নামাজের দোয়া: সানা, রুকু, সিজদা ও তাশাহহুদ

তাকবিরে তাহরিমা থেকে সালাম পর্যন্ত নামাজের ভেতরে নবীজি ﷺ যে দোয়াগুলো পড়তেন।

১ একবার

اللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরাইরাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআতের মধ্যে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, তাকবীর ও কিরাআত এর মধ্যে চুপ থাকার সময় আপনি কী পাঠ করেন? তিনি বললেন, এ সময় আমি বলি: اللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ».“হে আল্লাহ! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ! আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিলা দ্বারা ধৌত করে দিন।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের জন্য তাকবীর বলতেন, তখন সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করার আগে কিছুটা সময় চুপ থাকতেন, সেখানে তিনি কতিপয় দু‘আর মাধ্যমে তার সালাত শুরু করতেন। তিনি যেসব দু‘আ এ সময়ে বলতেন তার মধ্যে রয়েছে: اللهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ*، اللهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ».“হে আল্লাহ্! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ্ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার হয়। হে আল্লাহ্ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিলা দ্বারা ধৌত করে দিন।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতেন যেন তিনি তার গুনাহ এবং তার মাঝে দূরত্ব তৈরী করে দেন, যাতে তিনি গুনাহে পতিত না হন, এমনভাবে যাতে গুনাহের সাথে সাক্ষাৎও না হয়। যেভাবে মাশরিক ও মাগরিবের মধ্যে কখনোই সাক্ষাৎ হয় না। আর যদিও কখনো গুনাহে পতিত হয়ে থাকে, তাহলে সেখান থেকে তাকে যেন পরিচ্ছন্ন করা হয়, আর তার থেকে সেগুলোকে দূরীভুত করা হয় যেমন করে সাদা কাপড় থেকে ময়লা দূর করা হয়। আর তিনি (আল্লাহ) যেন তাকে (নবী সা.) তার গুনাহসমূহ থেকে গোসল করিয়ে এর প্রভাব ও উষ্ণতাকে যেন পানি, বরফ ও শিলা জাতীয় পবিত্রকারী বস্তু দ্বারা ঠান্ডা করে দেন।

উপকারিতা

  • সালাত জাহরী (উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করা হয় এমন সালাত) হলেও ইস্তিফতাহ তথা প্রারম্ভিক দু‘আ নিঃশব্দে পড়তে হবে।
  • সাহাবায়ে কেরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চলাফেরা ও নড়াচড়ার অবস্থা জানতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন।
  • ইস্তিফতাহ-এর দু‘আর আরো অনেকগুলি বাক্য রয়েছে, কোন ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত ও সাব্যস্ত ইস্তিফতাহের দু‘আগুলি হতে একবার একটি পড়বে আর অন্যবার আরেকটি পড়বে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

سبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ المَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ

অর্থ ও সূত্র

আয়িশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, “সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি অর্রূহ।” অর্থাৎ, অতি পবিত্র, মহা পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল -এর রব।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

আয়িশা রাদিয়াল্লাহ আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সালাতের রুকু ও সিজদাতে পড়তেন, ‘সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ।’ অর্থাৎ, “অতি পবিত্র, মহা পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল -এর রব।” অর্থাৎ আপনি অতি পবিত্র ও মহা পবিত্র।” এটি পবিত্রতা বর্ণনা করার চূড়ান্ত শব্দ। মহান আল্লাহ অতি পবিত্র ও মহা পবীত্র। “ফেরেশতামন্ডলীর রব।” তারা হলো আল্লাহর বাহিনী, যাদের আমরা প্রত্যক্ষ করি না। আর রূহ হলো জিবরীল। তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ট ফিরিশতা। সুতরা‘ একজন মানুষের জন্য স্বীয় সালাতের রুকু ও সেজদায় বেশি বেশি করে ‘সুববূহুন ক্বুদ্দূসুন রাববুল মালা-ইকাতি ওয়ারুহ বলা উচিত।

কুদ্দূস আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি নাম। এটি কাদ্দাসা শব্দ হতে সংগৃহিত। এর অর্থ হলো, বড়ত্ব ও মহত্ব সহকারে যাবতীয় খারাপী থেকে তার পবিত্রতা ঘোষণা ও তাকে দূরত্বে রাখা।

আর সুব্বুহুন এটি তার সুন্দর নামসমূহের একটি নাম। অর্থাৎ অসীম পবিত্র।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ

অর্থ ও সূত্র

ইবনু আবূ আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু থেকে পিঠ উঠানোর সময় বলতেনঃ «سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ» অর্থাৎ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন। হে আল্লাহ! আমাদের রব, প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমানসমূহ ও যমীন পূর্ণ এবং তারপর যতটুকু বস্তু আপনি চান তা পূর্ণ।"

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে রুকু থেকে পিঠ উঠানোর সময় বলতেনঃ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ অর্থাৎ “প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শুনেন”। অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রশংসা করল আল্লাহ তাকে সাড়া দিবেন এবং তার প্রশংসা কবুল করবেন ও তাকে বিনিময় প্রদান করবেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা করবে নিম্নের বাণী দ্বারা: " اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ " হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক সকল প্রশংসা আপনারই জন্য- যা আসমান ও জমিন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন।" এমন প্রশংসা যা সকল আসমান ও জমিন এবং উভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু এবং আল্লাহ যা চান তা সবই পূর্ণ করে দেয়।

উপকারিতা

  • মুসল্লি যখন রুকু থেকে মাথা উঠাবে তখন কি বলা মুস্তাহাব তার বর্ণনা।
  • রুকু থেকে উঠার পর ধীরতা ও স্থিরতা গ্রহণ করার বিধান প্রমাণিত হয়। কারণ, ধীরতা ও স্থিরতা গ্রহণ না করলে এসব জিকির আদায় করা সম্ভব নয়।
  • এই জিকিরগুলো ফরয ও নফল সব সালাতে বলাই শরীয়ত সম্মত।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

اللَّهمَّ اغْفِرْ لي، وارْحَمْنِي، وعافِني، واهْدِني، وارزقْنِي

অর্থ ও সূত্র

ইবনু ’আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝখানে বলতেন: (اللَّهمَّ اغْفِرْ لي، وارْحَمْنِي، وعافِني، واهْدِني، وارزقْنِي) অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন,আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন এবং রিজিক দান করুন।

এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: হাদিসটি এর শাওয়াহেদ (বিভিন্ন সমার্থক হাদিস) থাকার কারণে হাসান

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দুই সিজদার মাঝে নিম্নোক্ত পাঁচটি জিনিসের দো‘আ করতেন যার প্রতি একজন মুসলিম খুবই মুখাপেক্ষী। ‌আর এতে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো: (1)আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তার গুনাহ গোপন রাখতে ও অপরাধ মাফ করতে দু‘আ করা; (2)তার প্রতি ব্যাপক রহমত নাযিল হওয়া; (3)সন্দেহ, লোভলালসা ও রোগ-ব্যাধির থেকে সুস্থতা কামনা; (4)আল্লাহর কাছে হিদায়েত ও সত্যের উপর অবিচল থাকার দু‘আ; (5)ঈমান, ইলম, নেক আমল, হালাল ও পবিত্র সম্পদ অর্জনের দু‘আ করা।

উপকারিতা

  • দুই সিজদার মাঝখানে বসে এ দু‘আ পড়া শরী‘য়ত অনুমোদিত।
  • এসব দু‘আর ফযীলত ও মর্যাদা বর্ণনা; যেহেতু এতে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

اللهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার সময় এই দু'আ পড়তেন: «اللهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমার ছোট ও বড়, পূর্বের ও পরের, প্রকাশিত ও গুপ্ত সকল প্রকার পাপকে মাফ করে দাও।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সিজদায় এই দোয়া করতেন: (اللهم اغفر لي ذنبي) (হে আল্লাহ, আমার পাপ ক্ষমা করুন) তা ঢেকে রেখে এবং এর পরিণতি থেকে আমাকে রক্ষা করে। অতএব আপনি ক্ষমা করুন, উপেক্ষা করুন এবং এড়িয়ে যান, (كله) (সবকিছু), আমি বলতে চাচ্ছি: (دِقّه) (ছোট পাপ), (وجِلّه) (বড় পাপ) (وأوله) (প্রথম পাপ) (وآخره) (শেষ পাপ) এবং এর মধ্যে যা আছে, (علانيته وسره) (প্রকাশ্য ও গোপন), যা আপনি ছাড়া কেউ জানে না, আপনি পবিত্র।

উপকারিতা

  • ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: তিনি ছোট ও বড়, সূক্ষ্ম ও মহান, প্রথম ও শেষ, গোপন ও প্রকাশ্য সব পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এটি সাধারণীকরণ ও ব্যাপকতা যাতে বান্দা যা করে তার সবকিছুর উপর তাওবা আসে, সে তার পাপ সম্পর্কে জানে বা না জানে।
  • বলা হয়েছে: (الدِّق) শব্দটি (الجِلّ) এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ প্রার্থনাকারী তার প্রার্থনায় ক্রমশ সামনে এগিয়ে যান। অধিকন্তু ছোট পাপ বারবার করা এবং সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার ফলে বড় পাপের উৎপত্তি হয়, যেন এগুলো বড় পাপের মাধ্যম। আবার ক্ষমা প্রার্থনার দাবি হল প্রমাণিত বস্তু আগে আনা এবং তারপর উচ্চতায় এগিয়ে যাওয়া।
  • আল্লাহর কাছে অনুনয় করা এবং তাঁর কাছে সকল ছোট-বড় পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করা।
  • আন-নওয়াবী বলেন: এতে দোয়ার উপর জোর দেওয়া এবং এর শব্দের পরিধি বৃদ্ধি করার দাবি রয়েছে, যদিও এর এক অংশ অন্যটির জন্য যথেষ্ট হয়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

اللهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

অর্থ ও সূত্র

‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিছানায় পেলাম না। আমি তাকে খোঁজ করতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত তার উভয় পায়ের তালুতে গিয়ে ঠেকল। তিনি সাজদায় ছিলেন এবং তার পা দু’টো দাঁড় করানো ছিল। এ অবস্থায় তিনি বলছেন: «اللهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ» [হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই। তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি ও স্বস্তির আশ্রয় চায়। আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসার হিসাব করা আমার সম্ভব না। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ।]

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশেই শুয়েছিলাম, রাতের কোনো এক অংশে তাকে অনুপস্থিত পেলাম, ফলে তিনি হুজরার যে জায়গায় সালাত আদায় করতেন সেখানে আমার হাত দিয়ে স্পর্শ করলাম। দেখলাম তিনি সাজদার হালতে আছেন এবং তার দু পা খাড়া ছিল। আর তিনি বলতে ছিলেন:

(আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি) এবং উসিলা গ্রহণ করছি (তোমার অসন্তুষ্টি থেকে সন্তুষ্টির) আমার বা আমার উম্মতের উপর (এবং) পানাহ চাচ্ছি (তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি) ও তোমার মহান ক্ষমার উসিলায়। (আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি) এবং তোমার মহিমাময় গুণাবলি থেকে তোমার সৌন্দর্যের গুণাবলির আশ্রয় প্রার্থনা করি, যেহেতু তোমার থেকে তুমি ছাড়া আর কেউ আশ্রয় দিতে সক্ষম নয় এবং আল্লাহর থেকে কোন মুক্তি ও আশ্রয়স্থল নেই আল্লাহর নিকট সোপর্দ হওয়া ছাড়া। (তোমার প্রশংসার হিসাব করা সম্ভব না) তুমি যেমন হকদার তেমন তোমার নিয়ামত ও অনুগ্রহ গণনা করা ও আয়ত্তে আনা আমার অক্ষমতার কারণে সম্ভব নয়, যদিও আমি তাতে চেষ্টা করি। (তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রুপ) তুমিই তোমার সত্ত্বার প্রশংসা করেছ যেমন তোমার জন্য প্রযোজ্য, তোমার প্রশংসার হক আদায় করতে কে সক্ষম?!

উপকারিতা

  • সাজদায় এই দোয়াগুলো পাঠ করা মুস্তাহাব।
  • মীরাক বলেছেন, নাসাঈর এক বর্ণনায় রয়েছে: তিনি যখন তার সালাত থেকে ফারিগ হতেন এবং তার বিছানা প্রস্তুত করতেন তখন এই দোয়া পাঠ করতেন।
  • কিতাব ও সুন্নাহে প্রমাণিত আল্লাহর সিফাত দিয়ে প্রশংসা করা এবং তার নাম দিয়ে দোয়া করা মুস্তাহাব।
  • এই দোয়ায় রুকু ও সাজদায় স্রষ্টার প্রতি সম্মান প্রদর্শন রয়েছে।
  • আল্লাহর সিফাতের উসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করা জায়েয, যেমন তার পবিত্র নাম-সত্ত্বার উসিলায় আশ্রয় প্রার্থনা করা জায়েয।
  • খাত্তাবি বলেন, এই কথার একটি চমৎকার অর্থ রয়েছে; আর সেটি হল: তিনি আল্লাহর নিকট পানাহ চেয়েছেন যেন তাকে তারই গোস্বা থেকে সন্তুষ্টির দ্বারা এবং তার শাস্তি থেকে তারই নিরাপত্তা দ্বারা আশ্রয় প্রদান করা হয়। সন্তুষ্টি এবং গোস্বা দু’টি বিপরীত বস্তু; অনুরূপভাবে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করা এবং নিরাপত্তা বিধান করা দুু’টি বিপরীত বস্তু। তারপর যখন এমন সত্ত্বাকে উল্লেখ করলেন যার কোনো বিপরীত নেই- অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা- তখন তার কাছেই তার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন অন্য কিছু নয়। আর ইস্তেগফারের অর্থ হল: বান্দার পক্ষ থেকে তিনি যে প্রশংসা ও ইবাদত পাওয়ার হকদার সেই পর্যন্ত না পৌঁছার ত্রুটি থেকে ক্ষমা চাওয়া। তার বাণী: তোমার উপর প্রশংসা গণনা করতে সক্ষম না, অর্থাৎ তার সামর্থ্য রাখি না এবং সেই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারব না।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৭ একবার

التحيَّات المباركات، الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لله، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وَبَرَكَاتُهُ، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وأشهد أنَّ محمَّدا رسول الله

অর্থ ও সূত্র

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তাশাহুদ এমনভাবে শেখাতেন যেমনটি তিনি কুরআনের সূরা শেখাতেন। তিনি বলতেন, “যাবতীয় বরকতময় অভিবাদন আল্লাহর জন্য, অনুরূপভাবে সকল সালাত ও পবিত্র কাজও। হে নবী! আপনার ওপর বর্ষিত হোক সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকতসমূহ। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের উপরও বর্ষিত হোক সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। ইবন রুমহের বর্ণনায় বর্ণিত, যেমনিভাবে আমাদের কুরআন শেখাতেন।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

হাদীস শরীফটি তাশাহুদের বাক্যগুলো বর্ণনা করছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তা শিখাতে এত আগ্রহি ছিলেন যেমনটি আগ্রহী ছিলেন কুরআনের আয়াতসমূহ শেখানোর ক্ষেত্রে। তাশাহুদের বাক্যগুলো অর্থ হলো, যাবতীয় বরকতময় অভিবাদন আল্লাহর জন্য, অনুরূপভাবে সকল সালাত ও পবিত্র কাজও। হে নবী! আপনার ওপর বর্ষিত হোক সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকতসমূহ। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের উপরও বর্ষিত হোক সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। এটি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ তাশাহুদেরই মতো। তবে প্রার্থক্য শুধু আল-মুবারাকাত শব্দের বৃদ্ধিতে ও তার পরে দুই শব্দ থেকে ওয়াও হরফ উহ্য করাতে। আর তাশাহুদের ক্ষেত্রে বর্ণিত একাধিক বাক্য থেকে একেক সময় একেকটি পড়া বৈধ।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৮ একবার

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

অর্থ ও সূত্র

আব্দুর রহমান বিন আবূ লাইলা বলেন, কা’ব বিন ‘উজরাহ আমার সাথে সাক্ষাত করে বলল, আমি কি তোমাকে হাদিয়া দেবো না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আসলে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কীভাবে আপনাকে সালাম দেব তা জানলাম। তবে কীভাবে আপনার উপর সালাত (দরূদ) পেশ করবো? তিনি বললেন, তোমরা বলো:اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ».

অর্থ“হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষন করো। যেমন তুমি রহমত বর্ষন করেছো ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! তুমি বরকত নাযিল করো মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের পরিবার পরিজনের উপর যেমন বরকত নাযিল করেছো ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করলেন, তার উপরে কীভাবে সালাত(দরূদ) পেশ করবে? যেহেতু তারা ইতোপূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সালাম দেওয়ার পদ্ধতি ‘আত্তাহিয়্যাতু’তে জেনেছেন এভাবে যে, ‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ’ অর্থ: হে নবী ! আপনার উপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সবধরনের নিরাপত্তা , রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তাঁর প্রতি সালাত (দরূদ)পেশ করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করালেন। এর অর্থ হলো: «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ».

“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের উপর সালাত বর্ষণ করুন।” অর্থাৎ আপনি উচ্চমর‌্যদা সম্পন্ন ফেরাশ্তাদের সামনে প্রশংসা সহ উত্তমভাবে তাঁকে তার পর তাঁর দ্বীনের অনুসারীদেরকে ও তাঁর মুমিন আত্মীয়-স্বজনদেরকে স্মরণ করুন। "كما صلَّيتَ على آل إبراهيم"

“যেরূপ আপনি ইবরাহীমের বংশের ওপর সালাত বর্ষণ করেছেন।” যেমনিভাবে আপনি ইবরাহীমের বংশধর, তারা হলেন ইরবাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক ও তাদের বংশধর এবং তাদের মুমিন অনুসারীদেরকে অনুগ্রহ দান করেছেন, সেভাবে আপনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপরও আপনার অনুগ্রহ দান করুন। "إنك حميد مجيد"

“নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।” অর্থাৎ আপনি আপনার স্বীয় সত্তায়, গুণাবলীতে এ কর্মে প্রশংসিত। আপনি আপনার সম্মান, ক্ষমতা ও অনুগ্রহে মহান, সুপ্রশস্ত। «اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ».

“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের উপর তেমনি বরকত দান করুন যেমনি বরকত দান করেছেন ইবরাহীমের উপর।” অর্থাৎ তাকে অধিক কল্যাণ ও সম্মান-মর্যাদা দান করুন, তা বৃদ্ধি করুন এবং তা স্থায়ী করুন।

উপকারিতা

  • সৎপূর্বসূরীরা ইলমী মাসায়েল পরস্পরকে হাদিয়া দিতো।
  • শেষ বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব।
  • নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে সালাম ও সালাত(দরূদ) শিক্ষা দিয়েছেন।
  • এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ পেশ করার সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ অর্থজ্ঞাপক শব্দাবলী।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৯ একবার

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করতেন ও বলতেনঃ,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ

‘হে আল্লাহ ! আমি আপনার সমীপে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে।

মুসলিমের বর্ণনায় আছে:

«إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الْآخِرِ، فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ أَرْبَعٍ: مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ».

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ সালাতে তাশাহুদ পড়া শেষ করবে, তখন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে: জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পরে এবং সালাম ফিরানোর আগে নিম্নোক্ত চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং তিনি আমাদেরকেও এগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে আদেশ দিয়েছেন।

প্রথম: কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন।

দ্বিতীয়: কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আযাব থেকে।

তৃতীয়: জীবনের ফিতনা থেকে, দুনিয়ার হারাম প্রবৃত্তি এবং বিভ্রান্তিকর সন্দেহজনক বিষয়াদি থেকে এবং এবং মৃত্যুর ফিতনা থেকে, অর্থাৎ মৃত্যুর সময় যখন উপস্থিত হবে তখনকার ফিতনা থেকে, যেমন: ইসলাম বা সুন্নাহ থেকে বিপথগামী হওয়া বা কবরের ফিতনা থেকে, যেমন দুই ফিরিশতার জিজ্ঞাসাবাদ পানাহ চাইতেন।

চতুর্থ: মাসীহ দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে, যে আখেরি যামানায় বের হবে। আল্লাহ তার দ্বারা তাঁর বান্দাহদেরকে পরীক্ষা করবেন। তার ফিতনার কথা বিশেষ করে উল্লেখ করার কারণ হলো: দাজ্জালের ফিতনা খুবই ভয়ংকর এবং মারাত্মক পথভ্রষ্টকারী।

উপকারিতা

  • এ চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় চাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ দু‘আ। কেননা এতে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রকারের অকল্যাণ থেকে পানাহ চাওয়া একত্রিত হয়েছে।
  • হাদীসটি দ্বারা কবরের আযাব প্রমাণিত এবং কবরের আযাব সত্য।
  • ফিতনার ভয়াবহতা ও আল্লাহর কাছে এসব ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং এর থেকে নাজাতের জন্যে দু‘আ করা।
  • দাজ্জালের বের হওয়া হাদীসটি দ্বারা প্রমাণিত এবং তার ফিতনা অত্যন্ত ভয়ংকর ফিতনা হবে।
  • শেষ বৈঠকের শেষে এসব দু‘আ পড়া মুস্তাহাব।
  • ভালো কাজের পরে দু‘আ পড়া মুস্তাহাব।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১০ একবার

اللهم اغفر لي ما قدَّمتُ وما أخَّرتُ، وما أسررتُ وما أعلنتُ، وما أسرفتُ، وما أنت أعلم به مني، أنت المُقَدِّم وأنت المؤَخِّر، لا إله إلا أنت

অর্থ ও সূত্র

আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন, “আমি একনিষ্টভাবে আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকেই ফিরালাম যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী বা যাবতীয় ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি এরই আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। হে আল্লাহ! আপনিই অধিপতি, আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমার রব, আমি আপনার বান্দা। আমি আমার নিজের উপর অন্যায় করেছি এবং আমি আমার পাপসমূহ স্বীকার করছি। সুতরাং আপনি আমার সমুদয় গুনাহ মাফ করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করতে পারে না। আর আপনি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত করুন, আপনি ছাড়া আর কেউ উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত করতে পারে না। আর আপনি আমার থেকে আমার খারাপ চরিত্রগুলো দূরীভূত করুন, আপনি ব্যতীত আর কেউ সে খারাপ চরিত্রগুলো দূরীভূত করতে পারে না। আমি আপনার হুকুম মানার জন্য সদা-সর্বদা হাযির, আপনি কল্যাণময়, সকল কল্যাণই আপনার দু’হাতে নিহিত। অকল্যাণ আপনার দিকে নয় অর্থাৎ মন্দকে আপনার দিকে সম্পৃক্ত করা উচিত নয়, অথবা মন্দ দ্বারা (আপনার নিকটবর্তী হওয়া যায় না, বা মন্দ আপনার দিকে উঠে না)। আমি আপনার দ্বারাই (প্রতিষ্ঠিত আছি) এবং আপনার দিকেই (আমার প্রত্যাবর্তন)। আপনি বরকতময় ও সুঊচ্চ। আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাই এবং আপনার কাছে তাওবাহ করছি।” আর যখন রুকু করেন তখন বলতেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যে রুকু করেছি, আপনার ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাঁড়, আমার পেশী, সবই আপনার জন্য বিনয়াবনত।” আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন, তখন বলতেন: “হে আল্লাহ, সকল আসমান ও যমীন ভর এবং যা তাদের মাঝে রয়েছে এবং এর পরেও আপনি যা চান সবকিছু পূর্ণ করে আপনার প্রশংসা।” আর যখন সাজদাহ করে তখন বলেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই সাজদাহ করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। আমার মুখমণ্ডল সাজদায় অবনত সেই মহান সত্ত্বার জন্য, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আর তার কান ও চোখ বিদীর্ণ করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়।” তারপর সালাম ও তাশাহুদের মাঝখানে সর্বশেষ বলতেন, “হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ- যা পূর্বে করেছি এবং যা পরে করব, যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, এবং যে সীমালঙ্ঘন করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনিই (কাউকে) অগ্রগামী করেন, আর আপনিই (কাউকে) পিছিয়ে দেন, আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।”

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন বলতেন, আমি ইবাদতের সাথে একনিষ্ঠ হলাম, এই অর্থে যে, আমি আমার সকল ইবাদত একনিষ্ঠ করলাম আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, যার কোনো দৃষ্টান্ত পূর্বে ছিল না। তিনি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম। কারণ, যে সত্ত্বা এ ধরনের সৃষ্টি আবিষ্কার করেছেন, যা সম্পূর্ণই নতুন এবং খুব মজবুত, সকল চেহারার তার দিকেই মনোনিবেশ করা উচিৎ এবং অন্তর সমূহের সর্বাবস্থায় তাঁর ওপরই ভরসা করা উচিৎ। তিনি ছাড়া অন্য কারো দিকে মনোনিবেশ করা উচিৎ নয়। এবং তার স্থায়ী সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ আশা করা। “সব বাতিল দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে সত্য দীন ইসলামের দিকে মনোনিবেশ করলাম তার ওপরই প্রতিষ্ঠিত থেকে।” আরবদের নিকট “হানীফ” বলতে থাকেই বুঝানো হত যে ইবরাহীমের মিল্লাতের ওপর থাকত। তারপর তিনি বলেন, ‘আমার সালাত, যাবতীয় ইবাদত ও নৈকট্য অর্জন করার প্রচেষ্টাসমূহ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য উৎসর্গ। এ বিষয়ে তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করব না। অনুরূপভাবে আমার হায়াত ও মৃত্যু আল্লাহর জন্য। তিনি তাদের স্রষ্টা ও নির্ণয়ক। এতে তিনি ছাড়া কারো কোনো দখল নেই। তার সত্ত্বা, গুণাবলি ও কর্মসমূহে তার কোনো শরীক নয়। তিনিই আমাকে এই তাওহীদ ও ইখলাসের নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমি তারই অনুগত ও অনুসারী মুসলিমদের একজন’। তারপর বলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমিই মালিক। তুমি ছাড়া আর কোনো মালিক নেই। তুমি ছাড়া আর কারো জন্যেই প্রকৃত কোনো রাজত্ব নেই। ইলাহ হিসেবে তুমি একক। তুমি ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ বা উপাস্য নেই। তুমিই আমার রব, আর আমি তোমার বান্দা। গুনাহ ও অন্যায় এবং তোমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে আমি আমার নিজের ওপর অত্যাচার করেছি। আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ। তুমি আমার অপরাধ ক্ষমা কর, তুমি ছাড়া আর কেউ অপরাধ ক্ষমা করার নেই। কারণ, তুমিই ক্ষমাকারী ও গাফূর’। তারপর বলেন, ‘আপনি আমাকে আপনার ইবাদত ও অন্যান্যা সবকিছুতে বাহ্যিক ও গোপনীয় যাবতীয় সুন্দর ও পাক-পবিত্র চরিত্রের পথ দেখান, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করার তাওফীক দান করুন এবং তার ওপর অবিচল রাখুন। কারণ, আপনিই তার পথপ্রদর্শক। আপনি ছাড়া আর কেউ পথপ্রদর্শক নেই। আপনি আমাকে খারাপ চরিত্রগুলো থেকে দূরে রাখুন এবং হিফাযত করুন। কারণ, আপনি ছাড়া আর তা থেকে দূরে রাখা বা হিফাযত করার কেউ নেই’। তারপর তিনি বলেন, ‘আপনার আনুগত্যের ওপর সর্বদাই টিকে থাকবো। আর আপনার ডাকে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে এবং আপনার আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার মাধ্যমে একের পর এক সৌভাগ লাভ করে যাব’। তারপর তিনি বলেন, যাবতীয় কল্যাণ আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনিই তার অধিপতি এবং আপনি যেভাবে চান সেভাবে পরিচালনা করেন। মন্দ সংঘটিত হয় আপনার কৃত ও সৃষ্ট বস্তুতে, আপনার কর্মে নয়’। সুতরাং মন্দকে কোনো ক্রমেই তার দিকে সম্পৃক্ত করা যাবে না। না তার সত্ত্বা ও সিফাতের সাথে, আর না তার কর্ম ও নামসমূহের সাথে। কারণ, তার সত্ত্বা সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণ। আর তার সিফাতও পরিপূর্ণ যার ওপর তার শুকরিয়া ও প্রসংশা করা হয়। আর তার কর্মসমূহ সবই কল্যাণ, রহমত, ইনসাফ ও হিকমতপূর্ণ। কোনো ক্রমেই তার কর্মসমূহের মধ্যে কোনো অকল্যাণ নেই। তার নামসমূহ সবই সুন্দর। ফলে তার দিকে কীভাবে খারাপ কর্মকে সম্পৃক্ত করা যাবে। বরং খারাপ কর্মতো তার সৃষ্টি ও মাখলুকাতের মধ্যে বিদ্যমান। আর তারা আল্লাহ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, তার কর্ম তার কৃতের থেকে আলাদা। ফলে তার কর্ম সবই কল্যাণ। তবে তার মাখলুক ও তার কৃতের মধ্যে কল্যাণ ও অকল্যাণ দু’টিই রয়েছে। সুতরাং যেহেতু খারাপ কর্মসমূহ মাখলুক যা তার থেকে আলাদা -মহান রবের সাথে স্থাপিত নয়, তাই তা তার সাথে সম্পৃক্ত করা যাবে না। এ কথার মধ্যে মু‘তাযিলা সম্প্রদায় যারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ খারাপ কর্মসমূহের স্রষ্টা নন, তাদের বিশ্বাসের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ, আল্লাহ ভালো ও খারাপ যাবতীয় কর্মের স্রষ্টা। আর তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা। আপনার দ্বারাই আশ্রয় চাই, আপনার ওপর ভরসা করি, আপনার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত আছি। আর আপনার দিকেই আমার আশ্রয়, আপনার দিকেই ফিরে যাওয়া এবং আপনার দিকেই মুখ করা। অথবা অর্থ হলো আপনাকেই একক জানি, আমার যাবতীয় কর্ম আপনাতে সমাপ্ত হয়। আপনিই শুরু আবার আপিনিই শেষ। আবার কেউ বলেন, আপনার মাধ্যমেই সাহায্য চাই এবং আপনার দিকেই আমার ফিরে যাওয়া। আপনার বরকত মহান, সম্মানিত ও সংখ্যায় অনেক। চিন্তাগুলো যতটুকু চিন্তা করে এবং বিবেক যতটুকু ধারণা করে আপনি তার চেয়েও উর্ধ্বে। আপনি সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। আমি আপনার নিকট পূর্বের পাপের ক্ষমা চাই এবং যেসব পাপ বাকি আছে সেগুলো থেকে ফিরে আসছি, এবং আপনার তাওফীক ও দৃঢ়তায় মৃত্যু পর্যন্ত আপনার দিকেই মনোনিবেশ করব। আর যখন রুকু করেন তখন বলতেন, ‘আমার রুকু একমাত্র আপনার জন্যেই, আমি আপনার ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমি এবং আমার সকল অঙ্গ, যেমন কান, চোখ, মস্তিষ্ক, হাড়, পেশী, সবই আপনার নির্দেশের জন্যে বিনয়াবনত’। আর যখন রুকু থেকে মাথা তুলেন তখন বলেন, ‘আমি আপনার এমন প্রশংসা করছি যে, সেটা যদি শরীরের আকৃতি ধারণ করত তাহলে সকল আসমান ও যমীন পূর্ণ করে নিত, এবং আসমান ও যমীনের পর যা চাইত সেটাও পূর্ণ করে নিত’। আর যখন সাজদাহ করেন তখন বলেন, ‘আমার মুখমণ্ডল সাজদায় অবনত সেই মহান সত্ত্বার জন্য, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আর তার কান ও চোখ বিদীর্ণ করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়’। তারপর সালাম ও তাশাহ্হুদের মাঝখানে সর্বশেষ বলতেন, “হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ- যা পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, অর্থাৎ যেন সে বলল, হে আল্লাহ আমার নতুন ও পুরাতন পাপগুলো মাফ করুন”। ‘যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি এবং যা আমার নফস বলেছে এবং যা জবান উচ্চারণ করেছে সব আপনি ক্ষমা করুন। যে পাপ ও অন্যায় করে আমি সীমালঙ্ঘন করেছি, সেগুলো মাফ করে দিন। আমার সেসব মাফগুলো ক্ষমা করুন, যেগুলো আমি জানি না। আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনি যাকে চান আপনার আনুগত্য দ্বারা অগ্রগামী করেন এবং আপনি যাকে চান তার থেকে পিছিয়ে রাখেন। আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই’।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১১ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দা সিজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। সুতরাং (সিজদায়) তোমরা অধিক দু‘আ করো।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, বান্দা সিজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। কেননা মুসল্লী তার সর্বাধিক সম্মানিত অঙ্গগুলো সিজদাবস্থায় জমিনে রেখে মহান আল্লাহর কাছে নিজের বিনয়, হীনতা ও আনুগত্য প্রকাশ করে।

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা অবস্থায় অধিক দু‘আ করতে আদেশ করেছেন। ফলে দু‘আ ও আমল উভয়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে বিনয় ও নম্রতা একত্রিত হয়।

উপকারিতা

  • আনুগত্য বান্দাহকে মহান আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী করে।
  • সিজদায় বেশি বেশি দু‘আ করা মুস্তাহাব। কেননা সিজদা দু‘আ কবুলের অন্যতম স্থান।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

নামাজের দোয়া: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।