বড় উপায় বিনয়, ভঙ্গতা সম্পন্ন ইবাদতে দীর্ঘ সফর করা। দ্বিতীয়: উপায়হীনতার অবস্থা। তৃতীয় হল: আসমানের প্রতি দু’হাত প্রসারিত করা। চতুর্থ: আল্লাহর রুবুবিয়্যাহকে বারবার উল্লেখ করে আঁকুতি করা, যার ফলে দোয়া কবুল হওয়ার বেশী আশা করা হয় তার ভেতর এটি অন্যমত। পঞ্চম: খাবার ও পানীয় পবিত্র হওয়া।
  • পবিত্র হালাল খাবার খাওয়া নেক আমল করার জন্য একটি সহায়ক উপায়।
  • কাজী রহ. বলেন: ভাল (তাইয়্যেব) হল মন্দের (খবীসের) বিপরীত। যখন তিনি এর দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার বিশেষণ বর্ণনা করেছেন, তখন তার অর্থ হল তিনি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং আপত থেকে পবিত্র। যখন এর দ্বারা সাধারণভাবে বান্দাকে বিশেষিত করা হবে তখন তার অর্থ হল বান্দা খারাপ আচরণ ও খারাপ আমল থেকে মুক্ত এবং তার বিপরীতে ভালো জিনিসে বিশেষিত। যখন এর দ্বারা সম্পদকে বিশেষিত করা হবে তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল ভালো সম্পদের মধ্য থেকে হালাল সম্পদ।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

দোয়া কবুলের সময়: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।