নামাজের পরের জিকির (প্রতি নামাজের পর)

ফরজ নামাজে সালাম ফেরানোর পর যে জিকির করা হয়।

১ একবার

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ (٣)، اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

অর্থ ও সূত্র

সাওবান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফিরানোর পর তিনবার (ইস্তিগফার) ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তারপর এ দু’আ পড়তেন: اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনিই সালাম। আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি। আপনি বরকতময়, হে মহামহিম ও মহা সম্মানিত। বর্ণনাকারী ওয়ালিদ রহ. বলেন, আমি আওযা‘ঈ রহ.কে জিজ্ঞেস করলাম: ইসতিগফার কীভাবে করব? তিনি বললেন: তুমি এভাবে বলবে: أَسْتَغْفِرُ اللهَ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফেরানোর পর ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ তিনবার বলতেন।

তারপর তিনি তাঁর রবের মর্যাদা বর্ণনা করতেন এ বলে:

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

“হে আল্লাহ! আপনিই সালাম-শান্তি। আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি। আপনি বারাকাতময়, মহামহিম ও মহা সম্মানিত।” অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর গুণে পরিপূর্ণ সালিম, সকল প্রকারের ত্রুটি থেকে তিনি মুক্ত। তিনি একমাত্র আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া‘আলার কাছেই দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রকারের অকল্যাণ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করবে। তিনি সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা উভয় জাহানেই তাঁর কল্যাণের প্রাচুর্যতা দান করেন। তিনিই মহানত্ব, বড়ত্ব ও ইহসানের অধিকারী।

উপকারিতা

  • সালাতের পরে ইসতিগফার করা মুস্তাহাব এবং তা নিয়মিতভাবে করা।
  • ইবাদতে ভুল-ত্রুটির পূর্ণতা এবং আল্লাহর আনুগত্যে কমতির ক্ষতিপূরণের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুস্তাহাব।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ ও সূত্র

মুগীরাহ বিন শু’বাহ -এর লেখক ওয়ার্রাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরাহ বিন শু’বাহ আমাকে দিয়ে মু’আবিয়াহ -কে একখানা পত্র লিখালেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের পর বলতেন: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ» ’’আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন মাবূদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। সম্মান ওয়ালার সম্মান কোন উপকারে আসে না তোমার থেকেই সম্মান।’’

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর বলতেন: " لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ" ’’’’আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোন মাবূদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসা তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। হে আল্লাহ্! আপনি যা প্রদান করতে চান তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। সম্মান ওয়ালার সম্মান কোন উপকারে আসে না তোমার থেকেই সম্মান।’’ ।’’

অর্থাৎ আমি তাওহীদের কালিমা لا إله إلا الله স্বীকার করছি ও মেনে নিচ্ছি। সত্যিকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যে সাব্যস্ত করছি এবং তিনি ছাড়া সবার থেকে তা নাকচ করছি। কাজেই আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো মাবূদ নেই এবং স্বীকার করছি যে, পরিপূর্ণ ও প্রকৃত রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্যেই খাস। আসামন ও জমিনবাসীর সকল প্রশংসার হকদার একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। কারণ, তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি যা দেওয়া বা না দেওয়া নির্ধারণ করেন তা প্রতিরোধকারী কেউ নেই। তার নিকট কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কাজে আসবে না, তাকে উপকৃত করবে কেবল নেক আমল।

উপকারিতা

  • সালাতের পর এই যিকির পাঠ করা মুস্তাহাব। কারণ, তাতে তাওহীদ ও প্রশংসার বাক্য রয়েছে।
  • সুন্নাত পালন ও তা প্রচার করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، ‌وَلَا ‌نَعْبُدُ ‌إِلَّا إِيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

অর্থ ও সূত্র

আবূ যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: ইবনু যুবায়র রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেন: («لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، ‌وَلَا ‌نَعْبُدُ ‌إِلَّا إِيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ») অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। তিনি একক ও তাঁর কোন শরীক নেই। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রিবর্তন হওয়ার কোন শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না; তাঁরই যত নেয়ামত, তাঁরই অনুগ্রহ ও তাঁরই উত্তম যত প্রশংসা, আল্লাহ

ছাড়া আর সত্য কোন মাবূদ নেই, তাঁরই জন্য খালেস দীন যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।

আর তিনি (ইবনুয যুবায়র) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের সালামের পর এ সব মহান যিকিরসমূহের দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করতেন। এ যিকিরের অর্থ হলো:

(لا إله إلا الله) অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই।

(وحده لا شريك له) “তিনি একক, তাঁর কোনই শরীক নেই” অর্থাৎ তাঁর উলুহিয়্যাত-ইবাদত সমূহ, রুরুবিয়্যাত - কর্মসমূহ এবং আসমা ওয়াস-সিফাত-নাম ও সিফতসমূহের মধ্যে কেউ অংশীদার নেই।

(له الملك) “তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক” অর্থাৎ সকল প্রকারের পরিপূর্ণ ব্যাপক মালিকানা একমাত্র তাঁরই, তাঁরই রয়েছে আসমান, জমিন ও এ দুভয়ের মধ্যকার সব কিছুর একচ্ছত্র মালিকানা।

(وله الحمد) “সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য।” অর্থাৎ তিনি সর্বময় ব্যাপক পরিপূর্ণতার গুণে গুণান্বিত। তিনি স্বচ্ছল ও অসচ্ছল সর্বাবস্থায় ভালোবাসা ও সম্মান সহ পূর্ণমাত্রায় প্রশংসিত।

(وهو على كل شيء قدير) “তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।” তাঁর ক্ষমতা সকল দিক থেকে পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ; কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না, কোন কিছুই তাঁকে কিছু থেকে বাধা দিতে পারে না।

(لا حول ولا قوة إلا بالله) “আল্লাহ ছাড়া কোন পরিবর্তনের সামর্থ ও কোন শক্তি নেই।” অর্থাৎ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনকারী, গুনাহ থেকে আনুগত্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার তিনি ব্যতীত আর কেউ নেই। তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল ও ভরসা।

(لا إله إلا الله، ولا نعبد إلا إياه) “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। তাঁকে ছাড়া আর কারোই ইবাদাত করি না।এতে রয়েছে” একমাত্র তাঁরই ইবাদতের মর্মে সুদৃঢ়তা ও যাবতিয় শিরকের প্রত্যাখ্যান। কেননা নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নেই।

(له النعمة وله الفضل) “সকল নি‘আমত ও অনুগ্রহ তাঁরই” তিনিই নি‘আমতরাজি সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোর মালিক একমাত্র তিনিই। তিনেই তাঁর বান্দাহদের যাকে ইচ্ছে তাকে সেসব নি‘আমত দ্বারা অনুগ্রহ এবং মর্যাদা প্রদান করেন।

(وله الثناء الحسن) “যাবতীয় উত্তম প্রশংসা তাঁরই” তাঁর সত্বায়, সিফাত, কর্ম ও নি‘আমতসমূহে এবং সর্বাবস্থায়।

(لا إله إلا الله، مخلصين له الدين) “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই। আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদত করি”। অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্যে আমরা তাওহীদবাদী (একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি), কোন লৌকিতা ও সুনামের উদ্দেশ্যে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করি না।

(ولو كره الكافرون) “যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।” আল্লাহর তাওহীদ ও তাঁর ইবাদতের উপর সুদৃঢ় থাকি; যদিও তা কাফিরগণ অপছন্দ করে।

উপকারিতা

  • প্রত্যেক ফরয সালাতের পর এ যিকিরগুলো নিয়মিত পাঠ করা মুস্তাহাব।
  • মুসলিম তার দীন নিয়ে আত্মসম্মান বোধ করে এবং দীনের নিদর্শনসমূহ তুলে ধরে; যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
  • হাদীসে (دُبر الصلاة) “প্রত্যেক সালাতের পরে” শব্দটি যখন বর্ণিত হবে, তখন যদি হাদীসে যিকির বুঝাই, তবে মূল হলো তা সালাম ফিরানোর পর হবে। আর দু‘আ বুঝালে তা সালাম ফিরানোর পূর্বে সালাতের মধ্যেই হবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

سُبْحَانَ اللَّهِ (٣٣)، الْحَمْدُ لِلَّهِ (٣٣)، اللَّهُ أَكْبَرُ (٣٣)، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ ও সূত্র

আবু হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক [ফরয] সালাত বাদ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং একশত পূর্ণ করতে لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শায়ইন ক্বাদীর’) পড়বে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন , যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পরে বলবে:

‘সুবাহানাল্লাহ’ ৩৩ বার। এটি হচ্ছে আল্লাহকে যাবতীয় কমতি থেকে পবিত্রতা ঘোষণা করা।

‘আল-হামদুলিল্লাহ’ ৩৩ বার, এটি হচ্ছে আল্লাহকে মুহাব্বাত এবং সম্মান করে তাঁর পূর্ণতার গুণাবলীর মাধ্যমে প্রশংসা করা।

‘আল্লাহু আকবার’ ৩৩ বার, এটি হচ্ছে, এ কথার ঘোষণা যে, আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু থেকে বড় এবং সম্মানিত।

সংখ্যা (১০০) পূরণের জন্যে বলা: (لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) এর অর্থ “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, আর আল্লাহই সমস্ত রাজত্বের নিরংকুশ মালিক। তিনিই সম্মান ও মুহাব্বাত সমেত যাবতীয় প্রশংসা ও গুণগানের একমাত্র হকদার, এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান, কোন কিছু তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।

যে কেউ এমনটি বলবে, তার পাপগুলি মুছে ফেলা হবে এবং ক্ষমা করা হবে, যদিও তা উত্তাল তরঙ্গে সমুদ্রের উপরে উঠে আসা সাদা ফেনার মত অধিক হয়ে থাকে।

উপকারিতা

  • উক্ত যিকরগুলো ফরয সালাতের পরে আদায় করা মুস্তাহাব।
  • এ যিকরগুলো গোনাহ মাফের কারণ।
  • আল্লাহ তা‘আলার রহমত, মাগফিরাত এবং অনুগ্রহ অনেক বড়।
  • এ যিকরগুলো গোনাহ মাফের কারণ, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে: সগীরা গুনাহসমূহ ক্ষমা হওয়া আর কবীরা গুনাহ তাওবা ব্যতীত ক্ষমা হবে না।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

অর্থ ও সূত্র

কা‘ব ইবন ‘উজরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কতক জিকির রয়েছে প্রতিটি ফরয সালাতের পর, যে ব্যক্তি এগুলো পাঠ করবে সে বঞ্চিত হবে না। তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আল হামদু লিল্লাহ এবং চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার বলা।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু যিকির সম্পর্কে জানিয়েছেন, যা বললে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা অনুশোচনাগ্রস্ত হবে না; বরং এই বাক্যগুলোর জন্য সে সওয়াব পাবে। এই যিকিরগুলো একের পর এক বলা হয় এবং ফরয সালাতের পরে বলা হয়। সেগুলো হলো:

তেত্রিশ বার "সুবহানাল্লাহ", অর্থাৎ আল্লাহকে সব ধরনের অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র ঘোষণা করা।

তেত্রিশ বার "আলহামদুলিল্লাহ", অর্থাৎ আল্লাহর পরিপূর্ণ প্রশংসা করা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও মহব্বত প্রকাশ করা।

চৌত্রিশ বার "আল্লাহু আকবার", অর্থাৎ আল্লাহ সবচেয়ে মহান, সবকিছুর চেয়ে বড় এবং মর্যাদাবান।

উপকারিতা

  • তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) এর ফযীলত। এগুলো হলো স্থায়ী সৎকর্ম, যা আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

অর্থ ও সূত্র

আবূ উমামাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ফরয সালাতের পরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে কেবল মৃত্যু ছাড়া কোন কিছুই বাধা দেবে না।”

এটি নাসায়ী সুনানুল কুবরা-তে বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি ফরয সালাত শেষ হওয়ার পরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে কোন কিছুই বাধা দেবে না কেবল মৃত্যু ছাড়া; এ আয়াতটি সূরা বাকারাতে রয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَلا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

“আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর জন্যই আসমানসমূহে যা রয়েছে তা এবং জমিনে যা আছে তা। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দুটোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ, মহান।” [আল-বাকারাহ : ২৫৫]।

উপকারিতা

  • এ আয়াতের ফযীলত অপরিসীম; কেননা এতে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ সিফাতসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
  • প্রতিটি ফরয সালাতের পরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা মুস্তাহাব।
  • নেক আমল জান্নাতে প্রবেশ করার একটি কারণ।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৭ একবার

اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

অর্থ ও সূত্র

মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, “হে মু’আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি”, তিনি বললেন, “হে মু’আয! আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক সালাতের পর এ দু’আটি কখনো পরিহার করবে নাঃ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ “আল্লাহুম্মা আঈন্নী ’আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ’ইবাদাতিকা” (অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার জিকির- স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ’ইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন)”।

এটি আবূ দাউদ, নাসাঈ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাত ধরলেন এবং বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালবাসি এবং আমি তোমাকে উপদেশ দিই হে মুআয, তুমি প্রতিটি সালাতের শেষে বলা ছাড়বে না: (اللهم أَعِنّي على ذكرك) (হে আল্লাহ, আমাকে আপনার জিকির করতে সাহায্য করুন)যা এমন প্রতিটি কথা ও কাজে যা আমাকে ইবাদতের নিকটবর্তী করবে। (وشُكْرِك) (আপনার শোকর আদায়ের জন্য সাহায্য করুন) নিয়ামত অর্জন এবং শাস্তি প্রতিহত করার ফল (কৃতজ্ঞতা) স্বরূপ। (وحُسْن عبادتك) (এবং সাহায্য করুন আপনার উত্তমরূপে ইবাদত করার জন্য) আল্লাহর জন্য ইখলাসের সাথে এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করার মাধ্যমে।

উপকারিতা

  • একজন ব্যক্তির আল্লাহর ক্ষেত্রে তার ভালবাসা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার বৈধতা।
  • প্রত্যেক ফরজ ও নফল সালাতের পর এই দুআ করা মুস্তাহাব।
  • এই কয়েকটি শব্দের মাধ্যমে প্রার্থনায় ইহকাল ও পরকালের চাহিদাসমূহ রয়েছে।
  • আল্লাহর ক্ষেত্রে ভালবাসার উপকারিতা হল সত্যের ক্ষেত্রের একে অপরকে উপদেশ দেওয়া, একে অপরকে নসিহত করা এবং নেকি ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করা।
  • ত্বীবী বলেন: আল্লাহর জিকির হল বক্ষ উন্মুক্ত হওয়ার সূচনা এবং তাঁর শোকর হল নিয়ামত হাসিল করার উপায় আর উত্তমরূপে ইবাদতের উদ্দেশ্য হল, যা তাকে আল্লাহ তা‘আলা থেকে ব্যস্ত করে তা থেকে বিরত থাকা।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

নামাজের পরের জিকির: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।