আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া

যেসব বিষয় থেকে নবীজি ﷺ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন।

১ একবার

اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ، وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

অর্থ ও সূত্র

আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’আর মধ্যে একটি ছিল: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই নি’আমাত দূর হয়ে যাওয়া হতে, তোমার দেয়া সুস্থতা এমনকি নিরাপত্তা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার অকস্মাৎ শাস্তি আসা হতে এবং তোমার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে"।

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন:

প্রথমটি: (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই) দ্বীনি ও দুনিয়াবী (নি’আমাত দূর হয়ে যাওয়া হতে) এবং আমি যেন ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি ও নিয়ামত দূরকারী পাপসমূহ থেকে দূরে থাকি।

দ্বিতীয়: (তোমার দেয়া সুস্থতা ও নিরাপত্তা ) মুসিবতে (পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে); কাজেই আমি তোমার নিকট স্থায়ী সুস্থতা এবং যাবতীয় ব্যথা ও ব্যাধি থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি ।

তৃতীয়: মুসিবত ও বিপদ জাতীয় (তোমার অকস্মাৎ শাস্তি আসা হতে); শাস্তি ও আযাব যখন হটাৎ ও অস্মাৎ চলে আসে তখন তাওবা ও শোধরানোর কোনো সময় থাকে না। কাজেই এই মুসিবত সবচেয়ে বড় ও কঠিন।

চতুর্থ: (এবং তোমার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে) এবং আপনার গোস্বার কারণ এমন সকল উপায় থেকে; কারণ আপনি যার ওপর গোস্বা করবেন সে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হল।

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহুবচনের শব্দ ব্যবহার করেছেন; যেন আল্লাহকে গোস্বাকারী সকল কথা, কর্ম ও বিশ্বাসকে শামিল করে।

উপকারিতা

  • আল্লাহ তা‘আলার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখাপেক্ষিতা।
  • এই বরকতময় আশ্রয় প্রার্থনা: আল্লাহর নিয়ামতের শোকর, পাপে পতিত হওয়া থেকে নিরাপত্তার তাওফিক চাওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছে; কারণ এটি নিয়ামতকে দূর করে দেয়।
  • আল্লাহ তা‘আলার গোস্বার স্থানসমূহ থেকে দূরে থাকার আগ্রহ।
  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার আকস্মিক ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন; কারণ তিনি যদি বান্দার উপর প্রতিশোধ নেন, তবে তার উপর এমন বিপদ আসবে যা সে প্রতিহত করতে পারবে না এবং সকল সৃষ্ট প্রাণীদের দ্বারা তা প্রতিহত করা যাবে না, যদিও তারা সবাই একত্রিত হয়।
  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালার সুস্থতার পরিবর্তন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন; কারণ আল্লাহ যদি তাকে তাঁর সুস্থতার জন্য মনোনীত করেন, তবে তিনি উভয় জগতের মঙ্গল অর্জন করেছেন, কিন্তু তা যদি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে সে উভয় জগতের অকল্যাণে আক্রান্ত হবেন, কারণ নিরাপত্তা দ্বারা দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ، اللهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ، وَمِنْ دَعْوَةٍ لَا يُسْتَجَابُ لَهَا

অর্থ ও সূত্র

যায়দ ইবনু আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট তেমনই বলব যেমনটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, বখিলতা, বার্ধক্যতা এবং কবরের শাস্তি থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে পরহেযগারিতা দান করুন এবং একে সংশোধন করে দিন। আপনি একমাত্র সর্বোত্তম সংশোধনকারী এবং আপনিই একমাত্র তার মালিক ও আশ্রয়স্থল। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই এমন ইলম হতে যা কোন উপকারে আসবে না ও এমন অন্তঃকরণ থেকে যা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না; এমন আত্মা থেকে যা কক্ষনও তৃপ্ত হয় না। আর এমন দু’আ থেকে যা কবুল হয় না।"

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়শ এই দোয়া করতেন: “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই” এবং আপনার কাছে পানাহ চাই “অক্ষমতা থেকে”, উপকারী পরিকল্পনা তৈরি না করতে পারার অক্ষমতা হতে, “অলসতা” থেকে, কাজ করার ইচ্ছাশক্তি না থাকা থেকে, কারণ সে পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে না এবং অলস ব্যক্তি তা করতে চায় না, “কাপুরুষতা” থেকে; যা করা উচিত তা করা থেকে বিরত থাকা থেকে, “কৃপণতা” থেকে; উপযুক্ত স্থানে দান না করা থেকে, “বার্ধক্য” ও বয়োবৃদ্ধ থেকে, যা শারীরিক দুর্বলতার দিকে পরিচালিত করে, “কবরের আযাব” থেকে এবং এর দিকে চালিতকারী উপায়গুলো থেকে। “হে আল্লাহ, আপনি আমার নফসকে ইবাদত আঞ্জাম ও পাপ পরিহার করার মাধ্যমে তার তাকওয়া দান করুন এবং তার তাওফিক দিন। “এবং তাকে পবিত্র করুন” এবং পাপ ও নীচ আখলাক থেকে পরিষ্কার করুন। “আপনিই তাকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম” এবং আপনি ছাড়া কেউ তাকে পবিত্র করতে পারে না। “আপনিই এর অভিভাবক”, সহায়ক এবং এর ধারক “এবং এর মনিব” যিনি এর বিষয়গুলির তত্ত্বাবধান করেন এবং তার রব, মালিক এবং তার উপর অনুগ্রহ দানকারী। "হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন ইলম থেকে আশ্রয় চাই যা কোন উপকারে আসে না," যেমন জ্যোতিষশাস্ত্র, গনক ও যাদুবিদ্যার জ্ঞান, অথবা এমন ইলম যা পরকালে কোন উপকারে আসে না, অথবা এমন ইলম যার উপর আমল করা হয় না। এবং এমন হৃদয় থেকে যা আপনাকে ভয় করে না, বিনয়ী হয় না, প্রশান্ত হয় না এবং আপনাকে স্মরণ করে শান্তি পায় না, "এবং এমন আত্মা থেকে যা তৃপ্ত হয় না” এবং আল্লাহ যা দিয়েছেন এবং তাকে যা হালাল পবিত্র রিযিক দান করেছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় এবং এমন দোআ থেকে যা প্রত্যাখ্যাত হয় এবং কবুল হয় না।

উপকারিতা

  • হাদীসে বর্ণিত এই বিষয়গুলি থেকে আশ্রয় চাওয়া মুস্তাহাব।
  • তাকওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা, ইলম ছড়িয়ে দেওয়া এবং তার উপর আমল করা।
  • উপকারী ইলম হলো যা আত্মাকে পবিত্র করে এবং তার মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার ভয় তৈরি করে, যা পরবর্তীতে সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।
  • বিনয়ী হৃদয় হলো সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করলে ভীত এবং বিচলিত হয়, তারপর নরম হয়ে যায় এবং আশ্বস্ত হয়।
  • পৃথিবীর প্রতি লোভ এবং এর প্রবৃত্তি ও আনন্দে সন্তুষ্ট না থাকার নিন্দা করা। অতএব, যে আত্মা লোভী এবং পার্থিব সুখের জন্য আগ্রহী, সে মানুষের সবচেয়ে খারাপ শত্রু। এ কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে আশ্রয় চেয়েছেন।
  • বান্দার উচিত দুআ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বা কবুল না হওয়ার কারণগুলি পরিহার করা।
  • আন-নওয়াবী বলেন: এই হাদীস এবং অন্যান্য ছন্দবদ্ধ দোয়া আলেমদের বক্তব্যের প্রমাণ; দোআয় নিন্দনীয় ছন্দ হল বনিতা করে উচ্চারিত ছন্দ। এটি নম্রতা, আত্মসমর্পণ এবং আন্তরিকতা কেড়ে নেয় এবং হৃদয়ের দোআ, মনযোগ এবং অন্তরের অবসরতা থেকে বিচ্যুত করে। আর যা নিখুঁত বাগ্মীতা ইত্যাদির জন্য প্রচেষ্টা বা চিন্তাভাবনা ছাড়াই অর্জিত হয়, অথবা যা মুখস্থ করা ছিল, তাতে কোনও দোষ নেই, বরং এটি ভালো।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

اللهم إني أعوذ بك من فتنة النار، وعذاب النار، ومن شر الغنى والفقر

অর্থ ও সূত্র

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শব্দগুলো দ্বারা দো‘আ করতেন, “হে আল্লাহ, তোমার নিকট আমি জাহান্নামের ফিতনা, জাহান্নামের শাস্তি এবং সম্পদ ও দারিদ্রতার ফিতনা থেকে সুরক্ষা চাই।”

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

আল্লাহর মনোনীত নবী চারটি বস্তু হতে পানাহ চাচ্ছেন, তার বাণী: “হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি জাহান্নামের ফিতনা থেকে সুরক্ষা চাই।” অর্থাৎ এমন ফিতনা থেকে যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, (যেন একই বাক্য দ্বিরুক্ত না হয়।) আবার জাহান্নামের ফিতনা দ্বারা জাহান্নামের দারোগার ধমকের সুরে প্রশ্নও হতে পারে। আর সে দিকেই ইশারা করেছেন আল্লাহ তা‘আলা নিম্নের বাণীতে, “যখনই তাতে একটি দল নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার দারোগা বলবে তোমার নিকট কী সতর্ককারী আসে নি।” আর তার বাণী: “জাহান্নামের আযাব থেকে” অর্থ আমি জাহান্নামী হওয়া থেকে তোমার নিাকট পানাহ চাচ্ছি। জাহান্নামী কাফিররাই হবে, কারণ তাওহীদবাদী মুমিনগণকে সংশোধন করা হবে, আগুন দিয়ে পবিত্র করা হবে, কিন্তু আগুনের দ্বারা শাস্তি দেওয়া হবে না। “কবরের আযাব থেকে” এখানে কবর দ্বারা উদ্দেশ্য বারযাখের জগত, যেখানে মুত্যুর পর মৃতদের রাখা হয়। তবে অধিকাংশ লোককে যেহেতু কবর দেওয়া হয়, তাই কবর বলা হয়েছে অথবা মৃত ব্যক্তির অংশগুলো যেখানে স্থির হয় সেটাই তার কবর। আর কবরের ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনকার ও নাকীরের প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগ হওয়া। আর “সম্পদের ফিতনা থেকে” অর্থাৎ অহমিকা, সীমালঙ্ঘন এবং হারাম পথে সম্পদ উপার্জন ও হারাম পথে সম্পদ ব্যয় এবং ধন-সম্পদ ও মর্যাদার কারণে সৃষ্ট অহংকার থেকে পানাহ চাই। “দারিদ্রতার ফিতনা থেকে” অর্থাৎ ধনীদেরকে হিংসা করা, তাদের সম্পদের প্রতি লোভ করা এবং তাদের সামনে নীচু হওয়া থেকে পানাহ চাই, যা ব্যক্তির সম্মান ও ধর্মকে বিনষ্ট করে এবং আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্ট না হওয়ার প্রমাণ, যার পরিণতি ভালো নয়। আর চতুর্থ বস্তু “সম্পদের ফিতনা” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পদের ফিতনা থেকে পানাহ চেয়েছেন। অর্থাৎ অবৈধভাবে সম্পদ সংগ্রহ করা, সম্পদের প্রতি অনুচিত মহব্বত ও ওয়াজিব খরচ ও হক থেকে বিরত থাকা থেকে পানাহ চেয়েছেন। আর দারিদ্রতার ফিতনা দ্বারা ধৈর্যহীনতা ও পরহেযগারী না থাকা বুঝায়। কারণ, অভাবের কারণে ব্যক্তি এমন জায়গায় উপনীত হয়, যেখানে যাওয়া তার রুচি ও ধর্মের পরিপন্থী। এবং তার কারণে হারামে লিপ্ত হলেও কোনো পরোয়া করে না।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

অর্থ ও সূত্র

কুতবাহ ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে গৰ্হিত চরিত্র, গৰ্হিত কাজ ও কু-প্রবৃত্তি হতে আশ্রয় চাই”।

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোআ ছিল: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সেসব মন্দ আখলাক থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং কেবল আপনার কাছে পানাহ চাই, যা করতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন। আপনি ছাড়া আর কারো কাছে নয়, যেমন ঘৃণা, হিংসা ও অহংকার এবং গালাগাল ও বকাঝকার মতো মন্দ কাজ থেকে এবং শরীয়াত বিরোধী সকল কুপ্রবৃত্তি থেকে আত্মা যা কামনা করে।

উপকারিতা

  • এই দোআর ফযীলত এবং এটি মুস্তাহাব।
  • মুমিন নিন্দনীয় আখলাক এবং নিন্দনীয় কাজ এড়াতে আগ্রহী হয় এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ ও কামনা-বাসনায় পতিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকে।
  • আখলাক, কর্ম এবং প্রবৃত্তি ভালো ও মন্দে বিভক্ত হয়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

اللهم إني أعوذ بك من الجوع، فإنه بِئْسَ الضَّجِيعُ،وأعوذُ بِكَ منَ الخِيَانَةِ، فَإنَّهَا بِئْسَتِ البِطَانَةُ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট ক্ষুধা থেকে পানাহ চাচ্ছি। কারণ, সেটা খুব খারাপ সঙ্গী এবং তোমার নিকট খিয়ানত থেকেও পানাহ চাচ্ছি। কারণ, সেটা খুব খারাপ বন্ধু।”

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। মান: হাসান

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধা থেকে পানাহ চেয়েছেন। কারণ, সেটা খুব খারাপ সঙ্গী, নফস ও অন্তরের আরাম দূর করে দেয় এবং তিনি মাখলুক ও খালিকের আমানতের খিয়ামত থেকে পানাহ চেয়েছেন। কারণ, সেটা ব্যক্তির খুব খারাপ একটি অভ্যাস।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

اللهم إني أعوذ بك من شر سمعي، ومن شر بصري، ومن شر لساني، ومن شر قلبي، ومن شر مَنِيِّي

অর্থ ও সূত্র

শাকাল ইবন হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দো‘আ শিখিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, (বল, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শার্রি সাম্য়ী, ওয়া মিন শার্রি বাসারী, ওয়া মিন শার্রি লিসানী, ওয়া মিন শার্রি ক্বালবী, ওয়া মিন শার্রি মানিইয়্যী।) “হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট আমার কর্ণ, চক্ষু, রসনা, অন্তর এবং বীর্য (যৌনাঙ্গে)র অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

শাকাল ইবন হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ খুঁজতে গেলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ধ্বংসশীল দুনিয়া, কিছু অর্থ এবং সা‘ পরিমাণ খাদ্যও চান নি। তিনি তাঁর কাছে দো‘আ শিখতে গেলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন কিছু দো‘আ শিখতে গেলেন যার মধ্যে তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে উপকার পাবেন। আর এটি হলো সাহাবায়ে কেরামের মূল বৈশিষ্ট্য, তারা আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই মহান দো‘আর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, “বল, আল্লাহুম্মা ইন্নী” অর্থাৎ তিনি আল্লাহ নামের মাধ্যমে যা আল্লাহ তা‘আলার সকল নান্দনিক নাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে তা দিয়ে আল্লাহর কাছে চেয়েছেন এবং তাঁর অভিমুখী হয়েছেন। “আমি তোমার নিকট আমার কর্ণের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।” আঊযু: অর্থাৎ আল্লাহর কাছে আমি কর্ণের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর তা হলো, মানুষের কর্ণ যে সকল পাপে লিপ্ত হয়। যেমন, মিথ্যা সাক্ষ্য, কুফুরী কথা, অপবাদ, দীনের বদমান এবং মানুষের কর্ণ যে সকল হারামে লিপ্ত হয় তার সব থেকে পানাহ চাই। “আমার চক্ষুর অনিষ্ট থেকে” আর তা হচ্ছে তার চক্ষুকে হারামের দিকে নিবন্ধ করা; যেমন, খারাপ ফিল্ম ও খারাপ দৃশ্য।“ আমার রসনার অনিষ্ট থেকে” অর্থাৎ এমন হারাম কাজ যা জবান থেকে বের হয়। যেমন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, গালি দেওয়া, লা‘নত করা, দীন এবং দীনদারের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করা অথবা এমন কথা বলা যা মানুষের কোনো কাজে আসে না অথবা যে ব্যাপারে কথা বলা দরকার সে ব্যাপারে কথা না বলা। “অন্তরের অনিষ্ট থেকে” আর তা হলো অন্তরকে গাইরুল্লাহর যিকির দ্বারা ভরপুর করা অথবা কলবের ইবাদত দ্বারা গাইরুল্লাহর অভিমুখী হওয়া; যেমন, গায়রুল্লাহর সাথে কামনা, ভীতি ও সম্মানকে সম্পৃক্ত করা অথবা যা আল্লাহর জন্য উচিৎ তা ত্যাগ করা। “বীর্যের অনিষ্ট থেকে” অর্থাৎ যৌনাঙ্গের অনিষ্টতা থেকে, আর তা হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন এমন কাজ করা অথবা ব্যভিচারের প্রাথমিক স্তরের কোনো একটি করা; যেমন, দৃষ্টিপাত করা, স্পর্শ করা, হাটা, দৃঢ় ইচ্ছ করা এবং এরকম যা কিছু আছে। অতঃপর এই বরকতময় দো‘আয় শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গকে সংরক্ষণ করার আর্জি জানানো হয়েছে, যা আল্লাহর নি‘আমত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে তাকে এসব নি‘আমতের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাইতে নির্দেশ দিলেন। এসব নি‘আমত থেকে আশ্রয় চাইতে আদেশ দেন নি। যেমন, তিনি (এমন) বলেন নি : “আমি আমার কর্ণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।” কেননা এটি একটি নি‘আমত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়। এটি সরাসরি খারাপ নয় যে, এর থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। কিন্তু যা এই অঙ্গ থেকে জন্মায় তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। আর যে উদ্দেশ্যে এ অঙ্গটিকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে এই অঙ্গটিকে হিফাযত করতে হবে। এর দ্বারা খারাপ কোনো কিছু করবে না এবং খারাপ কিছু ছড়াবে না। কেননা কিয়ামতের দিন সে এসব নি‘আমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে যা আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী সত্যায়নকারী: “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬]

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৭ একবার

اللهم إني أعوذ بك من البَرَصِ، والجُنُونِ، والجُذَامِ، وَسَيِّئِ الأسْقَامِ

অর্থ ও সূত্র

আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, «اللهم إني أعوذ بك من البَرَصِ، والجُنُونِ، والجُذَامِ، وَسَيِّئِ الأسْقَامِ» অর্থাৎ, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট শ্বেতী, উম্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

হাদীসটিতে বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তবে এ সব ব্যাধি থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশ্রয় চাওয়া প্রমাণ করে এ ব্যাধিগুলো খুব বিপদ জনক ও মারাত্মক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতক ব্যাধি থেকে বিশেষভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। অতঃপর তিনি অন্যান্য ব্যাধির ক্ষতি থেকেও ক্ষমা ও নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে চেয়েছেন। ফলে এ দো’আ বিশেষ ব্যাধি ও ব্যাপক ব্যাধি দুটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এক অংশ বিস্তারিত এবং অপর অংশ সামগ্রিক ও ব্যাপক। আর তার বর্ণনা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং তিনি বলেন, হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট শ্বেতী থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর তা হলো দেহ সাদা হওয়া। এ ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষ থেকে অন্যান্য মাখলুক দূরে সরে থাকে, যার ফলে রোগী একাকী হয়ে যায় যা অনেক সময় আল্লাহর তাকদীরের ওপর তাকে অসন্তুষ্টি করে তুলে। নাঊযু বিল্লাহ। আর তিনি উন্মাদনা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। আর তা হলো মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি চলে যাওয়া। মানুষের জ্ঞানই হলো আল্লাহর বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্র। এর দ্বারাই একজন মানুষ তার রবের ইবাদত করে এবং তার মাখলুক ও মহান কালামের মধ্যে চিন্তা ও গবেষণা করে। একজন মানুষের জ্ঞান না থাকা মানে তার থাকাটাই অর্থহীন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তি থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাগল যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুষ্ঠরোগ থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। এটি এমন একটি ব্যাধি যা মানুষের অঙ্গে এমনভাবে আক্রান্ত হয় যার ফলে তার দেহের মাংস জরে পড়ে। নাঊযুবিল্লাহ। এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি। এ কারণেই একটি হাদীসে এসেছে, তুমি কুষ্ঠরোগ থেকে এমনভাবে পলায়ন কর যেমনি-ভাবে বাঘ থেকে পলায়ন কর। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। অর্থাৎ সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি। আর তা হলো এমন সব ব্যাধি যা একজন মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করে, আক্রান্ত ব্যক্তি মানুষের মধ্যে ঘৃণিত হয়, যেমন প্যারালাইসিস, অন্ধত্ব ও ক্যান্সার ইত্যাদি। কারণ, এগুলো এতই মারাত্মক ব্যাধি যেগুলোর চিকিৎসায় অনেক সম্পদের প্রয়োজন হয়। আর অনেক ধৈর্য ধারণ করতে হয় যা একমাত্র আল্লাহ যাদের তাওফীক দিয়েছেন এবং যারা তাদের অন্তরকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন তাদের দ্বারাই সম্ভব। এ হাদীসের মধ্যে ইসলামের মহত্ব প্রকাশ পায়, যাতে একজন মুসলিমের দেহ ও দীন উভয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

আশ্রয় চাওয়ার দোয়া: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।