وَٱلنَّجۡمِ إِذَا هَوَىٰ ١
শপথ নক্ষত্রের, যখন তা হয় অস্তমিত ১,
অনুবাদ: Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
وَٱلنَّجۡمِ إِذَا هَوَىٰ ١
শপথ নক্ষত্রের, যখন তা হয় অস্তমিত ১,
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمۡ وَمَا غَوَىٰ ٢
তোমাদের সঙ্গী ১ বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,
وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ ٣
আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না ১।
إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ ٤
তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরিত হয়,
عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ ٱلۡقُوَىٰ ٥
তাকে শিক্ষা দান করেছেন প্ৰচণ্ড শক্তিশালী ১,
ذُو مِرَّةٖ فَٱسۡتَوَىٰ ٦
وَهُوَ بِٱلۡأُفُقِ ٱلۡأَعۡلَىٰ ٧
আর তিনি ছিলেন ঊর্ধ্বদিগন্তে ১,
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ ٨
তারপর তিনি তার কাছাকাছি হলেন, অতঃপর খুব কাছাকাছি,
فَكَانَ قَابَ قَوۡسَيۡنِ أَوۡ أَدۡنَىٰ ٩
ফলে তাদের মধ্যে দু ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম ১।
فَأَوۡحَىٰٓ إِلَىٰ عَبۡدِهِۦ مَآ أَوۡحَىٰ ١٠
তখন আল্লাহ্ তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন ১
مَا كَذَبَ ٱلۡفُؤَادُ مَا رَأَىٰٓ ١١
যা তিনি দেখেছেন, তার অন্তঃকরণ তা মিথ্যা বলেনি ১;
أَفَتُمَٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ ١٢
তিনি যা দেখেছেন তোমরা কি সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে?
وَلَقَدۡ رَءَاهُ نَزۡلَةً أُخۡرَىٰ ١٣
আর অবশ্যই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন
عِندَ سِدۡرَةِ ٱلۡمُنتَهَىٰ ١٤
‘সিদরাতুল মুন্তাহা’ তথা প্রান্তবর্তী কুল গাছ এর কাছে ১,
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلۡمَأۡوَىٰٓ ١٥
যার কাছে জান্নাতুল মা’ওয়া ১ অবস্থিত।
إِذۡ يَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا يَغۡشَىٰ ١٦
যখন কুল গাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল ১,
مَا زَاغَ ٱلۡبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ ١٧
তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি ১।
لَقَدۡ رَأَىٰ مِنۡ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ ١٨
অবশ্যই তিনি তার রবের মহান নিদর্শনাবলীর কিছু দেখেছিলেন;
أَفَرَءَيۡتُمُ ٱللَّٰتَ وَٱلۡعُزَّىٰ ١٩
অতএব, তোমরা আমাকে জানাও ‘লাত’ ও ‘উযযা' সম্পর্কে
وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلۡأُخۡرَىٰٓ ٢٠
এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্পর্কে ১?
أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلۡأُنثَىٰ ٢١
তবে কি তোমাদের জন্য পুত্ৰ সন্তান এবং আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান?
تِلۡكَ إِذٗا قِسۡمَةٞ ضِيزَىٰٓ ٢٢
এ রকম বন্টন তো অসঙ্গত ১।
إِنۡ هِيَ إِلَّآ أَسۡمَآءٞ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٍۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهۡوَى ٱلۡأَنفُسُۖ وَلَقَدۡ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلۡهُدَىٰٓ ٢٣
এগুলো কিছু নাম মাত্র যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা রেখেছ, যার সমর্থনে আল্লাহ্ কোনো দলীলপ্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়াত এসেছে ১।
أَمۡ لِلۡإِنسَٰنِ مَا تَمَنَّىٰ ٢٤
মানুষ যা চায় তাই কি সে পায়?
فَلِلَّهِ ٱلۡأٓخِرَةُ وَٱلۡأُولَىٰ ٢٥
বস্তুতঃ আখেরাত ও দুনিয়া আল্লাহ্রই
۞ وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيۡـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ ٢٦
আর আসমানসমূহে বহু ফিরিশতা রয়েছে; তাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হবে না, তবে আল্লাহর অনুমতির পর, যার জন্য তিনি ইচ্ছে করেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِ لَيُسَمُّونَ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةَ تَسۡمِيَةَ ٱلۡأُنثَىٰ ٢٧
নিশ্চয় যারা আখিরাতের উপর ঈমান আনে না তারাই নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে ফিরিশতাদেরকে ১;
وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّۖ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغۡنِي مِنَ ٱلۡحَقِّ شَيۡـٔٗا ٢٨
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞানই নেই, তারা তো শুধু অনুমানেরই অনুসরণ করে; আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবিলায় কোনই কাজে আসে না ১।
فَأَعۡرِضۡ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكۡرِنَا وَلَمۡ يُرِدۡ إِلَّا ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا ٢٩
অতএব, আপনি তাকে উপেক্ষা করে চলুন যে আমাদের স্মরণ ১ থেকে বিমুখ হয় এবং কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে।
ذَٰلِكَ مَبۡلَغُهُم مِّنَ ٱلۡعِلۡمِۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِمَنِ ٱهۡتَدَىٰ ٣٠
এটাই তাদের জ্ঞানের শেষ সীমা। নিশ্চয় আপনার রব, তিনিই ভাল জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে হেদায়াতপ্ৰাপ্ত হয়েছে।
وَلِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ لِيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔواْ بِمَا عَمِلُواْ وَيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ أَحۡسَنُواْ بِٱلۡحُسۡنَى ٣١
আর আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে তা আল্লাহ্রই। যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল দিতে পারেন যারা মন্দ কাজ করে এবং তাদেরকে তিনি উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন যারা সৎকাজ করে,
ٱلَّذِينَ يَجۡتَنِبُونَ كَبَٰٓئِرَ ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡفَوَٰحِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَۚ إِنَّ رَبَّكَ وَٰسِعُ ٱلۡمَغۡفِرَةِۚ هُوَ أَعۡلَمُ بِكُمۡ إِذۡ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ وَإِذۡ أَنتُمۡ أَجِنَّةٞ فِي بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمۡۖ فَلَا تُزَكُّوٓاْ أَنفُسَكُمۡۖ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ ٣٢
যারা বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে, ছোটখাট অপরাধ ব্যতীত ১। নিশ্চয় আপনার রবের ক্ষমা অপরিসীম; তিনি তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত---যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলেন মাটি হতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। অতএব, তোমরা আত্মপ্ৰশংসা করো না, তিনিই সম্যক জানেন তার সম্পর্কে যে তাকওয়া অবলম্বন করেছে ২।
أَفَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي تَوَلَّىٰ ٣٣
আপনি কি দেখেছেন সে ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরিয়ে নেয়;
وَأَعۡطَىٰ قَلِيلٗا وَأَكۡدَىٰٓ ٣٤
এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করে দেয় ১?
أَعِندَهُۥ عِلۡمُ ٱلۡغَيۡبِ فَهُوَ يَرَىٰٓ ٣٥
তার কাছে কি গায়েবের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?
أَمۡ لَمۡ يُنَبَّأۡ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَىٰ ٣٦
নাকি তাকে জানানো হয়নি যা আছে মূসার সহীফায়,
وَإِبۡرَٰهِيمَ ٱلَّذِي وَفَّىٰٓ ٣٧
এবং ইবরাহীমের সহীফায় ১, যিনি পূর্ণ করেছিলেন (তার অঙ্গীকার) ২?
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٞ وِزۡرَ أُخۡرَىٰ ٣٨
তা এই যে ১, কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না,
وَأَن لَّيۡسَ لِلۡإِنسَٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ ٣٩
আর এই যে, মানুষ তাই পায় যা সে চেষ্টা করে ১,
وَأَنَّ سَعۡيَهُۥ سَوۡفَ يُرَىٰ ٤٠
আর এই যে, তার প্রচেষ্টার ফল শিঘ্রই দেখা যাবে---
ثُمَّ يُجۡزَىٰهُ ٱلۡجَزَآءَ ٱلۡأَوۡفَىٰ ٤١
তারপর তাকে দেয়া হবে পূর্ণ প্রতিদান,
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلۡمُنتَهَىٰ ٤٢
আর এই যে, সবার শেষ গন্তব্য তো আপনার রবের কাছে ১,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَضۡحَكَ وَأَبۡكَىٰ ٤٣
আর এই যে, তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান ১,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَمَاتَ وَأَحۡيَا ٤٤
আর এই যে, তিনিই মারেন এবং তিনিই বাঁচান,
وَأَنَّهُۥ خَلَقَ ٱلزَّوۡجَيۡنِ ٱلذَّكَرَ وَٱلۡأُنثَىٰ ٤٥
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল---পুরুষ ও নারী
مِن نُّطۡفَةٍ إِذَا تُمۡنَىٰ ٤٦
শুক্রবিন্দু হতে, যখন তা স্থলিত হয়,
وَأَنَّ عَلَيۡهِ ٱلنَّشۡأَةَ ٱلۡأُخۡرَىٰ ٤٧
আর এই যে, পুনরুত্থান ঘটানোর দায়িত্ব তাঁরই ১,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغۡنَىٰ وَأَقۡنَىٰ ٤٨
আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন এবং সম্পদ দান করেন ১,
وَأَنَّهُۥ هُوَ رَبُّ ٱلشِّعۡرَىٰ ٤٩
আর এই যে, তিনি শি’রা নক্ষত্রের রব ১।
وَأَنَّهُۥٓ أَهۡلَكَ عَادًا ٱلۡأُولَىٰ ٥٠
আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছিলেন,
وَثَمُودَاْ فَمَآ أَبۡقَىٰ ٥١
এবং সামূদ সম্প্রদায়কেও ১; অতঃপর কাউকেও তিনি বাকী রাখেননি ---
وَقَوۡمَ نُوحٖ مِّن قَبۡلُۖ إِنَّهُمۡ كَانُواْ هُمۡ أَظۡلَمَ وَأَطۡغَىٰ ٥٢
আর এদের আগে নূহের সম্প্রদায়কেও, নিশ্চয় তারা ছিল অত্যন্ত যালিম ও চরম অবাধ্য।
وَٱلۡمُؤۡتَفِكَةَ أَهۡوَىٰ ٥٣
আর তিনি উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করেছিলেন ১।
فَغَشَّىٰهَا مَا غَشَّىٰ ٥٤
অতঃপর সেটাকে আচ্ছন্ন করল যা আচ্ছন্ন করার ১!
فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ ٥٥
সুতরাং (হে মানুষ!) তুমি তোমার রবের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে ১?
هَٰذَا نَذِيرٞ مِّنَ ٱلنُّذُرِ ٱلۡأُولَىٰٓ ٥٦
এ নবীও ১ অতীতের সতর্ককারীদের মতই এক সতর্ককারী।
أَزِفَتِ ٱلۡأٓزِفَةُ ٥٧
কিয়ামত আসন্ন ১,
لَيۡسَ لَهَا مِن دُونِ ٱللَّهِ كَاشِفَةٌ ٥٨
আল্লাহ ছাড়া কেউই এটা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
أَفَمِنۡ هَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ تَعۡجَبُونَ ٥٩
তোমরা কি এ কথায় বিস্ময় বোধ করছ !
وَتَضۡحَكُونَ وَلَا تَبۡكُونَ ٦٠
আর হাসি-ঠাট্টা করছ ! এবং কাঁদছো না ১?
وَأَنتُمۡ سَٰمِدُونَ ٦١
আর তোমরা উদাসীন ১,
فَٱسۡجُدُواْۤ لِلَّهِۤ وَٱعۡبُدُواْ۩ ٦٢
অতএব আল্লাহকে সাজদা কর এবং তাঁর ‘ইবাদাত কর ১।
টীকার নম্বরে চাপলে আয়াতের পাতায় যাবে, সেখানে অনুবাদকের টীকা দেওয়া আছে।
সূরা আন-নাজম-এ 62টি আয়াত আছে। এটি কুরআনের 53 নম্বর সূরা।
সূরা আন-নাজম একটি মাক্কী সূরা।
সূরা আন-নাজম পারা 27-এ রয়েছে।
হ্যাঁ। এই পাতার উপরে চালু করুন চাপুন, অথবা যেকোনো আয়াত থেকে শুরু করুন। Qabas অ্যাপে অফলাইনে শোনার জন্য ডাউনলোডও করা যায়।