11টির মধ্যে 7 নম্বর পাঠ
মুসলিমরা কেন শূকরের মাংস খান না এবং মদ পান করেন না?
সংক্ষেপে উত্তর
কারণ আল্লাহ কুরআনে এগুলো হারাম করেছেন, আর মুসলিমরা এই বিশ্বাসে তাঁর আনুগত্য করেন যে তাঁর নির্দেশ আমাদের কল্যাণের জন্যই। শূকরের মাংস, রক্ত, মৃত প্রাণী এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা মাংস হারাম, তবে ক্ষুধায় বাধ্য হয়ে অন্য কোনো উপায় না থাকলে কাউকে দোষ দেওয়া হয় না। মদ ও অন্য সব নেশাদ্রব্যও হারাম। কুরআন বলে, এগুলোর ক্ষতি উপকারের চেয়ে বেশি, এবং এগুলো বিদ্বেষ জাগায় এবং মানুষকে আল্লাহ ও নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
Qabas লিখেছে এবং মিলিয়ে দেখা হয়েছে: আল-মুখতাসার ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম, তাফসীর ইবনে কাসীর এবং HadeethEnc.com-এর ব্যাখ্যা।
কুরআন থেকে
إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحۡمَ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيۡرِ ٱللَّهِۖ فَمَنِ ٱضۡطُرَّ غَيۡرَ بَاغٖ وَلَا عَادٖ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٌ ﴿١٧٣﴾
তিনি আল্লাহ্ তো কেবল তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু , রক্ত , শূকরের গোশ্ত এবং যার উপর আল্লাহ্র নাম ছাড়া অন্যের নাম উচ্চারিত হয়েছে , কিন্তু যে নিরুপায় অথচ নাফরমান এবং সিমালঙ্ঘনকারী নয় তার কোনো পাপ হবে না । নিশচই আল্লাহ্ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আয়াতের ব্যাখ্যা
১৭৩. নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা প্রবাহিত রক্ত, শূকরের গোস্ত, এমন পশু-পাখি যা শরীয়তসম্মতভাবে জবাই করা ছাড়া এমনিতেই মারা গেছে এবং যে পশু আল্লাহ তা‘আলার নাম ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা হয়েছে তোমাদের উপর হারাম করেছেন। তবে কেউ তা খেতে একান্ত বাধ্য হলে তা ভিন্ন কথা। যদি সে প্রয়োজন ছাড়া না খেতে চায় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্তও না খায় তাহলে এতে তার কোন পাপ ও শাস্তি হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর তাওবাকারী বান্দাদেরকে ক্ষমাকারী ও তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল। আর তাঁর রহমতের একটি নমুনা হলো কেউ একান্ত বাধ্য হলে তাকে প্রয়োজন মাফিক শর্তসাপেক্ষে হারাম খাওয়ার সুযোগ দেয়া।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ﴿٩٠﴾ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَن يُوقِعَ بَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةَ وَٱلۡبَغۡضَآءَ فِي ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِ وَيَصُدَّكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَعَنِ ٱلصَّلَوٰةِۖ فَهَلۡ أَنتُم مُّنتَهُونَ ﴿٩١﴾
হে মুমিনগণ! মদ , জুয়া, পূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয় করার শর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা সেগুলোকে বর্জন কর –যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার । শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাঁধা দিতে। তবে কি তোমরা বিরত হবে না ?
আয়াতের ব্যাখ্যা
৯০. হে মু’মিনগণ! মস্তিষ্ক বিকৃতকারী মদ, উভয় পক্ষের বিনিময় সম্বলিত জুয়া, মুশরিকদের সম্মানিত পাথর যার নিকট তারা পশু জবাই করে অথবা তার ইবাদাতের জন্য স্থাপন করে এবং ভাগ্য নির্ধারণকারী তীর এ সবই শয়তানের প্রবঞ্চনা ও গুনাহের কাজ। তাই তোমরা তা থেকে দূরে থাকো। যাতে তোমরা দুনিয়ায় সম্মানজনক জীবন ও আখিরাতে জান্নাতের নিয়ামত পেয়ে কৃতকার্য হতে পারো।
৯১. মদ ও জুয়াকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শয়তান চায় অন্তরগুলোর মাঝে শত্রæতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে। উপরন্তু আল্লাহর যিকির ও সালাত থেকে ফিরিয়ে দিতে। হে মু’মিনরা! তাহলে তোমরা কি এ সকল অসৎ কাজ ছাড়বে? নিঃসন্দেহে এটি তোমাদের জন্য উপযুক্ত। তাই তোমরা তা থেকে বিরত থাকো।
۞ يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِۖ قُلۡ فِيهِمَآ إِثۡمٞ كَبِيرٞ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثۡمُهُمَآ أَكۡبَرُ مِن نَّفۡعِهِمَاۗ وَيَسۡـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَۖ قُلِ ٱلۡعَفۡوَۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُونَ ﴿٢١٩﴾
লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্জেস করে। বলুন, ‘দু’টোর মধ্যেই আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও ; আর এ দু’টোর পাপ উপকারের চেয়ে অনেক বড়’। আর তারা আপনাকে জিজ্জেস করে কি তারা ব্যায় করবে ? বলুন, যা উদ্বৃত্ত । এভাবে আল্লাহ্ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।
আয়াতের ব্যাখ্যা
২১৯. আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে মদপান এবং তা ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। মদ বলতে এমন সকল বস্তুকে বুঝানো হয় যা সেবনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মস্তিষ্কের উপর পর্দা পড়ে যায় এবং সে তার বোধশক্তি তাৎক্ষণিক হারিয়ে ফেলে। এমনিভাবে তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে জুয়া খেলার বিধান সম্পর্কে। জুয়া বলতে এমন সম্পদকে বুঝানো হয় যা পারস্পরিক প্রতিযোগায় চুক্তিমাফিক বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে সকল প্রতিযোগীর নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়। তাই আপনি তাদের উত্তরে বলুন: এ দু’টিতে ধর্মীয় ও বৈষয়িক অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক রয়েছে। যেমন: মেধা ও সম্পদ নষ্ট এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ ও শত্রæতা ইত্যাদি। অন্যদিকে তাতে মানুষের জন্য কিছু উপকারিতাও আছে। যেমন: দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল ও কিছু অর্থ উপার্জন। তবে এগুলোর ক্ষতি ও পাপ উপকারিতার চেয়ে অনেক বেশি। আর যে কাজে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তা করতে পারে না। মূলতঃ এ বর্ণনাটি মদপান হারাম করার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভ‚মিকা স্বরূপ বিবৃতি। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: হে নবী! আপনার সাথীরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কতটুকু সম্পদ সাধারণ সাদকা ও দান হিসেবে আল্লাহর পথে ব্যয় করা যায়? আপনি তাদের উত্তরে বলুন: তোমরা নিজেদের সম্পদ থেকে যা প্রয়োজনাতিরিক্ত তাই ব্যয় করবে। এটি ইসলামের শুরু যুগে ছিলো। পরবর্তীতে আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ বিশেষ সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমাণের ভিত্তিতে যাকাত ফরয করেন। এ সুস্পষ্ট বর্ণনার মতোই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য শরীয়তের অন্যান্য বিধি-বিধানগুলো বর্ণনা করে থাকেন। যাতে তোমরা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারো।
সুন্নাহ থেকে
ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী বস্তু খমর (মদ), প্রতিটি নেশা উদ্রেককারী বস্তু হারাম। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মদ পান করবে, এবং তাতে আসক্ত অবস্থায় তাওবা না করে মারা যাবে, সে আখিরাতে তা পান করতে পারবে না।”
ব্যাখ্যা
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, যা কিছু বিবেককে নষ্ট করে ফেলে এবং তা দূর করে দেয়, সেটাই হচ্ছে নেশাজাতীয় মদ, তা পান করা হোক, খাওয়া হোক, শ্বাস নেওয়া হোক বা অন্য কিছু হোক এবং যা দিয়ে নেশা করে এবং তা বিবেক দূরীভূত করে দেয়, সেগুলো মহান আল্লাহ হারাম করেছেন এবং তা থেকে নিষেধ করেছেন, হোক তা অল্প অথবা বেশী। আর যে কেউ এই নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করে এবং সেগুলি পান করতে থাকে এবং সে মারা না যাওয়া পর্যন্ত সেগুলি থেকে তওবাও করে না; তাহলে সে এভাবে আল্লাহর শাস্তির যোগ্য হবে যে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে তা পান করা থেকে বঞ্চিত করবেন।