দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য ব্যাপক অর্থবোধক দোয়া

ছোট ছোট দোয়া, যাতে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণ চাওয়া হয়।

১ একবার

اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

অর্থ ও সূত্র

আনাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বেশি পড়া দো‘আ হলো,«اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ» “হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়শই সংক্ষিপ্ত ও বিস্তৃতভাব সম্পন্ন ব্যাপক দুআ পড়তেন, যার মধ্যে নিম্নলিখিত দুআ অন্যতম: "اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة، وفي الآخرة حسنة، وقنا عذاب النار"

“হে আল্লাহ! হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” এই দু‘আর মধ্যে শামিল করে দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ, যেমন আনন্দ দায়ক প্রশস্ত ও হালাল রিযিক, নেককার স্ত্রী, চক্ষু শীতলকারী ও অন্তর প্রশান্তকারী সন্তান, উপকারী জ্ঞান, নেক আমল ইত্যাদি প্রিয় ও বৈধ চাহিদাসমূহ । আর আখিরাতের কল্যাণকর জিনিসগুলোর মধ্যে রয়েছে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি, কিয়ামতের দিনে (মহান রবের সামনে) দণ্ডায়মান ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, চিরস্থায়ী সুখ (জান্নাত) এবং পরম করুণাময় রবের নৈকট্য অর্জন করে সফলতা লাভ ।

উপকারিতা

  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে ব্যাপক অর্থবোধক দু‘আসমূহ থেকে দু‘আ করা মুস্তাহাব।
  • মুসলিম তার দু‘আয় ইহকাল এবং পরকালের কল্যাণ একত্রিত করাই হলো পূর্ণাঙ্গ দু‘আ।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ الْخَيْرِ كُلِّهِ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الشَّرِّ كُلِّهِ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَاذَ بِهِ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ، وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ قَضَيْتَهُ لِي خَيْرًا

অর্থ ও সূত্র

’আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই দু’আ শিখিয়েছেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার জানা-অজানা এখন ও পরে ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার জানা-অজানা এখন ও পরে ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও আপনার নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার নিকট যেসব কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন আমিও আপনার নিকট সেসব কল্যাণ প্রার্থনা করি। আর আপনার বান্দা ও নবী যে সব ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন আমিও আপনার নিকট সে সব ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত এবং যেসব কথা ও কাজ জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় তা প্রার্থনা করি। আর আমি আপনার নিকট জাহান্নাম থেকে এবং যে সব কথা ও কাজ জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেয় তা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার কাছে চাই যে, আপনি আমার জন্য যেসব ফায়সালা করেন তার প্রত্যেকটিকে কল্যাণকর করুন।”

এটি ইবনে মাজাহ ও আহমদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সার্বজনীন দোয়া শিখিয়েছেন আর তা হল চারটি বিষয়ে চাওয়া :

প্রথম: প্রত্যেক কল্যাণের জন্য একটি ব্যাপক দোয়া: (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট যাবতীয় কল্যাণ প্রার্থনা করি) কল্যাণের সব কিছু(এখনকার মধ্যে যা)(এবং দূরবর্তী যা কিছুর) (তার মধ্যে আমি যা জেনেছি) যা আমাকে জানিয়েছেন (এবং যা আমার অজানা) যা আপনার পবিত্র ইলমে রয়েছে। এতে সর্ব ও সূক্ষ্মজ্ঞানী আল্লাহর প্রতি সকল বিষয় সোপর্দ করা হয়েছে। আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া‘তালা মুসলিমের জন্য সবচেয়ে ভালো ও সর্বোত্তম বিষয়কে গ্রহণ করবেন, (আর আমি আপনার কাছে আমার জানা-অজানা ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয়), নিরাপত্তা ও সুরক্ষা (প্রার্থনা করি)।

দ্বিতীয় দোয়া: মুসলিমকে দোয়ার ভেতর সীমালঙ্ঘন থেকে সুরক্ষা প্রদান করা (হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও আপনার নবী) সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আপনার নিকট যেসব কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন আমিও আপনার নিকট সেসব কল্যাণ) চাই ও (প্রার্থনা করি)। (আর আপনার বান্দা ও নবী) সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যে সব ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন আমিও আপনার নিকট সে সব ক্ষতি থেকে আশ্রয়), সুরক্ষা ও নিরাপত্তা (প্রার্থনা করি)। এটি একটি দোয়া এবং আল্লাহর নিকট আবেদন যে, নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য আল্লাহর নিকট যা প্রার্থনা ও তলব করেছেন তার প্রকারসমূহ গণনা করা ছাড়া প্রার্থনাকারীর তা তলব ও যাঞ্চা করা।

তৃতীয় দোয়া: জান্নাতে প্রবেশ করা ও জাহান্নাম থেকে দূরে থাকার প্রার্থনা করা। এটি প্রত্যেক মুসলিমের চাওয়া এবং তার আমলের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য: (হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত) ও জান্নাত লাভে ধন্য হওয়া এবং আপনাকে সন্তুষ্টকারী (যেসব কথা ও কাজ জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেয় তা প্রার্থনা করি)। আর আমি আপনার নিকট জাহান্নাম থেকে), যেহেতু আপনার অনুগ্রহ ছাড়া খারাপ আমল থেকে কোনো নিরাপত্তা নেই এবং আপনাকে অসন্তুষ্টকারী (যে সব কথা ও কাজ জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেয় তা থেকে আশ্রয় চাই)।

চতুর্থ দোয়া: আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হওয়ার দোয়া: (এবং আমি আপনার কাছে চাই যে, আপনি আমার জন্য যেসব ফায়সালা করেন তার প্রত্যেকটিকে কল্যাণকর করুন)। আল্লাহ যা ফয়সালা করুন তা আমার জন্য কল্যাণকর করে দিন। এটি আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার দোয়া।

উপকারিতা

  • একজন ব্যক্তির কর্তব্য তার পরিবারকে দুনিয়া ও আখিরাতের উপকারী বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়া; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে শিক্ষা দিয়েছেন।
  • একজন মুসলিমের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে প্রাপ্ত দোয়াগুলি মুখস্ত করা জরুরি। কেননা এগুলো সার্বজনিন ও ব্যাপক দোয়া।
  • আলেমগণ এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: কল্যাণ প্রার্থনা ও অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাওয়ার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে ব্যাপক দোয়া। এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করা অল্প কথায় বেশী অর্থ প্রকাশকারী বাক্যের একটি।
  • আল্লাহর রহমতের পর জান্নাতে প্রবেশ করার উপায় হলো: ভালো কথা ও কর্ম।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَتِي -أَو: عَوْرَاتِي- وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي

অর্থ ও সূত্র

ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এ দু’আগুলো পড়া ছেড়ে দিতেন না: ’’হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং আমার দ্বীন , দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন এবং ভীতিপ্রদ বিষয়সমূহ থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযাত করুন আমার সম্মুখ থেকে, আমার পিছন দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপর দিক থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় মাটিতে ধসে যাওয়া থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি”।

এটি আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় এ দু’আগুলো পড়া বাদ দিতেন না:

(হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট) রোগ, মুসিবত, পার্থিব কষ্ট, প্রবৃত্তি ও দ্বীনি ফিতনা থেকে (দুনিয়া ও আখিরাতে) বর্তমান ও ভবিষ্যতে (নিরাপত্তা চাই)।

(হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট) পাপগুলোর মোচন, তার থেকে পরিত্রাণ এবং (ক্ষমা চাই) এবং শিরক, বিদআত ও গুনাহ থেকে (আমার দ্বীন) এবং মুসিবত, কষ্ট ও অনিষ্ট থেকে আমার (দুনিয়া) এবং আমার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয় (পরিবার) এবং আমার সম্পদ ও আমল-এ নিরাপত্তা ও অনিষ্ট থেকে নিষ্কৃতি চাই।

(হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন ) এবং যেসব অপরাধ, অন্যায় ও বিচ্যুতি রয়েছে ও আমার পাপগুলো মোচন করুন।(ভীতিপ্রদ বিষয়সমূহ থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন) এবং আমার ভয় ও ঘাবড়ে দেওয়ার মত বিষয়।

(হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন) এবং আমার থেকে কষ্ট ও মুসিবতগুলো প্রতিহত করুন, (আমার সম্মুখ থেকে, আমার পিছন দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপর দিক থেকে।) সকল দিক থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছেন; কারণ সকল মুসিবত ও দুর্ঘটনা এসব দিক থেকে মানুষের নিকট ধাবিত হয় এবং তাকে স্পর্শ করে।

(হে আল্লাহ! আমি আশ্ৰয় চাই আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় ধসে যাওয়া থেকে), হটাৎ ধৃত হওয়া এবং অপ্রস্তুত ধ্বংস হওয়া (আমার নিচ থেকে ) অর্থাৎ ভূমিধসে ধ্বংস হয়ে যাব।

উপকারিতা

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে এই দোয়ার কালেমা গুলো নিয়মিত সংরক্ষণ করা।
  • মানুষ আল্লাহর নিকট দ্বীনের বিষয়ে নিরাপত্তা প্রার্থনায় যেমন আদিষ্ট তেমন দুনিয়ার বিষয়ে তা প্রার্থনায় আদিষ্ট।
  • তিবী বলেন, এটি ছয়টি দিককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ বিপদগুলো তার মধ্যে রয়েছে এবং তিনি নিচের দিক থেকে বিপদের গভীরতার কারণে তাতে বেশী গুরুত্বারোপ করেছেন।
  • সকাল বেলা যিকির পাঠ করার উত্তম সময়: দিনের শুরুতে ফজর শুরু হওয়ার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত; যদি তার পর বলেন অর্থাৎ: সকালে প্রথম প্রহরের পর চাশতের সময় তাহলে যথেষ্ট হবে, যদি জোহরের পর বলেন তবু যথেষ্ট হবে, আর যদি সূর্যাস্তের পর বলেন, সেটাও যিকিরের সময়।
  • দলীল যে যিকিরটি রাতের নির্দিষ্ট সময় আদায় করাকে প্রমাণ করে, যেমন সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করা তা সূর্যাস্তের পরে রাতে পড়তে হবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

অর্থ ও সূত্র

আল-আব্বাস ইবনু আবদিল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন কিছু আমাকে শিখিয়ে দিন, যা আল্লাহ তা’আলার নিকট আমি প্রার্থনা করতে পারি। তিনি বললেনঃ “আল্লাহ তা’আলার নিকট আপনি শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন”। কিছু দিন যাওয়ার পর আবার গিয়ে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন কিছু আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা করতে পারি। তিনি আমাকে বললেনঃ “হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসূলের চাচা! আল্লাহ তা’আলার নিকট আপনি পৃথিবী ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করুন”।

এটি তিরিমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ লি-গাইরিহী

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিতে বললেন যা তিনি আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করবেন। তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দ্বীন, দুনিয়া এবং আখেরাতে ত্রুটি ও মুসিবত থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে শিখালেন। আব্বাস বলেন, কিছু দিন পর আমি তার কাছে ফিরে এসে তাকে আবারও আমাকে একটি দোয়া শেখাতে বলি যা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব। তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুহাব্বত করে বললেন: হে আব্বাস, হে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা, দুনিয়া ও আখেরাতে সমস্ত কল্যাণ ও উপকার হাসিল এবং সকল অনিষ্ট দূর করার জন্য আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা তলব করুন।

উপকারিতা

  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্বাসকে দ্বিতীয়বার যখন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল একই উত্তর পুনরাবৃত্তি করা ইঙ্গিত দেয় যে একজন বান্দা তার রবের কাছে যা চায় তার ভেতর সর্বোত্তম জিনিস হল সুস্থতা-নিরাপত্তা।
  • নিরাপত্তার ফজিলত এবং এতে রয়েছে ইহকাল ও পরকালের যাবর্তীয় কল্যাণ।
  • সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের অধিক ইলম ও কল্যাণের প্রতি আগ্রহী।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

اللهم إني أسألك بأني أشهد أنك أنت الله لا إله إلا أنت، الأحد الصمد، الذي لم يلد، ولم يولد، ولم يكن له كفوًا أحد

অর্থ ও সূত্র

বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এ দু‘আ করতে শুনলেন, হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে এ উসিলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনিই আল্লাহ, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আপনি এক ও মুখাপেক্ষীহীন, যিনি কাউকে জন্ম দেন নি, যিনি কারো থেকেও জন্ম নেন নি, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ সেই সত্তার কসম! এ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এমন ইসমে আযমের মাধ্যমে দু‘আ করছে যার উসিলা দিয়ে দু‘আ করা হলে আল্লাহ তা‘আলা কবুল করেন এবং যার উসিলা দিয়ে প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন।”

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ এ দু‘আটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈনকে করতে শুনছেন। সে এ দু‘আটি করেছেন এবং আল্লাহর ইসমে আযমের মাধ্যমে উসিলা দিয়েছেন যা আল্লাহর তাওহীদকে এভাবে শামিল করেছে যে, তিনি এক, একক, মুখাপেক্ষীহীন, মানুষ তাঁর কাছে তাদের প্রয়োজন মিটাতে প্রার্থনা করে, তিনি কাউকে জন্ম দেন নি; কেননা তার কোন উপমা ও সাদৃশ নেই। তিনি সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী, মুক্ত। তিনি কারো থেকেও জন্ম নেন নি, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। সুতরাং তাঁর জাত, বা সিফাত বা কর্মে কেউ তাঁর সমকক্ষ নেই।

এ মহান অর্থবোধক দু‘আটি তাওহীদের মূলতত্ত্ব ও তাওহীদের সবকিছু এগুলো নিয়েই আবর্তিত। যে কারণে এটি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতময় দু‘আ। কোন বান্দা আল্লাহর কাছে এমন দু‘আর (ইসমে আযমের) মাধ্যমে দু‘আ করলে আল্লাহ কবুল করেন এবং সে যা প্রার্থনা করে তাকে তা দান করেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

ব্যাপক অর্থবোধক দোয়া: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।