وَدَّ كَثِيرٞ مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ لَوۡ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعۡدِ إِيمَٰنِكُمۡ كُفَّارًا حَسَدٗا مِّنۡ عِندِ أَنفُسِهِم مِّنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلۡحَقُّۖ فَٱعۡفُواْ وَٱصۡفَحُواْ حَتَّىٰ يَأۡتِيَ ٱللَّهُ بِأَمۡرِهِۦٓۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ ١٠٩
কিতাবীদের অনেকেই চায়, যদি তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর কাফিররূপে ফিরিয়ে নিতে পারত! সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে বিদ্বেষবশতঃ (তারা এটা করে থাকে)। অতএব, তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ্ তার কোনো নির্দেশ দেন ১ - নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
টীকা
১ তখনকার অবস্থানুযায়ী ক্ষমার নির্দেশই ছিল বিধেয়। পরবর্তীকালে আল্লাহ্ স্বীয় প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন এবং জিহাদের আয়াতসমূহ নাযিল করেন। অতঃপর ইয়াহুদীদের প্রতিও আইন বলবৎ করা হয় এবং অপরাধের ক্রমানুপাতে দুষ্টদের হত্যা, নির্বাসন, জিযিয়া আরোপ ইত্যাদি শাস্তি দেয়া হয়। সূরা আত-তাওবাহ-এর ৫ ও ২৯ নং আয়াতের মাধ্যমে এ আয়াতের এ ক্ষমার বিধান রহিত করা হয়। [তাবারী]
তাফসীর
১০৯. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনেকেই হিংসাবশতঃ এ আশা করে যে, যেন তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কুফরির দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে। যেমন তোমরা ইতিপূর্বে মূর্তিপূজা করেছিলে। তারা এটি আশা করছে; অথচ তারা এ কথা সুস্পষ্টভাবে জানে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা নিশ্চিত সত্য। অতএব, হে মু’মিনরা! তোমরা তাদের এ কর্মকাÐকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে যাও এবং তাদের এ মূর্খতা ও নিকৃষ্ট চিন্তার প্রতি সামান্যও ভ্রƒক্ষেপ করো না যতক্ষণ না তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা নেমে আসে। যাহোক, তাদের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আল্লাহর বিধান নেমে এসেছে। আল্লাহর এ আদেশ ও ফায়সালা আসার পর একজন কাফিরকে এখতিয়ার দেয়া হয়েছে যে, সে ইসলাম গ্রহণ করবে, না হয় জিযয়াহ কর দিবে, আর না হয় তার সাথে যুদ্ধ চলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর উপর ক্ষমতাশীল। তাদের কেউ তাঁকে পরাজিত করতে পারে না।