মুসলিম হওয়া

3টির মধ্যে 3 নম্বর পাঠ

নতুন মুসলিম প্রথমে কী করবেন?

কুরআন থেকে

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ ﴿٢٨٦﴾

আল্লাহ্‌ কারও উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত । সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন ।’

আল-বাকারা 2:286কুরআনে পড়ুন

وَجَٰهِدُواْ فِي ٱللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِۦۚ هُوَ ٱجۡتَبَىٰكُمۡ وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمۡ إِبۡرَٰهِيمَۚ هُوَ سَمَّىٰكُمُ ٱلۡمُسۡلِمِينَ مِن قَبۡلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ ٱلرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيۡكُمۡ وَتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِۚ فَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱعۡتَصِمُواْ بِٱللَّهِ هُوَ مَوۡلَىٰكُمۡۖ فَنِعۡمَ ٱلۡمَوۡلَىٰ وَنِعۡمَ ٱلنَّصِيرُ ﴿٧٨﴾

আর জিহাদ কর আল্লাহ্‌র পথে যেভাবে জিহাদ করা উচিত । তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন । তিনি দীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি । তোমাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত । তিনি আগে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ এবং এ কিতাবেও ; যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হন এবং তোমরা সাক্ষীস্বরূপ হও মানুষের জন্য । কাজেই তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে অবলম্বন কর ; তিনিই তোমাদের অভিভাবক, তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক আর কতই না উত্তম সাহায্যকারী!

আল-হাজ্জ 22:78কুরআনে পড়ুন

সুন্নাহ থেকে

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন:‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন এক আমলের কথা বলে দিন, যার উপর আমল করলে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।’ তিনি বললেন, “আল্লাহরই ইবাদত করবে ও তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। সালাত কায়েম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে ও রমযানের সাওম পালন করবে।” সে বলল, ‘সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন , আমি এর চেয়ে বেশী করব না।’ তারপর যখন সে লোকটা ফিরে যাচ্ছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের কোন লোক দেখতে আগ্রহী, সে যেন এই লোকটিকে দেখে।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম সহীহ HadeethEnc.com
ব্যাখ্যা

এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এমন কিছু আমলের কথা জিজ্ঞেস করলেন, যা আমল করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তরে বললেন , জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়া ইসলামের রুকনসমূহ আদায়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করবে, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের উপর প্রতি দিন ও রাতে ফরয করেছেন। আল্লাহ তোমার উপর সম্পদের যে যাকাত ফরয করেছেন, সে যাকাত তার প্রাপ্য ব্যক্তিকে প্রদান করবে। রমযান মাসে যথাযথভাবে সাওম পালনের ব্যাপারে যত্নবান হবে। লোকটি বলল: সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন, আমি আপনার কাছ থেকে শোনা এ ফরয আমলের চেয়ে বেশি করব না আবার কমও করবো না। অতপর যখন সে লোকটা ফিরে যাচ্ছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের কোন লোক দেখতে আগ্রহী, সে যেন এই লোকটিকে দেখে।”

আনাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না, লোকদেরকে সুসংবাদ দাও, দূরে ঠেলে দিও না।”

সহীহ বুখারী ও মুসলিম সহীহ HadeethEnc.com
ব্যাখ্যা

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দীন ও দুনিয়ার সকল কাজে হালকা ও সহজ করতে আদেশ দিয়েছেন এবং কঠিন করতে নিষেধ করেছেন। আর এটি আল্লাহ যা ছাড় দিয়েছেন ও শরী‘য়ত সম্মত করেছেন তার সীমারেখায় থাকবে।

মানুষকে কল্যাণকর কাজের সুসংবাদ দেওয়া এবং তাদেরকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

সব পাঠ