رَّبُّكُمۡ أَعۡلَمُ بِكُمۡۖ إِن يَشَأۡ يَرۡحَمۡكُمۡ أَوۡ إِن يَشَأۡ يُعَذِّبۡكُمۡۚ وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ وَكِيلٗا ٥٤
তোমাদের রব তোমাদের সম্পর্কে অধিক অবগত। ইচ্ছে করলে তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন অথবা ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন ১; আর আমরা আপনাকে তাদের কর্মবিধায়ক করে পাঠাইনি ২।
টীকা
১ অর্থাৎ হেদায়াতের বিষয়টি কারও হাতে নেই। এ বিষয়টির ফায়সালা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। তিনিই সকল মানুষের ভিতর-বাহির এবং বর্তমান-ভবিষ্যত জানেন। কার প্রতি অনুগ্রহ করতে হবে এবং তাকে তাঁর আনুগত্যের দিকে নিয়ে আসতে হবে এটা তিনিই ভাল জানেন। আর কে এ অনুগ্রহের হকদার নয় এটাও তিনি ভাল জানেন। [ইবন কাসীর]
২ অর্থাৎ তাদের উপর আপনাকে যাবরদস্তিকারী হিসেবে পাঠাইনি যে আপনি তাদেরকে জোর করে ঈমানদার বানিয়ে ছাড়বেন। তাদের জন্য আপনাকে ‘বাশীর’ বা সুসংবাদপ্রদানকারী এবং “নাযীর’ হিসেবেই পাঠিয়েছি। তারপর যদি কেউ আপনার আনুগত্য করে তবে সে জান্নাতে যাবে আর যদি অবাধ্য হয় তবে জাহান্নামে যাবে। [ইবন কাসীর] এ অর্থে কুরআনের অন্যান্য স্থানে বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। [যেমন, সূরা আল-আনআম ১০৭, আয-যুমার ৪১, আস-শূরা ৬, ক্বাফ ৪৫]
তাফসীর
৫৪. হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সম্পর্কে ভালোই জানেন। তোমাদের কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করবেন তথা তোমাদেরকে ঈমান ও নেক আমলের তাওফীক দিবেন। তিনি চাইলে তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন তথা তোমাদের ঈমান আনার ব্যাপারে তিনি সহযোগিতা করবেন না এবং তোমাদেরকে কুফরির উপর মৃত্যু দিবেন। হে রাসূল! আমি আপনাকে তাদের দায়িত্বশীল করে পাঠাইনি যে, আপনি তাদেরকে ঈমান আনতে বাধ্য করবেন, না তাদেরকে কুফরি করতে বাধা দিবেন, আর না তাদের কর্মকাÐের হিসাব রাখবেন। বরং আপনি কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাই প্রচার করবেন যা প্রচার করতে তিনি আপনাকে আদেশ করেছেন।