Kullu nafsin dha'iqatul-mawt

অনুবাদ: Bengali Translation - Abu Bakr Zakaria

كُلُّ نَفۡسٖ ذَآئِقَةُ ٱلۡمَوۡتِۗ وَإِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ أُجُورَكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۖ فَمَن زُحۡزِحَ عَنِ ٱلنَّارِ وَأُدۡخِلَ ٱلۡجَنَّةَ فَقَدۡ فَازَۗ وَمَا ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلۡغُرُورِ ١٨٥

জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেবল কেয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম ১। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছু নয় ২।

টীকা

১ পৃথিবীর এমন কোনো মানুষ নেই যে সফলতা চায় না। এ সফলতা একেকজন একেক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারণ করে। কেউ দুনিয়ার প্রচুর সম্পদ, নারী, গাড়ী-বাড়ী, ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ইত্যাদির মাধ্যমে নির্ধারণ করে। কেউ আবার সুস্বাস্থ্যকে নির্ধারণ করে। কেউ আবার অন্যকিছু। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মানুষের সফলতা কিসে তা আল্লাহ তা’আলা এ আয়াতে বলে দিয়েছেন। তিনি বলছেন যে, যাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে সেই সফলকাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে এক বেত পরিমান জায়গা দুনিয়া ও তাতে যা আছে তার থেকে উত্তম।” তারপর তিনি উক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন। [তিরমিযী ৩০১৩]

২ এ আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর আখেরাতে নিজের কৃতকর্মের প্রতিদান ও শাস্তি প্রাপ্ত হবে, যা কঠিনও হবে আবার দীর্ঘও হবে। সুতরাং বুদ্ধিমানের পক্ষে সে চিন্তা করাই উচিত। এ পরিপ্রেক্ষিতে সে লোকই সত্যিকার কৃতকার্য, যে জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি লাভ করবে এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট হবে। তা প্রাথমিক পর্যায় হোক- যেমন, সৎকর্মশীল আবেদগণের সাথে যেরূপ আচরণ করা হবে- অথবা কিছু শাস্তি ভোগের পরেই হোক- যেমন, পাপী মুসলিমদের অবস্থা। কিন্তু সমস্ত মুসলিমই শেষ পর্যন্ত জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি লাভ করে অনন্ত কালের জন্য জান্নাতের আরাম-আয়েশ ও সুখ-শান্তির অধিকারী হবে। পক্ষান্তরে কাফেরদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম। কাজেই তারা যদি সামান্য কয়েক দিনের পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে গর্বিত হয়ে ওঠে, তবে সেটা একান্তই ধোঁকা। সেজন্যই আয়াতে বলা হয়েছে “দুনিয়ার জীবন তো হলো ধোঁকার উপকরণ।” তার কারণ এই যে, সাধারণতঃ এখানকার ভোগ-বিলাসই হবে আখেরাতের কঠিন যন্ত্রণার কারণ। পক্ষান্তরে এখানকার দুঃখ-কষ্ট হবে আখেরাতের সঞ্চয়।

তাফসীর

১৮৫. প্রত্যেক প্রাণী সে যেই হোক না কেন তাকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে। তাই আল্লাহর কোন সৃষ্টি যেন এ দুনিয়ার ব্যাপারে কোন ধরনের ধোঁকায় না পড়ে। কিয়ামতের দিবসে তোমাদের প্রত্যেককে অবশ্যই তার আমলের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। তাতে কোন ধরনের ঘাটতি করা হবে না। অতএব, আল্লাহ তা‘আলা যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন সেই মূলতঃ আকাক্সিক্ষত কল্যাণের নাগাল এবং আশঙ্কিত অকল্যাণ থেকে মুক্তি পাবে। বস্তুতঃ দুনিয়ার জীবন হলো একটি নশ্বর ভোগের জীবন। তাই একমাত্র ধোঁকা খাওয়া ব্যক্তিই তার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে।

পুরো সূরা আলে ইমরান পড়ুন

প্রশ্নোত্তর

Kullu nafsin dha'iqatul-mawt কুরআনের কোথায় আছে?

Kullu nafsin dha'iqatul-mawt রয়েছে সূরা আলে ইমরান, 3:185-এ।