مَّا ٱلۡمَسِيحُ ٱبۡنُ مَرۡيَمَ إِلَّا رَسُولٞ قَدۡ خَلَتۡ مِن قَبۡلِهِ ٱلرُّسُلُ وَأُمُّهُۥ صِدِّيقَةٞۖ كَانَا يَأۡكُلَانِ ٱلطَّعَامَۗ ٱنظُرۡ كَيۡفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ ٱلۡأٓيَٰتِ ثُمَّ ٱنظُرۡ أَنَّىٰ يُؤۡفَكُونَ ٧٥
মারইয়াম-তনয় মসীহ শুধু একজন রাসূল। তার আগে বহু রাসূল গত হয়েছেন ১ এবং তাঁর মা অত্যন্ত সত্য নিষ্ঠা ছিলেন। তারা দুজনেই খাওয়া-দাওয়া করতেন ২। দেখনু আমরা তাদের জন্য আয়াতগুলোকে কেমন বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করি; তারপরও দেখুন, তারা কিভাবে সত্যবিমুখ হয়!
টীকা
১ অর্থাৎ অন্যান্য নবী যেমন দুনিয়াতে আগমন করার পর কিছুদিন অবস্থান করে চলে গেছেন; কাজেই তিনি উপাস্য হতে পারেন না। তিনি অন্যান্য নবী-রাসূলদের মতই একজন মানুষ। একজন রাসূলের বেশী তো তিনি কিছু নন। তবে আল্লাহ তাকে বনী-ইসরাঈলদের জন্য নিদর্শন বানিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “তিনি তো কেবল আমারই এক বান্দা, যার উপর আমরা অনুগ্রহ করেছিলাম এবং তাকে বানিয়েছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্য দৃষ্টান্ত।” [সূরা আয যুখরুফ ৫৯] [ইবন কাসীর]
২ যে ব্যক্তি পানাহারের মুখাপেক্ষী সে পৃথিবীর সবকিছুরই মুখাপেক্ষী। মাটি, বাতাস, পানি, সূর্য এবং জীবজন্তু থেকে সে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। পরমুখাপেক্ষীতার এ দীর্ঘ পরম্পরার প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা মসীহ ও মারইয়ামের উপাস্যতা খণ্ডণকল্পে যুক্তির আকারে এরূপ বলতে পারি, মসীহ ও মারইয়াম পানাহারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র থেকে মুক্ত ছিলেন না। এ বিষয়টি চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা ও লোক পরম্পরা দ্বারা প্রমাণিত। আর যে পানাহার থেকে মুক্ত নয়, যে সত্তা মানব-মণ্ডলীর মত স্বীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে বস্তুজগতের মুখাপেক্ষী, সে কীভাবে আল্লাহ হতে পারে? এ শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট যুক্তিটি জ্ঞানী ও মূখ সবাই সমভাবে বুঝতে পারে। অর্থাৎ পানাহার করা উপাস্য হওয়ার পরিপন্থী। [বাগভী, ইবন কাসীর, সা’দী, আইসারুত তাফাসীর]
তাফসীর
৭৫. মূলতঃ মাসীহ ঈসা ইবনু মারইয়াম রাসূলদেরই একজন। অন্যদের মতো তাঁকেও মৃত্যু গ্রাস করবে। আর তাঁর মা মারইয়াম (আলাইহাস-সালাম) অধিক সত্যবাদিনী ও সত্যায়নকারিণী। তাঁরা উভয়েই প্রয়োজনে খাদ্য গ্রহণ করতেন। তাহলে তাঁরা কীভাবে ইলাহ হতে পারেন অথচ তাঁদের খাদ্যের প্রয়োজন রয়েছে?! তাই হে রাসূল! আপনি ভেবে দেখুন, আমি কীভাবে তাদের জন্য আয়াতগুলো সুস্পষ্ট করে দিচ্ছি। যা আল্লাহ তা‘আলার একক হওয়া এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দিকে উলূহিয়্যাত তথা ইবাদাতকে সম্পৃক্ত করায় বাড়াবাড়ি করা বাতিল হওয়া প্রমাণ করে। অথচ তারা এ আয়াতগুলো যেন চিনেই না। অতঃপর আপনি আবারো ভেবে দেখুন, তাদেরকে কীভাবে সত্য থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে অথচ এ সুস্পষ্ট আয়াতগুলো আল্লাহর একক হওয়াই প্রমাণ করে।