দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

4টির মধ্যে 3 নম্বর পাঠ

একজন মুসলিম কীভাবে কথা বলবেন ও প্রতিবেশীর সাথে আচরণ করবেন?

কুরআন থেকে

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا يَسۡخَرۡ قَوۡمٞ مِّن قَوۡمٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُونُواْ خَيۡرٗا مِّنۡهُمۡ وَلَا نِسَآءٞ مِّن نِّسَآءٍ عَسَىٰٓ أَن يَكُنَّ خَيۡرٗا مِّنۡهُنَّۖ وَلَا تَلۡمِزُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَلَا تَنَابَزُواْ بِٱلۡأَلۡقَٰبِۖ بِئۡسَ ٱلِٱسۡمُ ٱلۡفُسُوقُ بَعۡدَ ٱلۡإِيمَٰنِۚ وَمَن لَّمۡ يَتُبۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ ﴿١١﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ وَلَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمۡ أَن يَأۡكُلَ لَحۡمَ أَخِيهِ مَيۡتٗا فَكَرِهۡتُمُوهُۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٞ رَّحِيمٞ ﴿١٢﴾

হে ঈমানদারগণ! কোনো মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনো মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরা যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্ৰতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না ; ঈমানের পর মন্দ নাম অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম। হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ এবং তোমরা একে অন্যের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না । তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে ? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণ্যই মনে কর। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ্ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।

আল-হুজুরাত 49:11-12কুরআনে পড়ুন

সুন্নাহ থেকে

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা সে যেন চুপ থাকে। যে আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে । যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম সহীহ HadeethEnc.com
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমানদার বান্দা,যার প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকটে এবং তিনি তার কর্মের প্রতিদান দিবেন, তাকে তার ঈমান নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী অর্জনে উৎসাহিত করে:

প্রথমত: উত্তম কথা বলা: সেগুলো হলো তাসহবীহ1, তাহলীল2, সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা, মানুষের মধ্যে সংশোধন করা। সে যদি এসব কাজ না করে, তবে সে যেন চুপ থাকে। সে যেন তার কষ্ট থেকে অন্যকে বিরত রাখে এবং সে যেন তার জিহ্বাকে হেফাযত করে।

দ্বিতীয়: প্রতিবেশিকে সম্মান করা: তাদের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ করা এবং তাদেরকে কষ্ট না দেওয়া।

তৃতীয়: তোমার সাক্ষাতে আসা আগত মেহমানকে সম্মান করা। আর তা হলো তাদের সাথে উত্তম কথা বলা, তাদেরকে খাদ্য খাওয়ানো ইত্যাদি

আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “প্রকৃত মুসলিম সে, যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির সে, যে আল্লাহ যা থেকে নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম সহীহ HadeethEnc.com
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন , পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। অর্থাৎ, সে তাদের গালি দেয় না, অভিশাপ দেয় না, তাদের গিবত করে না এবং তার জিহ্বা দিয়ে তাদেরকে কোনো প্রকারের কষ্ট দেয়না বা ক্ষতি করে না। এবং তার হাত থেকেও তারা নিরাপদ থাকে, অর্থাৎ সে তাদের উপর যুলুম করে না, তাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে না এবং এজাতীয় অন্য কোনো কাজ করে না। আর মুহাজির হল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ তাআলা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা পরিত্যাগ করে।

ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাকে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম সর্বদা প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত করতে থাকেন। এমনকি, আমার ধারণা হয়, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম সহীহ HadeethEnc.com
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম কর্তৃক বারবার প্রতিবেশীর অধিকারের ব্যাপারে অসীয়ত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। প্রবিবেশী হলো কারো গৃহের নিকটতম বসবাসকারীগণ। চাই সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম, আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়। তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং তাদেরকে কষ্ট না দেওয়া, তাদের প্রতি ইহসান করা এবং তাদের দ্বারা কষ্ট পেলে তাতে ধৈর্যধারণ করা, এমনকি প্রতিবেশীর হকের যথাযথ সম্মান বজায় রাখার প্রতি জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম কর্তৃক বারবার ওসিয়াত করায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধারণা করেছিলেন, শীঘ্রই প্রতিবেশীকে সম্পত্তির অধিকারী করে অহী নাযিল হবে, যা ব্যক্তির মৃত্যুর পরে তাদেরকে উত্তরাধিকারী করে দিবে।

সব পাঠ