ذَٰلِكَ أَدۡنَىٰٓ أَن يَأۡتُواْ بِٱلشَّهَٰدَةِ عَلَىٰ وَجۡهِهَآ أَوۡ يَخَافُوٓاْ أَن تُرَدَّ أَيۡمَٰنُۢ بَعۡدَ أَيۡمَٰنِهِمۡۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱسۡمَعُواْۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ ١٠٨
এ পদ্ধতিই ১ বেশী নিকটর যে, তারা সাক্ষ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করবে অথবা তারা (মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীরা) ভয় করবে যে, তাদের (নিকটাত্নীয়দের) শপথের পর (পুর্বোক্ত) শপথ প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর তোমরা আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং শুন ২; আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হিদায়েত করেন না।
টীকা
১ অর্থাৎ সন্দেহের সময় সাক্ষীদেরকে সালাতের পরে শপথ করানো এবং তাদের মধ্যে শপথ ভঙ্গের সম্ভাবনা প্রাপ্ত হলে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করাটা হচ্ছে সঠিকভাবে সাক্ষ্য উপস্থাপনে লোকদের বাধ্য করার সবচেয়ে সুন্দর পদ্ধতি। হয় তারা আখেরাতের শাস্তির ভয়ে সঠিক সাক্ষ্য দিবে, না হয় দুনিয়ায় মৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়দের পাল্টা শপথের মাধ্যমে তাদের সাক্ষ্যের অগ্রহণযোগ্যতা প্রকাশিত হওয়ার মত অপমানের ভয়ে তারা সঠিক সাক্ষ্য প্রদানে উদ্বুদ্ধ হবে। [মুয়াসসার]
২ অর্থাৎ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করো না। তোমাদের মিথ্যা সাক্ষীর মাধ্যমে কোনো হারাম সম্পদ কুক্ষিগত করো না। আর তোমাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হচ্ছে তা ভালোভাবে শোন এবং সেটা অনুযায়ী আমল কর। [মুয়াসসার]
তাফসীর
১০৮. সাক্ষ্যের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হলে সালাতের পর সাক্ষীদ্বয়কে কসম করানো এবং মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাদের সাক্ষ্যকে প্রত্যাখ্যান করা শরীয়তসম্মতভাবে তাদের সাক্ষ্য প্রদানের খুবই নিকটবর্তী। তাহলে তারা সাক্ষ্য না বিকৃত করবে; না পরিবর্তন কিংবা আত্মসাৎ করবে। উপরন্তু তা এরও খুবই নিকটবর্তী যে, তারা এ ব্যাপারে অবশ্যই ভয় পাবে যে, তাদের কসমের পর ওয়ারিশরাও কসম করতে পারে। আর ওয়ারিশরা সাক্ষ্যের বিপরীত কসম করলে তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হবে। আর তোমরা সাক্ষ্য ও কসমের ব্যাপারে মিথ্যা ও আত্মসাৎ পরিত্যাগ করে আল্লাহকে ভয় করো। উপরন্তু তোমাদেরকে দেয়া আদেশ গ্রহণ করার নিয়তে শুনো। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসা লোকদেরকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দেন না।