সূরা আত-তাওবা, আয়াত 2

9:2

فَسِيحُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ أَرۡبَعَةَ أَشۡهُرٖ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّكُمۡ غَيۡرُ مُعۡجِزِي ٱللَّهِ وَأَنَّ ٱللَّهَ مُخۡزِي ٱلۡكَٰفِرِينَ ٢

অতঃপর তোমরা যমীনে চারমাস সময় পরিভ্রমন কর ১ এবং জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহ্‌কে হীনবল করতে পারবে না। আর নিশ্চয় আল্লাহ্‌ কাফেরদেরকে আপদস্থকারী ২।

টীকা

১ এ চারমাস সময় কাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত থাকলেও সবচেয়ে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো, এ চারমাস সময় ঐ সমস্ত কাফেরদেরকে দেয়া হয়েছে যাদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো মেয়াদী চুক্তি ছিল না অথবা যাদের সাথে চারমাসের কম চুক্তি ছিল, কিন্তু যাদের সাথে মেয়াদী চুক্তি ছিল আর তারা সে চুক্তি বিরোধী কোনো কাজ করে নি, তাদেরকে তাদের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করতে দেয়া হয়েছিল। সে অনুসারে এ মেয়াদপূর্তির পর তাদের সাথে আর কোনো নতুন চুক্তি করা হয়নি। [সা'দী]

২ এখানে বলা হচ্ছে যে, যদিও তাদেরকে চারমাসের সময় দেয়া হয়েছে, তাতে তাদেরকে শুধু আল্লাহর দীন বোঝা ও জানার জন্য সে সময়টুকু দেয়া হচ্ছে। যদি তারা এ সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারে এবং ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে তারা যেন ভালো করেই জেনে নেয় যে, যমীনের কোথাও পালিয়ে থাকলেও আল্লাহর হাত থেকে তাদের নিস্তার নেই। [সা'দী]

তাফসীর

২. হে মুশরিকরা! তোমরা চার মাস পর্যন্ত এ জমিনে নিরাপদে ঘুরতে পারো। এরপর তোমাদের সাথে কোন চুক্তি বা নিরাপত্তা বহাল থাকবে না। তোমরা এ কথার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখো যে, তোমরা কুফরির উপর অটল থাকলে নিশ্চয়ই আল্লাহর আযাব ও শাস্তি থেকে কখনো পালিয়ে যেতে পারবে না। তোমরা এ কথার প্রতিও দৃঢ় বিশ্বাস রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা এ দুনিয়াতে বন্দী ও হত্যা এবং কিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশের মাধ্যমে কাফিরদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। উক্ত ঘোষণাটি ওদেরকে শামিল করবে যারা নিজেদের চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং ওদেরকেও যাদের সাথে অনির্ধারিত সময়ের চুক্তি হয়েছে। তবে যাদের সাথে নির্ধারিত সময়ের চুক্তি হয়েছে যদিও তা চার মাসের বেশি হোক না কেন তার চুক্তিটি সে সময় পর্যন্ত পূর্ণ করা হবে।