আজানের পরের দোয়া

আজান চলাকালে কী বলতে হয়, এবং আজান শেষ হওয়ার পরের দোয়া।

১ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়ায্‌যিন যা বলে তোমরাও অনুরূপ বল।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে মুয়াযযিনের আযান শুনে তার জবাব দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। আর তা হলো মুয়াযযিন যা বলবেন, আমরাও হুবহু তা-ই বলবো। সুতরাং তিনি যখন আল্লাহু আকবর বলবেন, আমরাও তারপরে আল্লাহু আকবর বলবো।তিনি যখন‘আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ বলবেন, আমরাও তার বলার পরে অনুরূপ বাক্যই বলবো। তবে ‘হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ’ এবং হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ’ এর ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে: মুয়াযযিন যখন তা বলবেন,উভয়টির জবাবে তখন বলা হবে: (لا حول ولا قوة إلا بالله) ‘লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’।

উপকারিতা

  • প্রথম মুয়াযযিনের আযান শেষ হলে দ্বিতীয় মুয়াযযিনের আযানের জবাব দিবে; যদি একাধিক মুয়াযযিনের আযান শোনা যায় ,যেহেতু হাদীসটি ব্যাপক।
  • পেশাব পায়খানা রত না থাকলে সর্বাবস্থায় মুয়াযযিনের আযানের জবাব দিবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

অর্থ ও সূত্র

‘উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুওয়াযযিন যখন ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’ বলে, তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তখন তার জবাবে বলেঃ ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’। যখন মুওয়াযযিন বলে ‘আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ এর জবাবে সেও বলেঃ ‘আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্লাহ’ এর জবাবে সে বলেঃ ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্লাহ’। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ ‘হাইয়্যা আলাস সলাহ’ এর জবাবে সে বলেঃ ‘লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ ‘হাইয়্যা ’আলাল ফালাহ’ এর জবাবে সে বলেঃ ‘লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লাহ’। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’ এর জবাবে সে বলেঃ ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ এর জবাবে সে বলেঃ ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে জান্নাতে যাবে”।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

আযান হলো মানুষদেরকে সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করার ঘোষণা প্রদান করা; আর আযানের বাক্যসমিষ্ট হলো ঈমানের আকিদাকে অন্তর্ভুক্তকারী বাক্যসমষ্টি।

এই হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান শ্রবণ করার সময় করণীয় সম্বন্ধে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর তা হলো মুওয়াযযিন যা বলবেন শ্রবণকারী তাই বলবেন। কাজেই মুওয়াযযিন যখন বলবেন ‘আল্লাহু আকবার’ শ্রবণকারী তখন বলবেন, ‘আল্লাহু আকবার’, এভাবে বাকিটা। তবে মুওয়াযযিনের হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ ও হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ বলার সময় ব্যতিরেকে, তখন শ্রবণকারী ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবেন”।

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর অন্তর থেকে ইখলাসের সাথে উক্ত বাক্যগুলো মুওয়াযযিনের সাথে বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আযানের শব্দাবলীর অর্থ: ‘আল্লাহু আকবার’: অর্থাৎ আল্লাহু সুবহানাহু প্রত্যেক জিনিস থেকে বড়, মহান ও মহিমান্বিত।

‘আশ-হাদু আল-লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’: অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো মাবূদ নেই।

‘আশ-হাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ’: অর্থাৎ আমি আমার অন্তর ও জিহ্বা দ্বারা স্বীকার করছি ও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সম্মানিত আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব।

‘হাইয়্যা ‘আলাস সালাহ’: অর্থাৎ তোমরা সালাতে আসো। আর শ্রোতার কথা: ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ এর অর্থ হলো: আল্লাহ তা‘আলার তাওফিক ছাড়া আনুগত্য করার বাধা থেকে মুক্ত হওয়া এবং আনুগত্য করা ও কোনো কিছু করার কোনো ক্ষমতা নেই।

‘হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ’: অর্থাৎ সফলতার উপকরণের দিকে আসো; আর তা হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া ও জান্নাত লাভ করে ধন্য হওয়া।

উপকারিতা

  • মুওয়াযযিন যেরূপ বাক্য বলেন, সেরূপ বাক্য বলে তাঁর উত্তর দেওয়ার ফজিলত, তবে দুই ‘হাই‘আলা..’ এর জায়গায় ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا

অর্থ ও সূত্র

সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যাক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনে বলবে:

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আমি সন্তুষ্ট আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসেবে পেয়ে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে।”

তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আযান শোনার সময় বলে: "أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له"

"আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু"

অর্থাৎ, আমি সাক্ষ্য দেয় ও স্বীকার করি এবং ঘোষণা করি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার মাবূদ নেই এবং তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি ব্যাতিত অন্য সব উপাস্য মিথ্যা। "وأن محمدًا عبده ورسوله"

"ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু"

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অর্থাৎ তিনি এমন এক বান্দা যার ইবাদত করা যায় না এবং এমন রাসূল যিনি মিথ্যা বলেন না। "رضيت بالله ربًّا" "রাদিতু বিল্লাহি রাব্বান"

অর্থাৎ, আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি, তাঁর রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত, নাম ও গুণাবলীর প্রতি আমি সন্তুষ্ট। "وبمحمد رسولًا" "ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান"

অর্থাৎ, আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি। তিনি যা নিয়ে এসেছেন এবং আমাদের কাছে যা পৌঁছিয়েছেন তার সবকিছুর প্রতি আমি সন্তুষ্ট। "وبالإسلام" "ওয়া বিল ইসলামি" অর্থাৎ, আমি ইসলামের সব আদেশ ও নিষেধের প্রতি সন্তুষ্ট। "دينًا" "দীনান" অর্থাৎ, বিশ্বাস ও আনুগত্যের সাথে। তাহলে তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে। অর্থাৎ ছোট গুনাহ।

উপকারিতা

  • আযান শোনার সময় এই দোয়াটি পড়া গুনাহ মোচনের একটি উপায়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ

অর্থ ও সূত্র

জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আযান শুনে এই দু‘আ বলবে, اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ (হে আল্লাহ এই পূর্ণাঙ্গ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই রব! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তুমি জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান ও মর্যাদা দান করো এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছো)। তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ অনিবার্য হয়ে যাবে।”

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার্তা দিচ্ছেন যে, মুয়াযযিনের আযান শোনার পর যে বলবে:

(اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ) এটি হল আযানের শব্দাবলি যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত ও সালাতের দিকে আহ্বান করা হয়। (التَّامَّةِ) পরিপূর্ণ, তাওহীদ ও রিসালাতের দাওয়াত (وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ) স্থায়ী সালাত যা শীঘ্রই পতিষ্ঠা করা হবে। আর (آتِ) প্রদান করুন, (مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ) মুহাম্মাদকে জান্নাতের সুউচ্চ স্থান যা তাকে ছাড়া কারো জন্যই উপযুক্ত হবে না। (وَالفَضِيلَةَ) সকল মাখলুকের উপর অতিরিক্ত ফজিলত, وَابْعَثْهُ) তাকে দান করুন, (مَقَامًا مَحْمُودًا) প্রসংশিত স্থান যেখানে দণ্ডায়মান ব্যক্তিকে প্রশংসা করা হয়। আর তা হল কিয়ামতের দিন বড় সুপারিশ, (الَّذِي وَعَدْتَهُ) যার ওয়াদা আপনি তাকে দিয়েছেন আপনারই বাণী: {عسى أن يبعثك ربك مقامًا محمودًا} এর মাধ্যমে যে, তার হকদার হবেন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

যে এই দোয়াগুলো বলবে সে কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতের হকদার হবে এবং তার জন্য তা ওয়াজিব হয়ে যাবে।

উপকারিতা

  • মুয়াজ্জিনের পিছনে আযানের জপ শেষ করার পর এই দোয়া পাঠ করার বিধান আর যে আযান শোনেনি সে তা বলবে না।
  • রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফজিলত, কারণ তাকে উসিলা, ফজিলত, প্রশংসণীয় স্থান এবং মাখলুকের মাঝে ফয়সালায় সর্বশ্রেষ্ঠ সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে।
  • রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সুপারিশ সাব্যস্ত, কারণ তিনি বলেছেন: “কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ হালাল হয়ে যাবে”।
  • কবিরা গুনাহকারী উম্মমগণকে জাহান্নামে প্রবেশ না করানো অথবা যারা তাতে প্রবেশ করেছে তাদেরকে সেখান থেকে বের করতে অথবা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাতে অথবা যারা জান্নাতে প্রবেশ করেছে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ হবে।
  • আত-তিবী বলেন, আযানের শুরু থেকে "محمدًا رسول الله" পর্যন্ত الدعوة التامة (পরিপূর্ণ আহ্বান)। “হায়্যা-আলাস-সালাহ ও হায়্যা আলাল-ফালাহ” হল الصلاة القائمة যেমন তিনি বলেছেন: তারা সালাত কায়েম করে, আবার এটিও সম্ভব যে, সালাত উদ্দেশ্য হল দোয়া এবং কায়েমাহ উদ্দেশ্য হল স্থায়ী, এ হিসাবে الصلاة القائمة উদ্দেশ্য হল الدعوة التامة এর বিবরণ পেশ করা, আবার সালাত দ্বারা সে সময় অনুষ্ঠিত সালাত উদ্দেশ্য হতে পারে, বস্তুত এটিই বেশী স্পষ্ট।
  • আল-মাহলাব বলেন, হাদীসে সালাতের সময়গুলোতে দোয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এটি কবুলের সম্ভাবনাময় হালত।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবদুল্লাহ বিন ’আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ “তোমরা যখন মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার ওপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্যে আল্লাহর কাছে ওসীলাহ প্রার্থনা কর। কেননা, ওসীলাহ জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওসীলাহ প্রার্থনা করবে তার জন্যে (আমার) শাফাআত অর্জন হয়ে যাবে”।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

যে ব্যক্তি মুয়াযযিনকে সালাতের আযান দিতে শুনবে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মুয়াযযিনের পরে উত্তর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সে মুয়াযযিনের কথার মতই বলবে। তবে দু’টি হায়আলাহ.. ব্যতিরেকে, কারণ তার পরে لا حول ولا قوة إلا بالله [লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ] বলবে। তারপর আযান শেষ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত (দরূদ) পেশ করবে। কেননা, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর একবার সালাত পেশ করবে আল্লাহ তা’আলা তার কারণে তার উপর দশবার রহমত বর্ষন করেন। বান্দার ওপর আল্লাহর সালাত পেশ করার (অন্য) অর্থ হলো: আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য ফেরেশ্তাদের সামনে প্রশংসা করা।

অতঃপর তিনি আল্লাহর নিকট তাঁর নিজের জন্যে অসীলা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর তা হলো জান্নাতে মর্যাদাপূর্ণ একটি বিশেষ স্থান,আর তা হলো সবচেয়ে উঁচু মকাম। আল্লাহর সকল বান্দা থেকে কেবল একজন বান্দার জন্যে সে স্থান অর্জন ও উপযুক্ত হবে। আর সেই একক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া কেউ হবেন না। কারণ, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলূক।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর জন্যে অসীলাহর দোয়া করবে তার সুপারিশ তাঁর জন্যে অর্জন হয়ে যাবে।

উপকারিতা

  • মুয়াযযিনের জাওয়াবের প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ।
  • মুয়াযযিনকে জাওয়াব দানের পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করার ফজিলত।
  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করার পর তাঁর জন্যে অসীলাহ প্রার্থনা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ।
  • অসীলাহর অর্থ ও মহান মর্যাদার বর্ণনা রয়েছে এখানে। আর তা একজন বান্দা ছাড়া কারো জন্যে উপযুক্ত হবে না।
  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার বর্ণনা যে, তিনি একাই সেই উঁচু স্থানের জন্যে নির্বাচিত হয়েছেন।
  • যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে অসীলাহ প্রার্থনা করবে, তার জন্যে সুপারিশ অর্জন হবে।
  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয়, অসীলা একমাত্র তাঁর জন্যে খাস হওয়া সত্তেও উম্মাতের কাছে তা প্রাপ্তির জন্যে দোয়া চেয়েছেন।
  • আল্লাহ তা‘আলার রহমত ও অনুগ্রহের বিশালতা। কারণ, একটি নেকির বিনিময় তার দশগুন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

অর্থ ও সূত্র

আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না”।

এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযান ও ইকামাতের মধ্যে দোয়ার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এই দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না এবং এটি কবুল হওয়ার বেশী উপযোগী । তাই এতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন।

উপকারিতা

  • এ সময় দোয়া করার ফযীলত।
  • যদি দোয়াকারী দোয়ার আদবে সজ্জিত হয় এবং তার স্থান ও পুণ্যময় সময়কে লক্ষ্য রাখেন আর আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকেন এবং নিজের নফসকে সন্দেহ ও সংশয় থেকে রক্ষা করেন এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখেন: তাহলে সে উত্তর পাওয়ার বেশী যোগ্য ইনশাল্লাহ।
  • মুনাবী দোয়া কবুল হওয়া প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ, দোয়ার শর্ত,রোকন ও আদবসমূহ একত্র হওয়ার পর, যদি এর কোন একটি মিস হয়, তবে সে নিজেকে ব্যতীত অন্য কাউকে দোষ দিবে না।
  • দোয়া কবুল হওয়া: হয় তার দোয়া তার জন্য দ্রুত কবুল করা হবে, নয়তো তার থেকে অনুরূপ অমঙ্গল দূর করা হবে, অথবা তা তার জন্য পরকালে সংরক্ষণ করা হবে। এটা আল্লাহর হিকমত ও রহমত অনুসারে হয়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

আজানের পরের দোয়া: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।