সূরা আল-বাকারা, আয়াত 14

2:14

وَإِذَا لَقُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قَالُوٓاْ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوۡاْ إِلَىٰ شَيَٰطِينِهِمۡ قَالُوٓاْ إِنَّا مَعَكُمۡ إِنَّمَا نَحۡنُ مُسۡتَهۡزِءُونَ ١٤

আর যখন তারা মুমিনদের সাথে সাক্ষাত করে, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি‘১, আর যখন তারা একান্তে তাদের শয়তানদের ২ সাথে একত্রিত হয়, তখন বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে আছি। আমরা তো কেবল উপহাসকারী।’

টীকা

১ এ আয়াতে মুনাফেকদের কপটতা ও দ্বিমুখী নীতির বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা যখন মুসলিমদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা মুসলিম হয়েছি ঈমান এনেছি। আর যখন তাদের দলের মুনাফিক কিংবা কাফের-মুশরিক ও আহলে কিতাব অথবা তাদের নেতৃস্থানীয় লোকদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথেই রয়েছি, মুসলিমদের সাথে উপহাস করার উদ্দেশ্যে এবং তাদেরকে বোকা বানাবার জন্য মিশেছি। [ইবন কাসীর]

২ আরবী ভাষায় সীমালংঘনকারী, দাম্ভিক ও স্বৈরাচারীকে শয়তান বলা হয়। মানুষ ও জিন উভয়ের জন্য এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কুরআনের অধিকাংশ জায়গায় এ শব্দটি জিনদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলেও কোনো কোনো জায়গায় আবার শয়তান প্রকৃতির মানুষদের জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে শয়তান শব্দটিকে বহুবচনে ‘শায়াতীন’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখানে শায়াতীন বলতে মুশরিকদের বড় বড় সর্দারদেরকে বুঝানো হয়েছে। এ সর্দাররা তখন ইসলামের বিরোধিতার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছিল।

তাফসীর

১৪. তারা মু’মিনদের সাথে মিলিত হলে বলে: তোমরা যে ব্যাপারে ঈমান এনেছো আমরাও সেটাকে বিশ্বাস করি। বস্তুতঃ তারা উক্ত কথাটি মু’মিনদের ভয়েই বলে থাকে। কারণ, তারা মু’মিনদের থেকে পৃথক হয়ে নেতৃস্থানীয়দের সাথে একান্তে মিলিত হলে তারা ওদের অনুসরণের ক্ষেত্রে অবিচল থাকার কথা নিশ্চিত করে বলে: আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি এবং তোমাদের মত ও পথেরই অনুসারী। তবে আমরা মু’মিনদের সাথে ঠাট্টাচ্ছলে প্রকাশ্যে একাত্মতা ঘোষণা করছি মাত্র।