সন্ধ্যার জিকির অর্থসহ

সহিহ হাদিসে বর্ণিত সন্ধ্যার জিকির, যা আসরের নামাজের পর থেকে রাত পর্যন্ত পড়া হয়।

১ ৩ বার

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

অর্থ ও সূত্র

আব্দুল্লাহ ইবন খুবাইব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক বর্ষণমুখর রাতে গভীর অন্ধকারে আমাদের কে সলাত পড়ানোর উদ্দেশ্যে আমারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তালাশ করতে বের হলাম। এক স্থানে গিয়ে আমি তাঁকে পেলাম। তখন তিনি বললেন: “বল”, আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বললেন: “বল” আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি আমাকে বললেন: “বল”। আমি বললাম: কি বলব? তিনি বললেন: সকাল-সন্ধ্যায় কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এবং মুআওওয়াযাতায়ন (কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বিরাব্বিন নাস) তিন বার পাঠ করবে; তবে তা সব কিছুর ক্ষেত্রে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।"

এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

সম্মানিত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন যে, এক রাতে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল এবং অন্ধকার ছিল খুব ঘন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলেন, যাতে তিনি তাদেরকে সালাত পড়ান। অতঃপর তারা তাঁকে পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহকে বললেন: "বল" অর্থাৎ পড়। কিন্তু আবদুল্লাহ কিছুই পড়লেন না। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার তাঁকে বললেন। এবার আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী পড়ব?" নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সুরা ইখলাস {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} এবং মু'আওয়াযাতাইন(আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দুটি সূরা) সূরা নাছ ও ফালাক পড়। এ তিনটি সূরা সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বে। এটি তোমাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে এবং সব ধরনের ক্ষতি থেকে হিফাযত করবে।"

উপকারিতা

  • সকাল ও সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস এবং মু'আওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়া মুস্তাহাব এবং এটি সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষাকারী।
  • সূরা ইখলাস ও মু'আওয়াযাতাইনের (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়ার ফযিলত।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ

অর্থ ও সূত্র

ইবনে মাসঊদ রাদয়িাল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল: সন্ধ্যায় উপনীত হলে বলতেন: (অর্থ) “আমরা ও সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই”। বর্ণনাকার বলেন, আমার মনে হয় এর সাথে তিনি আরো বলেছেন: “তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্ব শক্তিমান। হে আমার রব! আমি তোমার নিকট এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরে যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা হতে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি যখন সকালে উঠতেন তখনও এই দু‘আ পাঠ করতেন; বলতেন ‘আসবাহনা ও আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ------।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

সকাল সন্ধ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ছিল, এ সব বরকতপূর্ণ দো‘আ পড়া। তার বাণী (আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম।) অর্থাৎ, আমরা সন্ধ্যায় প্রবেশ করলাম। সন্ধ্যার রাজ্য আল্লাহর জন্যই এবং তার সাথেই খাস। (আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), আমরা এবং যাবতীয় প্রশংসা তার জন্য। অর্থাৎ, আমরা জানলাম যে, রাজ্য কেবল আল্লাহর আর প্রশংসা কেবল আল্লাহর। তিনি ছাড়া আর কারো জন্য নয়। (আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই,) ইলাহ হিসেবে তিনি একক। তার বাণী: (হে আমার রব! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি এই রাতের কল্যাণ) অর্থাৎ স্বয়ং রাতের (এবং যে কল্যাণ নিহিত আছে তাতে) অর্থাৎ এই রাতে যে কল্যাণ সৃষ্টি করা হয় ও নাযিল হয় এবং রাতে বসবাসকারীর কল্যাণ। (এবং আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা হতে আশ্রয় চাচ্ছি।) অর্থাৎ, দীন ও দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত রাতসমূহের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে। (হে আমার রব! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা থেকে) অর্থাৎ, সক্ষম হওয়া সত্বেও আনুগত্যে অলসতা করা। আর এটি সাধারণত হয়ে থাকে সক্ষমতা থাকা সত্বেও আত্মা ভালো কর্মের প্রতি তৎপর না হওয়ার কারণে। (এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি।) বার্ধক্য যাতে মানুষ শক্তি হারা হয় এবং দূর্বল হয়। আর তার অর্থ নিকৃষ্ট বয়সে ফিরে যাওয়া। কারণ, তখন জীবনের মুল লক্ষ্য ইলম ও আমল ছুটে যায়। (হে আমার রব! আমি তোমার নিকট জাহান্নামরে এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি।) সরাসরি আযাব থেকে। অথবা যা আযাবকে অবধারিত করে। (তিনি যখন সকালে উঠতেন) অর্থাৎ, সকালে প্রবেশ করতেন। (তখনও এই দু‘আ পাঠ করতেন) অর্থাৎ, সন্ধ্যায় যা বলতেন। তবে তিনি আমসাইনার যায়গায় বলতেন ‘আসবাহনা ও আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ আর আল-লাইলাই এর জায়গায় আল-ইয়াওম বলতেন------।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ نَحْيَا، وَبِكَ نَمُوتُ، وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত: তিনি ভোরে উপনীত হয়ে বলতেন: “হে আল্লাহ! আপনার অনুগ্রহে আমরা ভোরে উপনীত হই, সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং বাঁচি ও মরি। আর আপনার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন”। আর তিনি যখন সন্ধ্যায় উপনীত হতেন তখন বলতেন: “হে আল্লাহ! আপনারই সাহায্যে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং সকালে উপনীত হই, আপনার নামেই আমরা বাঁচি ও মরি এবং আপনারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন” তিনি বলেন: অন্য বার: "আপনার দিকেই গন্তব্য।"

সুনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী তার সুনানুল কুবরায় ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। মান: হাসান

ব্যাখ্যা

যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সকাল উপনীত হত; আর এটি হল ভোর উদয় হওয়ার সাথে দিনের শুরু; তিনি বলতেন:

(হে আল্লাহ!) আপনার নিরাপত্তা সঙ্গে নিয়ে আপনার নিয়ামত বিষ্টিত হয়ে, আপনার যিকিরে মশগুল হয়ে, আপনার নামের সাহায্য নিয়ে, আপনার তাওফিকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে এবং আপনার সামর্থ্য ও শক্তি দিয়ে নড়া-চড়া করে (আপনার অনুগ্রহে আমরা ভোরে উপনীত হই এবং সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং বাঁচি ও মরি)। অর্থাৎ পূর্বের শব্দের মত তা সন্ধ্যা শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করবে এবং বলবে: হে আল্লাহ, আপনার অনুগ্রহে সন্ধ্যা করলাম, আপনার জীবন দানকারী নামে জীবিত হই এবং আপনার মুমিত নামে মৃত্যুবরণ করি (আর আপনার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান )। মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, জমা হওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হওয়া, আমাদের অবস্থা এতে সকল সময়ে চলমান থাকবে এবং সকল অবস্থা এবং আমরা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হব এবং আমরা তা ত্যাগ করব না।

আর তিনি যখন সন্ধ্যায় উপনীত হতেন তখন বলতেন: (হে আল্লাহ! আপনারই সাহায্যে আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং সকালে উপনীত হই, আপনার নামেই আমরা বাঁচি ও মরি এবং আপনারই দিকে আমাদের গন্তব্য )। দুনিয়াতে আশ্রয়স্থান এবং পরকালে ঠিকানা; আপনিই আমাকে জীবিত করেন এবং আপনিই আমাকে মৃত্যু দান করেন।

উপকারিতা

  • নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করে সকাল ও সন্ধ্যায় এই দোয়াটি পাঠ করা মুস্তাহাব।
  • বান্দা তার সমস্ত পরিস্থিতিতে এবং সব সময়ে তার রবের মুখাপেক্ষী হওয়া।
  • সকাল বেলা যিকির পাঠ করার উত্তম সময়: দিনের শুরুতে ভোর - ফজর হওয়ার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত; যদি তার পর বলেন অর্থাৎ সকালে প্রথম প্রহরের পর বলেন তাহলে যথেষ্ট হবে, যদি জোহরের পর বলেন তবু যথেষ্ট হবে, আর যদি সূর্যাস্তের পর বলেন যথেষ্ট হবে, আর সেগুলোই যিকিরের সময়।
  • তাঁর বাণী "এবং আপনার দিকেই পুনরুত্থান" সকালের ক্ষেত্রে বেশী ফিট হয়। এটি তাকে পুনরুজ্জীবন এবং বৃহত্তর পুনরুত্থানের কথা মনে করিয়ে দেয় যখন মানুষ মারা যাবে এবং কিয়ামতের দিন ওঠানো হবে। এটি একটি নতুন পুনরুত্থান এবং একটি নতুন দিন যেখানে আত্মাসমূহকে নিজ নিজ শরীরে প্রত্যাবর্তন করা হবে এবং মানুষ তাতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর সৃষ্ট এই নতুন সকাল উদয় হবে; যাতে এটি আদম সন্তানের সাক্ষী হয় এবং তার সময় ও মুহূর্তগুলো আমাদের আমলের জন্য ভান্ডার হয়।
  • তাঁর বাণী “এবং আপনারই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন” বিকালের ক্ষেত্রে বেশী ফিট হয়। যখন মানুষেরা তাদের কর্ম এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ও জীবিকায় ছড়িয়ে পড়া থেকে ফিরে যায় এবং তাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তারা ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্রামে যায়, ফলে তাদেরকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করার মাধ্যমে শেষ ঠিকানা, ভবিষ্যত ও পরিণতি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

অর্থ ও সূত্র

শাদ্দাদ ইবনু আওস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার হচ্ছে, তুমি বলবে যে:

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা, আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদার ওপর আছি, আমি যা করছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। আমি আমার ওপর আপনার নি‘আমত স্বীকার করছি এবং আমি আপনার সামনে আমার পাপ স্বীকার করছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ, আপনি ব্যতীত কেউ পাপ ক্ষমা করবে না।”

“তিনি বলেন, যে এই কথাগুলোর প্রতি দৃঢ় আস্থা রেখে দিনের কোনো সময় তা বলে, অতঃপর সেদিন সন্ধার আগেই সে মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতবাসী। আর যে তার প্রতি দৃঢ় আস্থা রেখে রাতের কোনো অংশে তা বলে, অতঃপর সকাল হওয়ার আগেই সে মারা যায় তাহলে সে জান্নাতবাসী।”

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন, ক্ষমা প্রার্থনার বিভিন্ন শব্দমালা(দোয়া) রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বান্দা এ বাক্যগুলো বলা: “হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা, আমি যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদার ওপর আছি, আমি যা করছি তার অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। আমি আমার ওপর আপনার নি‘আমত স্বীকার করছি এবং আমি আপনার সামনে আমার পাপ স্বীকার করছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ, আপনি ব্যতীত কেউ পাপ ক্ষমা করবে না।” অতএব, বান্দা প্রথমে আল্লাহর তাওহীদের স্বীকৃতি দিবে এবং তিনি তার স্রষ্টা এবং তার মাবূদ, যার কোন শরীক নেই। সে মহান আল্লাহর সাথে ঈমান ও আনুগত্যের যে অঙ্গীকার করেছেন, তার উপরে সে সাধ্যমতো দৃঢ়পদ আছে। কারণ বান্দা যতই ইবাদত করুক না কেন, সে আল্লাহর সমস্ত আদেশ পালন করতে পারে না বা তার উপর প্রদত্ত অনুগ্রহের জন্য যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে না। অতএব, বান্দা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং তাঁকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। আর বান্দার কৃত পাপ ও অকল্যাণকর কাজ থেকে তিনিই আশ্রয় দাতা। এবং সে স্বেচ্ছায় তার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার করে এবং নিজের গুনাহ ও অবাধ্যতার কথা স্বীকার করে। এরপর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তিনি যেন তার গুনাহ ক্ষমা করেন, তার পাপগুলো ঢেকে দেন এবং তার ক্ষমা, অনুগ্রহ ও রহমত দ্বারা তাকে পাপের পরিণাম থেকে রক্ষা করেন। কারণ, তিনিই একমাত্র গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, এটি সকাল ও সন্ধ্যার যিকিরগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম যিকির। যে ব্যক্তি সকালে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের প্রথম ভাগে এ যিকিরটি বিশ্বাসের সাথে এবং অন্তরে এর অর্থের প্রতি খেয়াল রেখে পাঠ করবে এবং এরপর সেদিন মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি রাতে সূর্যাস্ত থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত এ যিকিরটি পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে, সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে।

উপকারিতা

  • ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনার) বিভিন্ন বাক্য রয়েছে এবং এর একটি অপরটির চেয়ে উত্তম।
  • বান্দার উচিত এই যিকিরটি পাঠে আগ্রহী হওয়া, কারণ এটি হলো সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা ইস্তিগফারের সেরা দোয়া।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ ৩ বার

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

অর্থ ও সূত্র

আবান ইবনু উসমান সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফানকে বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবেঃ سْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ، فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ’আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’’ সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার উপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না”।

আবান পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলে যে লোকটি তার থেকে হাদীস শুনেছিল, তার দিকে তাকাচ্ছিল। তখন আবান তাকে বললেন, তোমার কি হয়েছে? তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো কেন? বিশ্বাস করো, আল্লাহর কসম! আমি উসমান এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করিনি আর উসমানও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেননি। তবে যেদিন আমি পক্ষাঘাতগ্রস্ত (শরীরের একপাশ অবশ রোগাক্রান্ত) হয়েছি সেদিন আমি রাগের বশে তা বলতে ভুলে গিয়েছি।

সুনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ফজরের পর এবং প্রতি রাতে সূর্যাস্তের আগে তিনবার বলে: আমি সাহায্য চাই এবং নিজেকে রক্ষা করি প্রত্যেক ক্ষতিকারক থেকে (بسم الله) আল্লাহর নামে (الذي لا يضر مع اسمه) যার নাম উল্লেখ করার সাথে (شيء) কোনো জিনিস ক্ষতি করতে পারে না সে যত বড় হোক না কেন (في الأرض) পৃথিবীতে এবং তা থেকে উদ্ভূত বিপর্যয় আর (ولا في السماء) না আসমানে এবং তার থেকে নেমে আসা বিপদ। তিনিই আমাদের কথাসমূহ (وهو السميع) শ্রবণকারী এবং আমাদের অবস্থা সম্পর্কে (العليم) অবগত।

যে সকালে দোয়াটি পড়ল ভোর না করা পর্যন্ত তাকে বিপদ স্পর্শ করবে না এবং যে সকালে পড়ল সন্ধ্যা না করা পর্যন্ত বিপদ তাকে স্পর্শ করবে না।

অতঃপর হাদীস বর্ণনাকারী আবান ইবনু উসমানকে পক্ষাঘাত আঘাত হানল; এটি হল শরীরের একটি পার্শ্ব নিস্তেজ হয়ে যাওয়া। ফলে তার থেকে হাদীস শ্রবণকারী ব্যক্তি আশ্চর্য হয়ে আবানের দিকে তাকাচ্ছিলেন! তিনি ব্যক্তিকে বললেন: কী হল আমাকে দেখছ?! আল্লাহর কসম আমি উসমানের ওপর মিথ্যারোপ করেনি এবং উসমান নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মিথ্যারোপ করেনি, তবে যেই দিন আমাকে আল্লাহর তাকদীরে নির্ধারিত বিপদটি স্পর্শ করল সেই দিন তা পড়তে ভুলে গিয়েছিলাম। আমাকে রাগ স্পর্শ করেছিল, ফলে উল্লিখিত বাক্য বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

উপকারিতা

  • সকাল ও সন্ধ্যায় এই যিকির পাঠ করা মুস্তাহাব; যেন মানুষ আল্লাহ তা‘আলার হুকুমে হটাৎ বিপদ অথবা মুসিবতের অনিষ্ট অথবা অন্য কোনো ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পায়।
  • আল্লাহর প্রতি প্রথম পূর্বসূরীদের বিশ্বাসের শক্তি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত দ্বীনের প্রতি তাদের সত্যারোপ।
  • সকাল-সন্ধ্যায় যিকির যথাযথ বজায় রাখার একটি উপকারিতা হল মুসলিমের গাফিলতি দূর হওয়া এবং তার সর্বদা স্মরণ হওয়া যে সে আল্লাহ তা‘আলার বান্দা।
  • ইখলাস ও ইয়াকিনের সাথে যিকিরকারীর আল্লাহর প্রতি ঈমান ভয় ও তার অন্তরের উপস্থিতি অনুযায়ী যিকিরের প্রভাব অর্জিত হবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي، وَعَنْ شِمَالِي، وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي

অর্থ ও সূত্র

ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এ দু’আগুলো পড়া ছেড়ে দিতেন না: ’’হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং আমার দ্বীন , দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন এবং ভীতিপ্রদ বিষয়সমূহ থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযাত করুন আমার সম্মুখ থেকে, আমার পিছন দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপর দিক থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় মাটিতে ধসে যাওয়া থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি”।

এটি আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় এ দু’আগুলো পড়া বাদ দিতেন না:

(হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট) রোগ, মুসিবত, পার্থিব কষ্ট, প্রবৃত্তি ও দ্বীনি ফিতনা থেকে (দুনিয়া ও আখিরাতে) বর্তমান ও ভবিষ্যতে (নিরাপত্তা চাই)।

(হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট) পাপগুলোর মোচন, তার থেকে পরিত্রাণ এবং (ক্ষমা চাই) এবং শিরক, বিদআত ও গুনাহ থেকে (আমার দ্বীন) এবং মুসিবত, কষ্ট ও অনিষ্ট থেকে আমার (দুনিয়া) এবং আমার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয় (পরিবার) এবং আমার সম্পদ ও আমল-এ নিরাপত্তা ও অনিষ্ট থেকে নিষ্কৃতি চাই।

(হে আল্লাহ! আপনি আমার দোষত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন ) এবং যেসব অপরাধ, অন্যায় ও বিচ্যুতি রয়েছে ও আমার পাপগুলো মোচন করুন।(ভীতিপ্রদ বিষয়সমূহ থেকে আমাকে নিরাপদ রাখুন) এবং আমার ভয় ও ঘাবড়ে দেওয়ার মত বিষয়।

(হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন) এবং আমার থেকে কষ্ট ও মুসিবতগুলো প্রতিহত করুন, (আমার সম্মুখ থেকে, আমার পিছন দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপর দিক থেকে।) সকল দিক থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছেন; কারণ সকল মুসিবত ও দুর্ঘটনা এসব দিক থেকে মানুষের নিকট ধাবিত হয় এবং তাকে স্পর্শ করে।

(হে আল্লাহ! আমি আশ্ৰয় চাই আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় ধসে যাওয়া থেকে), হটাৎ ধৃত হওয়া এবং অপ্রস্তুত ধ্বংস হওয়া (আমার নিচ থেকে ) অর্থাৎ ভূমিধসে ধ্বংস হয়ে যাব।

উপকারিতা

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে এই দোয়ার কালেমা গুলো নিয়মিত সংরক্ষণ করা।
  • মানুষ আল্লাহর নিকট দ্বীনের বিষয়ে নিরাপত্তা প্রার্থনায় যেমন আদিষ্ট তেমন দুনিয়ার বিষয়ে তা প্রার্থনায় আদিষ্ট।
  • তিবী বলেন, এটি ছয়টি দিককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কারণ বিপদগুলো তার মধ্যে রয়েছে এবং তিনি নিচের দিক থেকে বিপদের গভীরতার কারণে তাতে বেশী গুরুত্বারোপ করেছেন।
  • সকাল বেলা যিকির পাঠ করার উত্তম সময়: দিনের শুরুতে ফজর শুরু হওয়ার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত; যদি তার পর বলেন অর্থাৎ: সকালে প্রথম প্রহরের পর চাশতের সময় তাহলে যথেষ্ট হবে, যদি জোহরের পর বলেন তবু যথেষ্ট হবে, আর যদি সূর্যাস্তের পর বলেন, সেটাও যিকিরের সময়।
  • দলীল যে যিকিরটি রাতের নির্দিষ্ট সময় আদায় করাকে প্রমাণ করে, যেমন সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করা তা সূর্যাস্তের পরে রাতে পড়তে হবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৭ একবার

اللهم فاطِرَ السماوات والأرض عالم الغيبِ والشهادة، ربَّ كُلِّ شَيءٍ ومَلِيكَه، أَشْهد أن لا إله إلا أنت، أعوذ بك من شرِّ نفسي وشرِّ الشيطان وشِرْكِهِ وأن أقترف على نفسي سوءًا أو أجرُّه إلى مسلم

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, আবূ বাকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কিছু বাক্য বাতলে দিন, যেগুলি সকাল-সন্ধ্যায় আমি পড়তে থাকব।’ তিনি বললেন, “বল, হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শির্ক হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এটি সকাল-সন্ধ্যা ও শোবার সময় পাঠ করো।

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

এ যিকিরটি হলো সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করার যিকিরসমূহের একটি যিকির। আর এটি এমন একটি যিকির যেটিকে রাসূলুল্লাহ সা. আবূ বকরকে শিখিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাকে শেখান। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এমন একটি যিকির ও দো‘আ শিখিয়ে দিলেন যার দ্বারা সে প্রত্যেক সকাল ও বিকাল দো‘আ করবেন। তাকে এ বলতে নির্দেশ দেন যে, “বল, হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, অর্থাৎ, হে আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি কর্তা অর্থাৎ, তিনি এ দুটিকে পূর্বে অতিবাহিত কোন দৃষ্টান্ত ছাড়া সৃষ্টি করেছেন বরং আবিষ্কার করেছেন এবং অস্তিত্ব দান করেছেন পূর্বের কোন দৃষ্টান্ত ছাড়া। উপস্থিত ও অনুপস্থিতর পরিজ্ঞাতা, অর্থাৎ মাখলুক থেকে অনুপুস্থিত এবং তারা যা প্রত্যক্ষ করে তিনি সবকিছুরই পরিজ্ঞাতা। কারণ, আল্লাহ বর্তমান ভবিষ্যৎ ও অতীত সবই জানেন। প্রত্যেক বস্তুর রব ও অধিপতি আল্লাহ! অর্থাৎ হে প্রতিটি বস্তুর রব ও অধিপতি। আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বস্তুর রব ও প্রতিটি বস্তুর অধিপতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার মুখ ও অন্তর দ্বারা স্বীকার করছি যে, তুমি ছাড়া আর কোন সত্যিকার উপাস্য নেই। তোমাকে বাদ দিয়ে যত উপাস্যের ইবাদত করা হয় তা বাতিল তার জন্য উবুদিয়্যাতের কোন অধিকার নেই এবং একক আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য উবুদিয়্যাতের কোন হক নেই। তার বাণী: “আমি আমার আত্মার মন্দ হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি” কারণ, আত্মার জন্য রয়েছে খারাবীসমূহ। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আমি আমার আত্মাকে নির্দোষ বলছি না, কারণ আত্মা অবশ্যই খারাপ কর্মের প্রতি আদেশকারী তবে যাকে আমার রব অনুগ্রহ করে”। যখন আল্লাহ তোমাকে তোমার আত্মার খারাবী থেকে রক্ষা না করবেন তখন তা অবশ্যই তোমার ক্ষতি করবে এবং তোমাকে মন্দ কাজের আদেশ দেবে। কিন্তু যখন আল্লাহ তার অনিষ্ট থেকে তোমাকে রক্ষা করবেন তোমাকে যাবতীয় কল্যাণের তাওফীক দান করবেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বলে শেষ করলেন যে, এবং শয়তানের মন্দ ও শির্ক হতে অর্থাৎ তুমি আল্লাহর নিকট চাইবে যে, তিনি যেন তোমাকে শয়তানের অনিষ্ট হতে সাহায্য করে এবং তার শির্কের খারাবী হতে সাহায্য করে। অর্থাৎ সে তোমাকে শির্ক করার যে আদেশ দেয়। আর শারাক হলো যা দ্বারা মাছ ও পাখি শিকার করা হয়। কারণ, শয়তানের রয়েছে শারাক যা দ্বারা সে আদম সন্তানদেরকে শিকার করে। তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এটি সকাল-সন্ধ্যা ও শোবার সময় পাঠ করো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ যিকিরটি আবূ বকরকে বলতে নির্দেশ দিয়েছেন যখন সে সকাল করে, বিকাল করে এবং যখন ঘুমাতে যায়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৮ একবার

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾

অর্থ ও সূত্র

আবূ মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোন রাতে সূরাহ বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সে দুটিই তার জন্য যথেষ্ট।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন , যে ব্যক্তি কোন রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, যাবতীয় ক্ষতি ও অপছন্দনীয় অবস্থা থেকে রক্ষা করতে তার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট।

কেউ কেউ বলেছেন: এ দুটি তার কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদের সালাত)এর জন্য যথেষ্ট।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: এ দুটি তার রাতের সকল অযীফার জন্য যথেষ্ট।

আবার কেউ বলেছেন: কিয়ামুল লাইলে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য এ দু’ আয়াত তার জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়াও অন্য ব্যাখ্যাও কেউ কেউ দিয়েছেন। সম্ভবত উল্লিখিত সকল ব্যাখ্যাই সহীহ যা হাদীসে শব্দসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।

উপকারিতা

  • এতে সূরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহের ফযীলতের বর্ণনা হয়েছে । আর তা হলো মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী: (آمن الرسول ...) “রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে...” এখান থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত।
  • সূরা বাকারার শেষের আয়াতসমূহের তিলাওয়াতকারী থেকে যাবতীয় খারাবী, অনিষ্টতা এবং শয়তান দূর হয়, যখন সে তা রাতে তিলাওয়াত করে।
  • রাত সূর্যাস্তের সাথে শুরু হয়, আর ফযর উদিত হওয়ার সময় শেষ হয়।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৯ ১০ বার

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ ও সূত্র

আবূ আইয়ূব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি বলবে: (لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান।” দশবার সে যেন ইসাম‘ঈল ‘আলাইহিস সালামের সন্তানদের থেকে দশজনকে আযাদ করল।

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি বলবে, (لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) এর অর্থ “আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, সমস্ত রাজত্ব তাঁরই জন্য, ভালোবাসা ও সম্মানসহকারে একমাত্র তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা ও গুণগান এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান, কোন কিছু তাঁকে অক্ষম করতে পারে না। যে ব্যক্তি এ মহান যিকির দৈনিক দশবার বলবে, তার জন্য ইসমা‘ঈল ইবন ইবরাহীম ‘আলাইহিমাস সালামের সন্তানদের থেকে চারজন গোলাম আযাদ করার সাওয়াব হবে। এখানে ইসমা‘ঈল ‘আলাইহিস সালামের বংশধরদেরকে নির্দিষ্ট করার কারণ হলো তারা অন্যান্যদের তুলনায় উৎকৃষ্ট বংশের লোক।

উপকারিতা

  • এ যিকিরের ফযীলত এতো বেশি হওয়ার কারণ হলো: এতে আল্লাহ তা‘আলার একচ্ছত্র উলূহিয়্যাত, রাজত্ব, প্রশংসা ও পরিপূর্ণ সক্ষমতার উল্লেখ করা হয়েছে।
  • এ যিকির একত্রে বা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বললেই এর সাওয়াব অর্জিত হবে।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

১০ ১০০ বার

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার (سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ) ‘সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বলবে তার গুনাহরাশি মাফ করে দেওয়া হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার (سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ) ‘সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ অর্থাৎ ‘আমরা আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি’, বলবে তার গুনাহরাশি মাফ হয়ে যাবে এবং তাকে ক্ষমা করা হবে; যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের সাদা ফেনারাশি পরিমাণ হয়, যা সমুদ্রের ঢেউ ও উত্তাপের কারণে পানির উপরে সৃষ্টি হয় ।

উপকারিতা

  • কেউ দিনে একসাথে বা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একশত বার এ তাসবীহ পাঠ করলেই উক্ত সাওয়াব অর্জিত হবে।
  • তাসবীহ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলাকে অপূর্ণতা থেকে মুক্ত রাখা এবং হামদ হলো ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে তাঁকে পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করা।
  • এ হাদীসে গুনাহ মাফের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সগীরা গুনাহ। অন্যদিকে কবীরা গুনাহ মাফ পেতে হলে তাওবা আবশ্যক।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

সন্ধ্যার জিকির: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

কাউন্টার কীভাবে কাজ করে?

কোনো জিকিরের নিচের কাউন্টারে ট্যাপ করুন, এটি শূন্য পর্যন্ত উল্টো গুনবে। এটি শুধু এই পাতাতেই আছে এবং কিছুই সংরক্ষণ করা হয় না।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।