জানাজার নামাজের নিয়ম

ধাপে ধাপে জানাজার নামাজ, এর দোয়া ও যে হাদিসগুলো থেকে তা এসেছে।

যেভাবে পড়তে হয়

  1. মাইয়্যেতের পেছনে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান এবং জানাজার নামাজের নিয়ত করুন। প্রথম তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলুন এবং সূরা ফাতিহা পড়ুন।
  2. দ্বিতীয় তাকবির বলুন, তারপর তাশাহহুদের মতো নবীজি ﷺ-এর উপর দরুদ পড়ুন।
  3. তৃতীয় তাকবির বলুন, তারপর মাইয়্যেতের জন্য দোয়া করুন।
  4. চতুর্থ তাকবির বলুন, সামান্য থামুন, তারপর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।

এতে রুকু, সিজদা, আজান ও ইকামত নেই। হানাফি মাজহাবে প্রথম তাকবিরের পর সূরা ফাতিহার বদলে সানা পড়া হয়।

হাদিসসমূহ

১ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নাজাশী যেদিন মারা যান সেদিন-ই আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর খবর দেন এবং তাদের নিয়ে জানাযার স্থানে পৌছান, তারপর তাদের কাতারবন্দী করেন ও চার তাকবীর বলেন”।

মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নাজ্জাশী ছিল হাবশার বাদশা। মদীনাবাসী ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মক্কার কুরাইশরা যখন রাসূলের সাহাবীদের জন্য মক্কাকে সংকীর্ণ করে তুলে ছিল, তখন হাবশায় হিজরতকারী সাহাবীদের ওপর তার অনগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। অতঃপর তার নিয়তের বিশুদ্ধতা, হকের অনুসরণ এবং তার অহংকারকে দূরে নিক্ষেপ করা তাকে ইসলামের দিকে দিক্ষিত করল যে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি তার ভুমিতে মারা যান অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি।

মুসলিমদের প্রতি তার অনুগ্রহ, তার অবস্থানের বড়ত্ব এবং এমন যমীনে তার মারা যাওয়া যেখানে তার জানাযা পড়া হয়নি কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশী যেদিন মারা যান সে দিনই তার সাহাবীদের তার মারা যাওয়ার সংবাদ দেন এবং নাজ্জাশীর অবস্থার মুল্যায়নে করা, তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রচার করা, তার মর্যদার ঘোষণা করা, মুহাজিরদের প্রতি তার অবদানের প্রতিদান স্বরূপ এবং তার ওপর সালাত আদায়ে বেশি লোককে একত্র করার উদ্দেশ্যে সাহাবীদের নিয়ে তিনি সালাতের স্থানে বের হন। তারপর তিনি তাদেরকে কাতারবন্দী করেন এবং সালাত আদায় করেন এবং তার জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করার লক্ষ্যে ঐ সালাতে তিনি চারটি তাকবীর বলেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

২ একবার

অর্থ ও সূত্র

আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাঁর এক মেয়ের জানাযায় চার তাকবীর দিলেন। অতঃপর তিনি চতুর্থ তাকবীরের পর দুই তাকবীরের মধ্যস্থলে যতটা সময় লাগে ততক্ষণ দাঁড়িয়ে তার (কন্যার) জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ করলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রকমই করতেন।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি চার তাকবীর বলার পর কিছুক্ষণ থেমে গেলেন, এমনকি আমি ধারণা করলাম যে, তিনি পাঁচ তাকবীর বলবেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে সালাম ফিরালেন। তারপর তিনি যখন নামায শেষ করলেন, তখন আমরা তাঁকে বললাম, ‘একী!?’ তিনি বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যা করতে দেখেছি, তার চেয়ে বেশী করব না’ অথবা ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রকমই করেছেন।

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন। মান: হাসান

ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি তাঁর এক মেয়ের জানাযার সালাতে ইমামতি করেন। তাতে তিনি চার তাকবীর দিলেন। সালাতে প্রবেশের জন্য তাকবীর। তারপর তিনি সূরা ফাতিহা পড়লেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় তাকবীর দিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূপ পড়লেন। তারপর তিনি তৃতীয় তাকবীর দিলেন তারপর মৃতের জন্য দো‘আ করলেন। তারপর তিনি চুতুর্থ তাকবীর দিলেন।

চতুর্থ তাকবীরের পর তিনি কিছু সময় দেরি করলেন। যাতে তিনি দো‘আ ও ইস্তেগফার করেন।

তারপর সালাতের সালাম ফিরিয়ে যারা তার সাথে সালাত আদায় করেছিল তাদের বললেন, এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত আদায় করতেন।অর্থাৎ তিনি চার তাকবীর বলতেন এবং চতুর্থ তাকবীরের পর মৃতের জন্য দো‘আ করতেন।

অপর বর্ণনায় বর্ণিত: উল্লিখিত নিয়মে তিনি চার তাকবীর বললেন, তারপর তিনি দো‘আ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন এমনকি যারা পিছনে ছিল তার ভাবছিল তিনি পঞ্চম তাকবীর দেবেন।

অতঃপর তিনি দুইটি সালাম ফিরালেন। প্রথম সালাম তাঁর ডানে ও দ্বিতীয় সালাম তার বামে ফিরালেন সালাতের ন্যায়।

সালাত শেষে তার পিছনের লোকেরা তাকে চুতুর্থ তাকবীরের পর সাথে সাথে সালাম না ফিরিয়ে দেরি করার কারণ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করল।

তিনি বললেন, ‘আমি যে কাজটি করেছি তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম- যা করছেন তার ওপর অতিরিক্ত কিছু নেই। তবে অধিক সহীহ এবং অধিকাংশ সাহাবী আমল হলো শুধু ডান দিকে একবার সালাম ফিরানো।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৩ একবার

اللهم اغفر لِحَيِّنَا ومَيِّتِنَا، وصغيرنا وكبيرنا، وذَكرنا وأُنثانا، وشَاهِدِنَا وغَائِبِنَا، اللهم مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ على الإسلامِ، ومَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفِّهِ على الإيمانِ، اللهم لا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ، ولا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ

অর্থ ও সূত্র

আবু হুরায়রা, আবু কাতাদাহ ও আবূ ইবরাহীম আল-আশহালী তার পিতার থেকে – তার পিতা একজন সাহাবী ছিলেন- রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তারা সকলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সালাতে এ দো‘আ পড়লেন, “হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, উপস্থিত ও অনুপস্থিত নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যুদান করুন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পরে আমাদের ফিতনা বা পরীক্ষায় ফেলবেন না।”

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার সালাত আদায় করতেন তখন নিম্নোক্ত দো‘আ পড়তেন, যার অর্থ হলো, “হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত মুসলিমকে, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, উপস্থিত ও অনুপস্থিত নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামী শরী‘আত আকঁড়ে ধরার ওপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ মৃত্যুর মুসীবতের প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পরে আমাদের পথভ্রষ্ট করবেন না।”

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৪ একবার

اللهم إن فلان ابن فلان في ذمتك وحبل جِوَارِكَ، فَقِهِ فِتْنَةَ القبر، وعذاب النار، وأنت أهل الوفاء والحمد؛ اللهم فاغفر له وارحمه، إنك أنت الغفور الرحيم

অর্থ ও সূত্র

ওয়াসেলাহ ইবনুল আসকা‘ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে মুসলিমদের এক ব্যক্তির ওপর জানাযার সালাত পড়লেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: “হে আল্লাহ! অমুকের পুত্র অমুক আপনার দায়িত্বে ও আপনার প্রতিবেশিত্বের নিরাপত্তায়। অতএব, তাকে আাপনি কবরের পরীক্ষা ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি প্রতিশ্রুতি পালনকারী ও প্রশংসার পাত্র। হে আল্লাহ আপনি তাকে মাফ করুন ও তার প্রতি দয়া করুন। নিঃসন্দেহে আপনি মহাক্ষমাশীল অতি দয়াবান।”

এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

একজন মুসলিমের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত আদায় করেন। তারপর তিনি বলেন, যার অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার নিরাপত্তায়, হিফাযতে ও ক্ষমা ভিক্ষায়। অতএব, কবরের পরীক্ষার প্রশ্নের সময় তাকে অবিচল রাখুন এবং তাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। কারণ, আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। আপনি হকের অধিপতি। সুতরাং হে আল্লাহ আপনি তাকে মাফ করুন ও তার প্রতি দয়া করুন। নিঃসন্দেহে আপনি অধিক হারে গুনাহ ক্ষমাকারী এবং আনুগত্য কবুল করা ও নেক কাজ বহুগুণ বর্ধিত করার মাধ্যমে অধিক দয়াকারী।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৫ একবার

অর্থ ও সূত্র

সামুরা ইবন জুনদাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে এক মহিলার জানাযার সালাত আদায় করেছি যিনি নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি তার জানাযার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন”।

মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নারী হোক বা পুরুষ, ছোট হোক বা বড় হোক সকল মুসলিম মৃত ব্যক্তির ওপর জানাযার সালাত আদায় করা ওয়াজিব। সামুরা ইবন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে এক মহিলার জানাযার সালাত আদায় করেছেন যিনি নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি মাইয়্যেতের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৬ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সালাত আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকবে, তার জন্য এক কীরাত, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দু’ কীরাত। জিজ্ঞেস করা হল দু’ কীরাত কী? তিনি বললেন, দু’টি বিশাল পর্বত সমতুল্য (সাওয়াব)। মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: “এর ছোটটি হলো অহুদ পাহাড়ের সমান।”

মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)। মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি তাদের জন্য ক্ষমার কারণগুলো প্রস্তুত করে দিতে চান। এ কারণেই তিনি জানাযার সালাত ও তাতে উপস্থত হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন। কারণ, তা মৃতের জন্য সৃুপারিশ আর রহমতের কারণ হয়। তাই যে তার ওপর সালাত আদায় করে তার জন্য এক কীরাত আর যে দাফন করা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে তার জন্য আরও একটি কীরাত সাওয়াব নির্ধারণ করে। এ পরিমাণ সাওয়াব অবশ্যই মহান আর তার পরিমাণ আল্লাহরই নিকট জানা। সাহাবীগণের নিকট তার পরিমাণ অস্পষ্ট থাকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বুঝের কাছাকাছি নিয়ে এসে বলেন যে, প্রতিটি কীরাত মহান পাহাড়ের মতো। কারণ, তাতে রয়েছে একজন মুসলিম ভাইয়ের হক আদায় করা, তার জন্য দো‘আ করা, আখিরাতে স্মরণ, মৃত ব্যক্তির পরিবাবের প্রতি শান্তনা প্রভৃতি ফায়দা।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৭ একবার

অর্থ ও সূত্র

আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “জানাযাকে দ্রুত নিয়ে যাও, কেননা যদি সে নেককার হয় তবে তোমরা তাকে তার কল্যাণের দিকে দ্রুত পৌঁছে দিবে। আর যদি সে ভিন্ন কিছু হয় তবে তোমরা একটা অকল্যাণ তোমাদের ঘাড় (দায়িত্বভার) থেকে দ্রুত নামিয়ে দিলে।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত জানাজার প্রস্তুতি নিতে, জানাজার সালাত পড়তে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদি জানাজা ভালো হয়, তাহলে এটা ভালো যে তুমি তাকে কবরের নিআমতের কাছে এগিয়ে দিচ্ছ আর যদি তা ভিন্ন কিছু হয়, তাহলে এটা একটা মন্দ যা তোমরা তোমার ঘাড় থেকে সরিয়ে ফেলছো।

উপকারিতা

  • ইবনু হাজার বলেন: তাড়াহুড়ো করা মুস্তাহাব, কিন্তু এতটা নয় যে মৃত ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অথবা বহনকারী বা বিদায় দানকারীর পক্ষে এটি কঠিন হয়ে পড়ে।
  • দ্রুত করার জন্য শর্ত হল যেখানে মৃত্যু হঠাৎ না হয় যার ব্যাপারে আশঙ্কা করা হয় যে এটি কোমায় (বেহুশ) ছিল, সেখানে তাকে দাফন করা উচিত নয় যতক্ষণ না তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়, অথবা কোন ফায়দার কারণে সামান্য বিলম্বিত করা হয়, যেমন বেশি সংখ্যক লোক অথবা তার নিকট আত্মীয়দের উপস্থিতি এবং জানাযা কলুষিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে তখনও দ্রুত না করা।
  • মৃত ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তাহলে তার কল্যাণের জন্য অথবা যদি সে খারাপ হয়, তাহলে বিদায় দানকারীদের কল্যাণের জন্য জানাযা দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য উৎসাহিত করা।
  • আন-নওয়াবী বলেন: এ থেকে বোঝা যায় যে, অধার্মিকদের সঙ্গ এড়িয়ে চলা উচিত।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

৮ একবার

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

অর্থ ও সূত্র

আবু সাঈদ আল-খুদরী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা তোমাদের মুমূর্ষ ব্যক্তিদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর তালকীন দাও।”

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন মান: সহীহ

ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উৎসাহ দেন যে, যখন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘনিয়ে আসে, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে বারবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” উচ্চারণ করব, যেন সেটিই তার শেষ শব্দ হয়।

উপকারিতা

  • মৃত্যুমুখী ব্যক্তিকে তালকীন করা মুস্তাহাব।
  • মৃত্যুমুখী ব্যক্তির প্রতি তালকীন বারবার করানো বা অতিরিক্ত জোর দেয়া, বিশেষ করে যখন সে নিজেই তা বলছে বা বুঝছে, তা অপছন্দনীয়। কারণ এতে সে বিরক্ত হয়ে অবাঞ্ছিত কথা বলতে পারে।
  • আন-নববী বলেন: যখন মৃত্যুপ্রসন্ন ব্যক্তি একবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলে, তখন তার নিকট তা বারবার বলা হবে না, তবে যদি সে এরপর অন্য কোনো কথা বলে, তবে পুনরায় তালকীন করতে হবে, যাতে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” তার শেষ কথা হয়।
  • এই হাদীসে মৃত্যুপ্রসন্ন ব্যক্তির পাশে থাকার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে, যাতে তাকে স্মরণ করানো, সান্তনা দেওয়া, চোখ বন্ধ করানো এবং তার অধিকারসমূহ পূরণ করা যায়।
  • মৃত্যুর পর এবং দাফনের পরে কবরের কাছে তালকীন করানো বৈধ নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কাজ করেননি।

HadeethEnc.com-এ পড়ুন

প্রশ্ন

এই পাতায় কী আছে?

জানাজার নামাজ: প্রতিটি আরবিতে, এর অর্থ, উৎস হাদিস, মান ও ব্যাখ্যাসহ।

অনুবাদগুলো কোথা থেকে নেওয়া?

HadeethEnc.com থেকে, যা অনূদিত নববি হাদিস বিশ্বকোষ। প্রতিটি হাদিস তারা যেভাবে প্রকাশ করেছে ঠিক সেভাবেই, সূত্র ও মানসহ এবং মূলের লিংকসহ দেখানো হয়।

প্রতিদিন কি রিমাইন্ডার পেতে পারি?

হ্যাঁ। Android-এর জন্য বিনামূল্যের Qabas অ্যাপ প্রতিদিন আপনাকে সকাল ও সন্ধ্যার জিকির মনে করিয়ে দেয় এবং এতে একই কাউন্টার আছে।